গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঁচটি অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও চলে না একটিও। অচল থাকায় সাড়ে তিন বছর ধরে এইসব সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের কোনো সুবিধা পাচ্ছেন না রোগীরা। জরুরি ভিত্তিতে রোগীকে ঢাকা বা ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিতে চরম ভোগন্তিতে পড়তে হয় রোগীর স্বজনদের। তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এই দুর্ভোগ দীর্ঘদিন থেকে চললেও কোনো সুরাহা হচ্ছেই না।
তবে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকতা বলছেন, চালক না থাকার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার জানানো হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
সরেজমিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ঘুরে দেখা যায়, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পুরাতন ভবনের পেছনে চারটি অ্যাম্বুলেন্স খোলা আকাশের নিচে পড়ে আছে। এর দুটি জং ধরে পুরাপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। মাটিতে ধসে গেছে। এ দিকে একই ভবনের পেছনে হাসপাতালের প্রধান সেন্টাল অক্সিজেন সেন্টারের পাশে আরও দুটি অ্যাম্বুলেন্স অকেজো হয়ে পড়ে আছে। তবে এ দুটি সচল করা সম্ভব হলেও কেউ সচল করছে না। দীর্ঘদিন রক্ষণাবেক্ষণ না করায় এ দুটি বিকল হয়ে পড়ে আছে। চারটি অ্যাম্বুলেন্সের পাশেই একটি নতুন বিল্ডিং ভবনের ভেতরে তালাবদ্ধ হয়ে পড়ে আছে সচল নতুন একটি অ্যাম্বুলেন্স। তবে এটিও নিয়মিত ব্যবহার না করায় বিকল হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কোনো গ্যারেজ ব্যবস্থা না থাকায় অযত্নে অবহেলায় পাঁচটি অ্যাম্বুলেন্সই পড়ে আছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এ হাসপাতালটি ২৫ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়েছে। এখন নিয়মিত এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিদিন গড়ে এক হাজার থেকে ১২০০ রোগী সেবা নিয়ে থাকেন। কখনো কখনো ২ হাজার ছাড়িয়ে যায়। এদের মধ্যে বহু জটিল রোগে আক্রান্ত রোগীকে অন্যত্র রেফার করা হয়। তারা সবাই সরকারি অ্যাম্বুলেন্স না পেয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সে ময়মনসিংহ অথবা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগী নিয়ে যান।
ভুক্তভোগী রোগী ও স্বজনর বলেন, দীর্ঘদিন ধরে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঁচটি সরকারি অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহারহীন হয়ে পড়ে আছে। কিন্তু কর্তৃপক্ষের কোনো মাথা ব্যাথা নাই। অনেক রোগী অতিরিক্ত টাকা দিয়ে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা বা ময়মনসিংহ হাসপাতালে যায়। এইসব অ্যাম্বুলেন্স ঠিক হয়ে গেলে গরীব রোগীরা সুফল পাবে।
বেসরকারি আ্যম্বুলেন্স চালক আনসার আলী দেশ রূপান্তরকে বলেন, হাসপাতালের সামনেই ব্যক্তিগত অ্যাম্বুলেন্স ও প্রাইভেটকার স্ট্যান্ড রয়েছে। সরকারি অ্যাস্বুলেন্স না পেয়ে রোগী ও স্বজনরা সহজে এখান থেকে গাড়ি ভাড়া করে নিতে পারে। তিনি বলেন এখন গ্যাস খরচ বাড়ায় ঢাকায় যেতে পাঁচ হাজার ময়মসিংহ যেতে সাড়ে চার হাজার টাকা ভাড়া লাগে।
শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকতা ডা. প্রণয় ভুষণ দাস দেশ রূপান্তরকে বলেন, অ্যাম্বুলেন্সগুলো অনেকদিন ধরেই নষ্ট। এর মধ্যে চারটি সম্পূর্ণ বিকল হয়ে খোলা আকাশের নিচে পড়ে আছে। যার মধ্যে দুটি একেবারেই ব্যবহার অযোগ্য।
তিনি বলেন, একটি সচল অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও চালক নেই সাড়ে তিন বছর ধরে। সেটি সচল রাখতে মাঝে মধ্যে আমার নিজস্ব চালক দিয়ে রোগী পাঠিয়ে অ্যাম্বুলেন্স সচল রাখার চেষ্টা করছি।
গাজীপুর জেলা সিভিল সার্জন ডা. খায়রুজ্জাম আহম্মেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, এ বিষয়ে আমরাও ডিজি অফিসে কথা বলেছি। চালক সংকট সারা দেশেই আছে। আমাদের জেলাতেই তিনটি উপজেলা হাসপাতালে চালক নাই। কখনো কখনো প্রয়োজনে বিকল্প পদ্ধতিতে অ্যাম্বুলেন্স চালানো হয়। তিনি বলেন এ বছরই বেশ কিছু চালক নিয়োগ দেওয়া হবে।