'যারা পেঁয়াজ পচিয়ে পানিতে ফেলে দিচ্ছে। তাদের গণধোলাই দেওয়া উচিত।' প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, জনগণকে আইন হাতে তুলে নিতে প্ররোচিত করেছেন সরকারপ্রধান।
আজ শনিবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, নিজের ব্যর্থতা আড়াল করতে পারবেন না। আপনার (প্রধানমন্ত্রী) বক্তব্য ফৌজদারি অপরাধের সমতুল্য। অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেবে পুলিশ, জনগণ নয়। কিন্তু ভোট চুরির কাজে পুলিশকে ব্যবহার করে এই পুলিশের ওপর আপনি কমান্ড করার নৈতিক ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছেন। এখন গণধোলাইয়ের ভয় দেখিয়ে সারাদেশে নিরীহ ব্যবসায়ীদের ওপর নির্যাতন আর চাঁদাবাজি শুরু করবে আওয়ামী লীগ।
তিনি বলেন, পূর্বনির্ধারিত ফলাফলের নির্বাচনী প্রহসনের মাধ্যমে একদলীয় রাজ্যাভিষেকের পর নতুন করে দেশের নিত্যপণ্যের বাজার, জ্বালানি, ব্যাংক, অর্থনীতি, আইন-আদালত, শাসন-প্রশাসন, বিচার-আচার, টাকা-পয়সা, ব্যবসা-বাণিজ্য—সর্বত্রই চলছে বেপরোয়া অরাজকতা ও নিয়ন্ত্রণহীন বিশৃঙ্খলা। এরা বিশ্বাস করে অশান্তি, হিংসা আর হানাহানি। খুন-খারাবি, নারী-শিশু নির্যাতন, অপহরণ, গুপ্তহত্যা ইত্যাদি অনাচারে মানুষের দিন কাটছে ঘনতমসাবৃত অবস্থায়। দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া দেশের জনগণ প্রতিদিন রাজনৈতিক ও নৈতিক বৈধতাহীন ডামি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তাদের মন্ত্রী-নেতাদের নির্জলা নগদ মিথ্যা কথাবার্তা, হিংস্র, উদ্ভট, বেসামাল, প্রতারণামুলক বয়ান শুনতে শুনতে নিজেরাই অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে।
বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, জনগণের দুঃখ-দুর্দশা, গণতান্ত্রিক রাজনীতি উচ্ছন্নে দিয়ে জনবিচ্ছিন্ন শেখ হাসিনা জোড়াতালি দিয়ে শুধু ক্ষমতার মসনদ টিকিয়ে রাখতেই ব্যস্ত। গণতন্ত্রের প্রতি এক ধরনের ক্রোধ থেকেই শেখ হাসিনার মনে প্রত্যহ জন্ম নেয় প্রতিহিংসা। তাই সাধারণ মানুষের প্রতি তাদের তাচ্ছিল্য ও অবজ্ঞার কোনো কমতি নেই। সরকার আর মুনাফাখোর বাজার সিন্ডিকেট এখন একাকার। এদের অশুভ আঁতাত দেশের মানুষকে নিঃস্ব করে ফেলছে। আওয়ামী লীগের লুটেরা সিন্ডিকেট রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ছত্রছায়ায় এখন বাজারের ওপর নিরঙ্কুশ নিয়ন্ত্রণ ও কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেছে। প্রতিদিন মানুষের পকেট থেকে এরা শত শত কোটি টাকা বাড়তি হাতিয়ে নিচ্ছে। মানুষের এখন জান বাঁচানো দায়। ডামি সরকার লোক দেখানো হাঁকডাক দিলেও বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি। বাজারের নিয়ন্ত্রকরাই এখন সরকারকে নিয়ন্ত্রণ করছে।
তিনি বলেন, প্রতিটি পণ্যের দাম যেভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে, এ অবস্থায় নিম্ন আয়ের শুধু নয়, মধ্যবিত্তরাও চরমতমভাবে অসহায় হয়ে পড়েছেন। চাল, ডাল, তেল, পেঁয়াজ, রসুনসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে পারছে না মানুষ। আর সিন্ডিকেট সরকার উদ্ভট কথাবার্তা বলে জনগণকে বিভ্রান্ত করছে। সম্পূর্ণভাবে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ সরকার এখন দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির দায়ও চাপাচ্ছে বিএনপির ওপর। গতকাল গণভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা বলেছেন, 'দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধিতে সরকার উৎখাতে আন্দোলনকারীদের তাদেরও কিছু কারসাজি আছে।' উনার এ ধরনের কথা বলার অর্থ তার স্বেচ্ছাতন্ত্র পচে গলে বিকৃত হয়ে গেছে। এসমস্ত বক্তব্য বিকারগ্রস্ত মনেরই বহিঃপ্রকাশ। এ কারণে হাস্যকর মিথ্যাচার করছেন। তিনি স্বীকার করে নিয়েছেন দ্রব্যমূল্য বেড়েছে সীমাহীন।
'নিজেদের ব্যর্থতা, লুটপাট-চুরি করে সেই অপকর্মের দায় নির্লজ্জের মতো বিএনপির ঘাড়ে চাপিয়ে দেওয়ার অভ্যাস তাদের পুরনো' মন্তব্য করে রিজভী বলেন, এই বৈশিষ্ট্য পাড়া-মহল্লার বখাটেদের মতো। বিএনপি যদি দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করে, তবে বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দসহ হাজার হাজার নেতাকর্মী কারাগারে বন্দি। এরপরেও বিএনপি দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করেছে? সরকারপ্রধান হয়ে যখন অসাধু ব্যবসায়ীদের কনট্রোল করতে পারছেন না, তখন অবৈধভাবে ক্ষমতায় থাকতে ব্যর্থতার দায় বিএনপির ওপর চাপানোর অপপ্রচার চালাচ্ছেন আপনি। লুটেরা সরকারের ন্যূনতম যোগ্যতা থাকে না বাজার নিয়ন্ত্রণে।