রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের দুই বছর পূর্তিতে কিয়েভের প্রতি সংহতি জানাতে গতকাল শনিবার ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির পাশে দেখা যায় পশ্চিমা বিশে^র বেশ কয়েকজন নেতাকে। রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধরত ইউক্রেনকে সহায়তায় পশ্চিমা বিশে^র সহায়তা যখন সংকটে, রণক্ষেত্রে রাশিয়ার অগ্রযাত্রা যখন গতিশীল; ঠিক সেই মুহূর্তে জেলেনস্কির প্রতি বন্ধুত্বের বার্তা পুনর্ব্যক্ত করতে গতকাল শনিবার ইতালি, কানাডা ও বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটিতে হাজির হন।
গতকাল আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানায়, ইতালি, কানাডা ও বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী যথাক্রমে জর্জিয়া মেলোনি, জাস্টিন ট্রুডো ও আলেক্সান্ডার দি ক্রো এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন কিয়েভে সংবাদ সম্মেলনে করেন। এ সময় চার নেতার মধ্যে দেখা যায় ভলোদিমির জেলেনস্কিকে। প্রতিবেশী দেশ পোল্যান্ড থেকে ট্রেনে যাত্রা করে তারা ইউক্রেনে পৌঁছান।
ইউরোপীয় কমিশনের নেত্রী উরসুলা রুশ আগ্রাসন শুরুর পর গতকাল নিয়ে মোট সাতবার ইউক্রেন সফর করলেন। কিয়েভের ইউরোপীয় মিত্র হিসেবে সফরে এসে তিনি বলেন, ‘ইউক্রেনীয় জনগণের অসাধারণ প্রতিরোধ উদযাপন করতে’ এবং যুদ্ধে ‘নৈতিক সমর্থন’ দিতে এসেছেন। ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রধান হিসেবে আসেন ডি ক্রো, বিশে^র শীর্ষ সাত অর্থনীতির দেশ নিয়ে গঠিত জি৭ জোটের প্রতিনিধি হিসেবে আসেন জর্জিয়া মেলোনি এবং মার্কিন নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ন্যাটো হয়ে আসেন ট্রুডো।
কিয়েভের অদূরে হোস্তোমেল বিমানবন্দরে সংবাদ সম্মেলনে উরসুলা বলেন, ‘আমরা এখানে আপনাদের বলতে এসেছি, ইউরোপ আপনাদের পাশে থাকবে, যতদিন প্রয়োজন, ঠিক ততদিন।’
এ সময় জেলেনস্কি তার নাগরিকদের উদ্দেশে বলেন, ‘দেশ বিজয়ের ৭৩০ দিন কাছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘ভবিষ্যতে ইউক্রেন শব্দের পাশে শুধু স্বাধীনতা শব্দটিকেই দেখা যাবে।’
যুদ্ধের তৃতীয় বছর শুরুর এ সময়টিতে আন্তর্জাতিক ত্রাণ ও সামরিক সরবরাহ ধীর হয়ে এসেছে, যুদ্ধক্ষেত্রে যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে। গত গ্রীষ্মে কিয়েভের পাল্টা হামলা মুখ থুবড়ে পড়েছে। মস্কো আধিপত্য পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছে।
চলতি ফেব্রুয়ারির প্রথম দিকে তারা পূর্বাঞ্চলের শহর আভদিভকা দখল করেছে। এটি নয় মাসের মধ্যে রাশিয়ার সবচেয়ে বড় জয়।