মিয়ানমারের গুলি গায়ে এসে লাগা ভালো লক্ষণ নয়

দেশের মানুষ মুখ খুলে গণতন্ত্রের কথা বলতে পারছে না বলে মন্তব্য করেছেন শান্তিতে নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এ ছাড়া মিয়ানমারের বন্দুকের গুলি দেশের মানুষের গায়ে লাগা, ঘরের কাছে পড়া খুব ভালো লক্ষণ নয় বলেও মনে করছেন তিনি।

গত শুক্রবার রাতে ‘ডয়চে ভেলে খালেদ মুহিউদ্দীন জানতে চায়’ অনুষ্ঠানে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে ড. ইউনূস এসব মন্তব্য করেন।

গণতন্ত্র নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ‘আমরা কেউ গণতন্ত্রের বিপক্ষে না, আমরা গণতন্ত্রের পক্ষে, মানবাধিকারের পক্ষে, ন্যায়নীতির পক্ষে। এগুলো না থাকলে তো জাতি হিসেবে আমরা টিকে থাকব না।’

কর ফাঁকি দেওয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার টাকা, আমি রোজগার করি, আমি নিজে সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমি মালিক হব না। যেহেতু আমি মালিক হব না, তাই আমি ট্রাস্টে দিয়ে দিতে চাচ্ছি। আমাদের আইনজীবী বলেছেন, আপনি যেহেতু দান করছেন, এতে আর কর দেওয়ার কোনো বিষয় নেই।’

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে স্থায়ীভাবে বসবাস ও সামাজিক ব্যবসা পরিচালনার আমন্ত্রণ থাকলেও তিনি কেন বাংলাদেশে থাকছেন সঞ্চালক খালেদ মুহিউদ্দীনের এমন প্রশ্নের জবাবে ড. ইউনূস বলেন, ‘তুমি কি বলছ আমি দেশ থেকে চলে যাই? এমন কুসন্তান হলাম আমি যে আমাকে দেশ ছেড়ে চলে যেতে হবে? আমি এ দেশের সন্তান, এ দেশেই থাকব।’

ইউনূস বলেন, ‘যদি ক্ষমতা চাইতাম তখন যখন (২০০৭ সালে) মিলিটারি আমার বাসায় এসে বসে রইল সারা রাত, আমাকে রাজি করানোর জন্য, আমি তো লুফে নিতাম।’

ড. ইউনূস মনে করেন, ‘বাংলাদেশের সীমান্ত বলে মিয়ানমারে সৃষ্ট সংকটের জন্য আমরা বহুলভাবে সাফার করব। এটি একটি ব্যাপক বিষয়, বড় বিষয়। শুধু রোহিঙ্গা না, পুরো বার্মা বা পুরো মিয়ানমারই একটা জটিল জিনিস।’

এই সংকট থেকে উত্তরণের পথও বাতলে দিয়েছেন ড. ইউনূস, ‘এখন থেকেই ঠিক করতে হবে, আমরা কীভাবে এটার নিষ্পত্তি করতে পারি। যারা পৃথিবীর বিভিন্ন নীতিমালা গ্রহণ করেন এগুলো সমাধানের জন্য, সেই উদ্যোগটা আমাদের নিতে হবে। আমরা শুধু দর্শক হিসেবে থেকে গেলে হবে না। আমাদের অ্যাকটিভ অ্যাকশনে যেতে হবে।’