থামানোই যাচ্ছে না রাকিব হোসেনকে। একের পর এক ম্যাচে গোল করেই যাচ্ছেন। আজ শুক্রবার বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের প্রথম লেগের শেষ ম্যাচে তার গোলে শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্রের বিপক্ষে হার এড়িয়েছে দশজনের বসুন্ধরা কিংস। ম্যাচটা শেষ হয়েছে ১-১ ড্রয়ে।
ঘরের মাঠে আরেকবার পয়েন্ট হারালেও খুব বেশি ক্ষতি বৃদ্ধি হয়নি শীর্ষে থাকা কিংসের। ২২ পয়েন্ট নিয়ে প্রথম লেগ শেষ করলো টানা চারবারের শিরোপাধারীরা। নিকটে থাকা মোহামেডানের চেয়ে তারা এগিয়ে আছে পাঁচ পয়েন্টে। চতুর্থ ড্রয়ে ১০ পয়েন্ট নিয়ে শেখ রাসেল আছে লিগ টেবিলের পাঁচে।
কিংসের এই মাঠটা শেখ রাসেলেরও হোম ভেন্যু। একই শিল্পগোষ্ঠীর অর্থায়নে পরিচালিত হওয়া দুই দলের লড়াই। তাই বলে ম্যাচে প্রতিদ্বন্দ্বিতা কমেনি কোন অংশে। শক্তিতে বহুগুণ এগিয়ে থাকা কিংসকে এক ইঞ্চিও ছাড় দেয়নি রাসেল। প্রথমার্ধে গোল না হলেও দু'দলই চেষ্টা চালিয়েছে সমান্তালে। রক্ষণ ঠিক রেখে রাসেল চেয়েছে প্রতি-আক্রমণ নির্ভর ফুটবল খেলতে।
অন্যদিকে কিংস প্রথম লেগ জয়ে শেষ করতে খেলেছে সহযাত আক্রমনাত্মক ফুটবল। তবে রাসেলকে বারবার বিপদের হাত থেকে রক্ষা করেছেন গোলকিপার মিতুল মারমা। পুরো ম্যাচ জুড়ে তার একেকটা সেভ হতাশ করেছে কিংসকে। ম্যাচের ১৫ মিনিটে বক্সের ভেতর থেকে ব্রাজিলিয়ান ডরিয়েলটন গোমেজের জোড়ালো শট ফিরিয়ে দেন মিতুল।
২৬ মিনিটে প্রতি-আক্রমণ থেকে ভালো সুযোগ তৈরী করেছিল কিংস। মিগেল ফিগেইরার বাড়ানো বল বক্সে পেয়ে রাকিব শট নিয়েছিলেন, যা পোস্টের খানিকটা উপর দিয়ে যায়। ম্যাচের ৪২ মিনিটে দশজনের দলে পরিণত হয় স্বাগতিক কিংস। ডরিয়েলটনকে সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয়। রবসন রবিনহোর কর্নারে হেড করতে গিয়েছিলেন ডরিয়েলটন। তাকে মার্ক করচিলেন গানিউ আতান্দা। তার কারণে হেড করতে না পেরে পরে যান ডরিয়েলটন। উঠে দাঁড়িয়ে পেছনে থাকা আতান্দাকে মাথা দিয়ে আঘাত করে বসেন এই ব্রাজিলিয়ান। এ নিয়ে মাঠ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
রেফারি ভুবন মোহন তরফদার সহকারী রেফারিদের সঙ্গে কথা বলে ডরিয়েলটনকে সরাসরি লালকার্ড দেখিয়ে মাঠ ছাড়া করেন। এর খানিক বাদে জাপানিজ কোডাই লিডার পাসে সুমন রেজার জোড়ালো শট পোস্ট ঘেসে বাইরে যায়। প্রথমার্ধের শেষ দিকে রবিনহোর ফ্রি-কিক সাইডবারে লেগে ফিরে আসে।
কিংসের দুর্বলতার সুযোগটা রাসেল নেয় বিরতি থেকে ফিরেই। ৪৬ মিনিটে মাঝ মাঠ থেকে বল নিয়ে এগিয়ে যান সুমন রেজা। বক্সের সামনে থেকে তার পাস খুঁজে পায় কোডাই লিডাকে। এই জাপানিজের নিঁখুত ফিনিশিং রুখতে পারেননি মেহেদী হাসান শ্রাবনের জায়গায় খেলতে নামা কিংস কিপার আনিসুর রহমান জিকো।
পিছিয়ে পড়া কিংস অবশ্য আক্রমণের ধার বাড়ায়। যার ফলটা তারা পেয়েছে ৬৭ মিনিটে। বক্সের বাইরে থেকে মিগেলের শট মিতুল ঝাঁপিয়ে ফেরালেও ফিরতি বল আলতো টোকায় জালে জড়ান উত্তুঙ্গু ফর্মে থাকা রাকিব। এটি ছিল লিগে রাকিবের ষষ্ঠ গোল। রাকিব লিগ শুরু করেছিলেন টানা তিন ম্যাচে গোল করে। মাঝে তিন ম্যাচ বাদ দিয়ে প্রথমপর্ব শেষ করলেন টানা তিন ম্যাচে গোল করে। তার স্বস্থি ফেরানো গোলের পর শেখ রাসেলের খেলা খানিকটা এলমেলো হয়ে যায়।
সুযোগে আক্রমেন চাপ বাড়িয়ে কিংস চেয়েছে জয় পেতে। তবে ৮২ মিনিটে মিতুলের আরেকটি সেভ রাসেলকে ম্যাচে রাখে। রবিনহোর বাঁকানো শট মিতুলের গ্লাভস ফসকালে কাছ থেকে রাকিব চেয়েছিলেন গোল করতে। তবে রাকিবকে এবার আর গোল করতে দেননি মিতুল।
লিগ পুনরুদ্ধারের সুবর্ণ সুযোগ নষ্ট করেন শেখ রাসেলের ফরোয়ার্ড সেলেমানি ল্যান্ড্রি। বুরুন্ডির এই ফুটবলার প্রতি আক্রমণ থেকে বল পেয়ে দ্রুত আক্রমনে উঠে কিংস কিপার জিকোকে একা পেয়ে গিয়েছিলেন। তবে অবিশ্বাস্যভাবে তার শট চলে যায় পোস্টের উপর দিয়ে। তাতে ঘরের মাঠে আরেকটি হারের হতাশা থেকে মুক্তি পেয়েছে কিংস।