রাজধানীতে সিএনজিচালিত অটোরিকশার ভাড়া নিয়ে নৈরাজ্য চলছে। কিছুতেই শৃঙ্খলায় আনা যাচ্ছে না এই পরবিহন সেবাকে। মিটার দিয়ে সিএনজি চলাচলের নিয়ম থাকলেও কোনো চালকই মিটারে চলতে চায় না। ফলে যাত্রীরাও মিটারের কথা ভুলে গেছেন। এ সুযোগে সিএনজিচালিত অটোররিকশার মিটার যেন উধাও।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিআরটিএ থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশার মিটারের ভাড়া নির্ধারণ করে দেওয়া হলেও কোনো সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালক মিটারে যেতে চান না। মিটারের থেকে ৩-৪ গুন বেশি ভাড়ায় যেতে বাধ্য হন যাত্রীরা।
অন্য দিকে অটোরিকশা চালকরা বলছেন, বিআরটিএ ২০১৫ সাল থেকে অটোরিকশা মালিকদের ৯০০ টাকা করে জমা নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছিল। কিন্তু সিএনজিচালিত অটোরিকশা মালিকরা ৯০০ টাকার বদলে ১৩০০-১৮০০ টাকা ভাড়া নেন অটোরিকশা প্রতি।
বংশাল থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় যেতে চাওয়া যাত্রী মো. তুষার দেশ রূপান্তরকে বলেন, পান্থপথ যাওয়ার জন্য অনেক সময় ধরে অপেক্ষা করছি। কিন্তু কোনো বাস পাচ্ছি না। সিএনজিতে যেতে চাইলেও তারা ইচ্ছে মতো ভাড়া চান। এই দূরত্বের ভাড়া ৩০০-৪০০ টাকা দাবি করছে। কি আর করবো হাতে কিছু মালামাল আছে তাই বাধ্য হয়ে বেশি ভাড়ায় যেতে হবে।
গুলিস্তান থেকে গুলশানে যাওয়া আরেক যাত্রী বলেন, এই সিএনজির (অটোরিকশা) ভাড়া নৈরাজ্য কেউ থামাতে পারছে না। যাত্রীদের জিম্মি করে তারা ইচ্ছেমতো ভাড়া আদায় করে। আর সিএনজি (অটোরিকশা) চালকরা মিটারে যেতে চান না। সরকারি সংস্থা গুলোর কারও কোনো নজর নেই। যার জন্য দিনের পর দিন এই ভাড়া নিয়ে নৈরাজ্য চলছে।
এদিকে ইদ্রিস মিয়া নামের এক চালক দেশ রূপান্তরকে বলেন, মালকিরা বিআরটিএ নির্ধারিত ভাড়ায় সিএনজির জমার টাকা রাখে না। ৯০০ টাকা জমার কথা থাকলেও ১৩০০-১৮০০ টাকা দিতে হয়। আর রাস্তায় চলাচলের সময় অনেক খরচ থাকে। সেগুলোর জন্য আমরা মিটারে চলতে পারি না।
আরেক চালক মো. সালাম বলেন, যদি মিটারে চালানো হয় তাহলে আমাদের পরিবার নিয়ে না খেয়ে থাকতে হবে। কারণ রাস্তার খরচ, তেল ও জমার টাকা দিয়ে আগের মতো টাকা থাকে না। তাছাড়া এখন মেট্রারেল চালু হওয়ায় আমাদের আগের মতো আয় নেই। আগে মতিঝিল থেকে মিরপুর অনেক যাত্রী ছিল। সেই যাত্রীরা এখন মেট্রোরেলে চলে যায়।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক লীগ সভাপতি মো. হানিফ খোকন বলেন, একজন চালককে সরকারের নির্ধারিত টাকার বেশি ভাড়া জমা দিতে হয় সিএনজি মালিকদের। সেগুলোও কমানো দরকার। আর সিএনজি যে ভাড়া সরকার নির্ধারণ করে দিয়োছিল সেগুলো অনেক বছর আগে। এখন বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে নতুন করে চালকরাও যেন ভালো ভাবে তাদের জীবন চালাতে পারে সেইভাবে ভাড়া নির্ধারণ করা দরকার মিটারে।
বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, সড়কে যেসব ভাড়া নির্ধারণ করা হয় সেগুলো যাত্রী বান্ধব হয় না। মালিক বান্ধব ভাড়ায় বেশি চলে। যার জন্য সিএনজিতে (অটোরিকশা) ইচ্ছে মতো ভাড়া আদায় করা হয় যাত্রীদের কাছে। তাই সরকারের উচিত সিএনজি (অটোরিকশা) যেন মিটারে চলে সে বিষয়গুলো কঠোরভাবে মনিটারিং করা।