বিভিন্ন পটভূমিতে নিপীড়িত-নির্যাতিত মানুষের ত্রাণকর্তা হয়ে এসেছিলেন কিছু মানুষ যারা রাজনৈতিকভাবে পথ দেখিয়েছেন। জনমানসে ন্যায্যতার আলো দেখিয়েছেন। সামনে থেকে অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন। এই মানুষগুলোর কথায় মানুষের পাওয়া না পাওয়া, অভাব-অভিযোগ, দাবি-দাওয়ার প্রতিফলন ধরা দেয়। তাদের কথায় সাধারণ মানুষ পায় তাদের দুঃখ-দুর্দশা ঘোচাবার দিশা। দুঃখ-দুর্দশা ঘোচাতে তাদের বাতলে দেওয়ার প্রক্রিয়াতেই তৈরি হয় বাম-দক্ষিণ, নানা পন্থা, নানা দল ইশতেহার। এই মানুষগুলোর মুখের কথাই পাল্টে দিয়েছে ইতিহাস। এঁকেছেন মানচিত্র। বাংলাদেশের জন্মের সঙ্গেই এমন এক ঘটনা জড়িত। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণটি এখন আন্তর্জাতিক ভাষণ হিসেবে গুরুত্ব বহন করে। এ ভাষণের মূলভাবগত দিক বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, কথার জাদু দিয়ে বঙ্গবন্ধু এক নতুন মানচিত্রের ছবি এঁকেছেন। বাংলাদেশ নামক একটি নতুন রাষ্ট্রের রূপকল্প তুলে ধরেছেন। তার বক্তব্যে পাকিস্তানের মৃত্যু ও বাংলাদেশের জন্ম ত্বরান্বিত হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর ভাষণের পটভূমি, সম্বোধন, স্বরের ওঠানামা, উপমা ও অভিব্যক্তি স্বতন্ত্র রূপ। ভাষণের শুরু এক দারুণ সম্বোধন দিয়ে। অতি নিরপেক্ষ সম্বোধন ‘ভাইয়েরা আমার’। প্রচলিত অভ্যাসে রাজনীতিবিদরা যেভাবে ধর্মীয় রীতিতে জনতাকে সম্বোধন করেন, বঙ্গবন্ধু সেই পথে যাননি। তিনি আশ্রয় নিয়েছেন নিরপেক্ষ শব্দবন্ধের। এ সম্বোধন জনতার হৃদয়ে অনুরণন জাগিয়েছে। প্রতীতি জন্মেছে এ সম্বোধন তো আপন ভাইয়ের প্রতি, আপন বোনের প্রতি। অন্যকে আপন করার অদম্য শক্তি বঙ্গবন্ধু হৃদয়ে ধারণ করতেন। ৭ মার্চের ভাষণ ‘আমার’ ও ‘আমাদের’ শব্দে ভরপুর। শুরুতেই এ সম্বোধন জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে হয়ে উঠেছে সংযুক্তির এক বিশেষ স্মারক। স্বাধীনতার স্বপ্ন : সম্বোধনের পর সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরে বঙ্গবন্ধু অতিদ্রুত জাতীয় স্বপ্নটি জনতার সামনে আনেন। পরম্পরা বক্তব্য নিয়ে এগোতে থাকেন। নিশানা ধরিয়ে দেন, ‘আজ বাংলার মানুষ মুক্তি চায়, বাংলার মানুষ বাঁচতে চায়, বাংলার মানুষ তার অধিকার চায়... এ দেশের মানুষ অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মুক্তি পাবে।’ এ ভাষ্যে সংযুক্তি বা এনগেজমেন্ট আরও বেড়ে যায়। দর্শক-শ্রোতা আরও নিবিষ্ট হন, নড়েচড়ে বসেন।
দুই
এমনি এক গণমানুষের নায়ক মণি সিংহ। পরিবার নাম রেখেছিল মণীন্দ্র কুমার সিংহ। কমিউনিস্ট পার্টি ছদ্মনাম দেয় কমরেড আজাদ, পার্টি-পরিসরে ‘বড় ভাই’ ডাকা হতো। জনপরিসরে তিনি ‘মণি সিং’ নামে বেশি পরিচিত। বাংলাদেশের রাজনৈতিক আন্দোলন ও শ্রেণিসংগ্রামে তার নব্বই বছরের সশরীর উপস্থিতি এবং তারপর এখনো তিনি নানাভাবে বিপ্লবের জমিনে প্রখর হয়ে আছেন। বহু লড়াই সংগ্রামের সাক্ষী বা লড়াকু হলেও টংক প্রথাবিরোধী কৃষক আন্দোলনের ক্ষেত্রে তার ভূমিকা বেশি আলোচিত। সে সুবাদে তিনি চষে বেড়িয়েছেন বিভিন্ন জায়গায়, গ্রাম কি হাটবাজারে। বক্তব্য দিয়েছেন, উৎসাহিত করেছেন মানুষকে, জাগরণ তৈরি করেছেন তিনি।
তিন
একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ এক অবিস্মরণীয় দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তার প্রাজ্ঞ রাজনৈতিক নেতৃত্ব অস্থির সেই দিনে বাংলাদেশের লক্ষ্য অর্জনের লড়াইকে দিয়েছিল একাগ্রতা। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল মুজিবনগর সরকার গঠিত হওয়ার পর স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে প্রথম একটি ভাষণ দেন তিনি। এতে সেই সময়ের পুরো পরিস্থিতি তিনি তুলে ধরেছিলেন। সবাইকে আহ্বান জানিয়েছিলেন বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ানোর জন্য। ভাষণটি প্রথমে ১০ এপ্রিল রাতে প্রচারিত হলেও দুর্বল বেতার কেন্দ্রের কারণে সেদিন এ ভাষণ অনেকেই শুনতে পাননি। তাই ১১ এপ্রিল শক্তিশালী বেতার কেন্দ্র থেকে ভাষণটি আবার প্রচারিত হয়।
চার
বঙ্গবন্ধুর সমসাময়িক এবং বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ নেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী। প্রয়াত গণসংগীতশিল্পী ফকির আলমগীরের সেই বিখ্যাত গান শোনে, ‘ভাসানীর ভাষা ভেসে আসে ওই মিছিলের গর্জনে/ কিষান-কামার এই বাংলার মেহনতি লাখো জনে।’ যুগে যুগে জনে-জনের অন্তরে জিইয়ে আছেন মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী। যিনি আমৃত্যু কৃষক, শ্রমিক, জেলে, মজুর, কামার, কুমার, তাঁতি ও খেটে খাওয়া মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় লড়াই করে গেছেন। ভাষণ দিয়ে তিনি মানুষকে উদ্বেলিত, আবেগপ্রবণ এবং সমোহিত করতে পারতেন। অনেকেই বলতেন, মওলানা ভাসানীর ভাষণ শোনার জন্য দূর-দূরান্ত থেকে লোকজন আসতেন। দেশে দেশে ভাসানীর অসংখ্য অনুরাগী যেমন আছেন, বিরাগভাজন মানুষের সংখ্যাও নেহাত কম নয়। বিরাগভাজনরা এখনো ভাসানীকে প্রশ্নবিদ্ধ করেন। সমালোচনার মুখে দাঁড় করান। তাদের অভিযোগ, ভাসানী কোনো দল, মত ও আদর্শে স্থির ছিলেন না। ছিলেন অস্থিরচিত্ত রাজনীতিবিদ। নিজের সুবিধার জন্য শুধু দলবদল করতেন।
এসব সমালোচনার উপযুক্ত জবাব দিয়েছেন লেখক-চিন্তাবিদ আহমদ ছফা। এক প্রবন্ধে তিনি লিখেছেন, “মওলানা ভাসানী ছিলেন হাড়ে, মাংসে, অস্থিমজ্জায় কৃষক সম্প্রদায়ের নেতা। স্বভাবে, আচরণে, জীবনযাপন পদ্ধতিতে তিনি নিজেও ছিলেন মহান কৃষক। তার চিন্তাভাবনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল কৃষকসমাজ। যখনই কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন, তিনি মনে করেছেন, এই দলটির সঙ্গে কাজ করলে কৃষক সমাজের দাবিদাওয়া এগিয়ে নিতে পারবেন। পরক্ষণে যখনই তার মনে হয়েছে, এই দলটি কৃষকসমাজের স্বার্থবিরোধী, কায়েমি স্বার্থের তল্পিবাহকে পরিণত হয়েছে। তখনই দল ছাড়তে তার একমুহূর্ত সময়ও ব্যয় হয়নি।”
পাঁচ
মুক্তিযুদ্ধের পরও আমরা দেখি বাংলাদেশের রাজনীতিতে বেশ কিছু বাগ্মীর জন্ম হয়েছে। যাদের বক্তৃতা শোনার জন্যই মানুষ জনসভায় আসত। বক্তৃতার জন্যই যারা পেয়েছিলেন পরিচিতি। কমিউনিস্ট পার্টির নেতা জসিমউদ্দীন মন্ডল বক্তৃতা দিয়েই মানুষের মন জয় করেছিলেন। তিনি দলের প্রধান নেতা ছিলেন না। কিন্তু তার বক্তৃতা শোনার জন্য দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আসত।
স্বাধীনতার আগে থেকেই বাংলাদেশের রাজনীতিতে এখনো পর্যন্ত প্রভাব রেখে যাওয়া রাজনীতিবিদের অন্যতম ছিলেন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। মুক্তিযুদ্ধের আগে ১৯৭০-এর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের জোয়ারের সময়েও ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি থেকে মাত্র ২৫ বছর বয়সে নির্বাচিত হয়েছিলেন এই রাজনীতিবিদ। নব্বইয়ের দশকের শুরুতে তিনি যোগ দেন আওয়ামী লীগে।
‘তিনি যখন পার্লামেন্টে বক্তৃতা করতেন, সব সদস্য সেটা তন্ময় হয়ে শুনতেন। বাংলাদেশের রাজনীতিতে সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের নাম সবসময় লেখা থাকবে’ কথাগুলো বলছিলেন আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা তোফায়েল আহমেদ। মারা যাওয়ার আগে ২০১৭ সালের ২৯ জানুয়ারি জাতীয় সংসদে শেষ বক্তব্য রেখেছিলেন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। সেদিন তিনি তার স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে জাতিসংঘ ও বিএনপির কঠোর সমালোচনা করেন। যদিও তার কণ্ঠস্বর ফ্যাচফ্যাচে ও ক্লান্ত ছিল। কিন্তু বাচনভঙ্গিতে বরাবরের মতোই রসিক ছিলেন তিনি।
ছয়
স্বাধীনতার উত্তাল দিনগুলোতে ’৬৬ থেকে ’৭০ পর্যন্ত অনেক চমৎকার বাগ্মী রাজনীতিবিদ উপহার দিয়েছিল এই ভূখন্ড। তোফায়েল আহমেদ তেমনি একজন বাগ্মী নেতা। ঊনসত্তরে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যেখানে তিনি জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানকে বঙ্গবন্ধু উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন। সেই ভাষণও ছিল এক অনবদ্য কাব্যগাথা। সেই ভাষণ শুনেও মানুষ উদ্বেলিত আবেগপ্রবণ হয়েছিল। সেই সময় আ স ম আবদুর রবের ভাষণও ছিল উত্তাল তরঙ্গের মতো। যে ভাষণ মানুষকে স্বাধীনতার জন্য উদ্বেলিত করেছে। আরও ছিলেন শাহজাহান সিরাজ, নূরে আলম সিদ্দিকী, আবদুর রাজ্জাক।
সাত
আশির দশকে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির কাণ্ডারি যখন ছিলেন কমরেড ফরহাদ, তখন অন্যরকম পরিস্থিতি ছিল। বলা চলে কমরেড ফরহাদের জীবদ্দশায় এটি ছিল দেশের অত্যন্ত সুসংগঠিত ও সুশৃঙ্খল একটি দল। এই দলের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রভাবে বাংলাদেশে অজস্র প্রগতিশীল ধারার ছাত্র আন্দোলন, শ্রমিক আন্দোলন, কৃষক আন্দোলন, ক্ষেতমজুর আন্দোলন, সাংস্কৃতিক আন্দোলন সর্বোপরি জাতীয় আন্দোলন পরিচালিত হয়েছে।
নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি পর্যন্ত এই দলটি ছিল বাংলাদেশের মুক্তিকামী মানুষের সাহসী ঠিকানা। আর এর সিংহভাগ কৃতিত্ব কমরেড ফরহাদের। নির্লোভ, নিরহংকার মানুষ ছিলেন কমরেড ফরহাদ। সাদা পায়জামা-পাঞ্জাবি পরতেন। এত শান্ত-ধীর-স্থির নেতা বাংলাদেশে খুব কমই জন্মগ্রহণ করেছেন।
ছোটখাটো গড়নের এই মানুষটি কথা বলতেন আস্তে আস্তে, অত্যন্ত সাজিয়ে-গুছিয়ে, যুক্তি দিয়ে। তিনি জনসভায় কখনো ‘জ্বালাময়ী’ ভাষণ দিতেন না। বক্তব্য দেওয়ার সময় মনে হতো তিনি যেন শ্রোতাদের সঙ্গে কথা বলছেন, এক ধরনের বোঝাপোড়া করছেন। তার বক্তব্য শুনে গ্রামের নিরক্ষর মানুষও উজ্জীবিত হতেন। তিনি সবার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনতেন, বলতেন সবার পরে। সবসময় ছিলেন ধীরস্থির, সংযত। সহজেই আরেকজনকে জয় করে নিতে পারতেন। যত বড় ডাকসাইটে ব্যক্তিই হন না কেন, কমরেড ফরহাদের প্রখর ব্যক্তিত্বের সামনে সবাইকেই ম্রিয়মাণ মনে হতো। তাই তো প্রতিপক্ষের কাছেও তিনি ছিলেন সম্মানিত। বড়রাও তাকে শ্রদ্ধা করতেন, সম্মান জানাতেন।
এ ছাড়া মনজুরুল আহসান খান, মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, খালেকুজ্জামান, রাজেকুজ্জামান রতন, রুহিন হোসেন প্রিন্স, জোনায়েদ সাকির নাম এসে যায় অনলস বক্তা হিসেবে।
আট
তোফায়েল প্রজন্মের পর আওয়ামী লীগে ভালো বক্তা হিসেবে স্বীকৃতি পান ঢাকা সিটি করপোরেশনের প্রথম নির্বাচিত মেয়র মোহাম্মদ হানিফ। ’৯৪-এর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের শেষ বক্তৃতাটি দিয়েছিলেন মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে। সেই বক্তৃতা যারা শুনেছেন আজও নিশ্চিত হৃদয়ে গেঁথে আছে। মোহাম্মদ হানিফের পর আওয়ামী লীগে এখন আর তেমন কোনো বাগ্মী দেখা যায় না। তেমন বক্তা দেখা যায় না যাদের বক্তব্য মানুষকে আন্দোলিত করে।
পঁচাত্তরের পর বেশ কয়েকজন ছাত্রনেতার বক্তব্য ছিল হ্যামিলিয়নের বংশীবাদকের মতো। যাদের বক্তব্য মানুষকে আন্দোলিত করত। তাদের মধ্যে ছিলেন মাহমুদুর রহমান মান্না ও আখতারুজ্জামান। এ দুজনই সুবক্তা ছিলেন। তাদের দুজনই ডাকসুর নেতা নির্বাচিত হয়েছিলেন। অনেকেই বলেন, শুধু বক্তৃতা দিয়েই তারা শিক্ষার্থীদের মন জয় করেছিলেন। সম্ভবত বাংলাদেশের রাজনীতিতে তারাই শেষ রাজনীতিবিদ, যারা বক্তৃতা দিয়ে মানুষের হৃদয়ে স্থান পেয়েছিলেন। মানুষকে মোহাবিষ্ট করেছিলেন।
নয়
একসময় রাজনৈতিক নেতাদের ভাষণে কবিতা ছিল। মানুষের রক্তে দোলা দেওয়া, শিহরন জাগানো, উদ্বেলিত করা, শরীরে রক্ত সঞ্চালন বাড়িয়ে দেওয়া, হৃদয়কে নাড়া দেওয়ার ব্যাপার ছিল। তাদের বক্তব্যে যেন কবিতার স্বাদ! এ রকমই তো ছিল আমাদের গ্রাম-শহরের পরিচিত রাজনীতির ভাষা। বর্তমানে রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের মুখের যে ভাষা আমরা শুনছি এবং দেখছি, তাতে গণমানুষের ভাষা নেই। রাজনৈতিক গুণগত পালাবদলের আগে থেকেই চলছে এই ধরনের ভাষার রাজনীতি। কটুভাষা অবশ্য আগেও ব্যবহৃত হয়েছে। কীভাবে নিচে নেমে যাচ্ছি আমরা। কীভাবে ভাষার কদর্যতায় এগিয়ে যাচ্ছি আর আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অজান্তেই শেখাচ্ছি সেসব। যখন টিভিতে বাচ্চাদের সামনে এই ভাষা ভেসে ওঠে, তখন কী অসহায় লাগে! এ কথা যিনি ঠেকেছেন, তিনিই জানেন। ভাষা ব্যবহারের ক্রমাগত এই অবনয়ন দেখে শুধু ভাষাবিদরাই যে শঙ্কিত, তা নয়। প্রতিটি অভিভাবক এ বিষয়ে সচেতন হচ্ছেন। আসলে এগুলো সবই রাজনৈতিক নেতাদের দৈন্যদশা। তাদের বোধ এবং কথা বলার ভঙ্গিমাও নিম্নমানের।
লেখক : জ্যেষ্ঠ সহসম্পাদক, সংবাদ প্রকাশ