গিল-জুরেলের দাপুটে লড়াইয়ে শেষ হাসি ভারতের

জোর লড়াই হলো মহেন্দ্র সিং ধোনির ঘরের মাঠ রাঁচিতে। ভাবা হয়েছিল জয়ের ১৯২ রান সহজে তুলে নেবে ভারত। কিন্তু ইংল্যান্ডও যে স্পিন সহায়ক উইকেটে লড়াই করবে, তার আন্দাজ দিয়েছিলেন তরুণ স্পিনার শোয়েব বশির। তিনি কিছুক্ষণ পরপর উইকেট নিয়ে ম্যাচের রং বদলে দিয়েছিলেন। কিন্তু শুবমান গিল অন্যপ্রান্তে টিকে থেকে আসল কাজ করতে সহায়তা করেছেন। তাতে ভারত জিতে যায় ৫ উইকেটে।

পাঁচ ম্যাচের টেস্ট সিরিজে রোহিত শর্মার দল এক ম্যাচ বাকি থাকতেই সিরিজ জিতে নিল ৩-১ ব্যবধানে। ঘরের মাঠে ভারতকে হারানো সহজ নয়, সেটি আরও একবার বুঝতে পারলেন বেন স্টোকসরা।

ভারতের দুই ওপেনার দ্বিতীয় ইনিংসেও রান পেয়েছেন। অধিনায়ক রোহিত করেছেন ৮১ বলে ৫৫ রান, যার মধ্যে ছিল পাঁচটি বাউন্ডারি এবং একটি ছক্কা। পাশাপাশি চলতি সিরিজের নায়ক যশস্বী জয়সোয়াল করেছেন ৪৪ বলে ৩৭ রান, যার মধ্যে ছিল পাঁচটি কপিবুক স্টাইলের বাউন্ডারি।

রোহিতকে ফেরান হার্টলি ও যশস্বীকে আউট করেন রুট। তারপরেই ব্রিটিশ স্পিনার বশিরের ম্যাজিক স্পিন শুরু হয়ে যায়। তিনি একে একে প্যাভিলিয়নের পথ দেখিয়েছেন রজত পাতিদার (০), রবীন্দ্র জাদেজা (৪) ও সরফরাজ খান (০)। রজত এই সিরিজে পুরো ব্যর্থ, তাঁকে টানা সুযোগ দিয়েও লাভ কিছু হল না। তিনি টেস্ট খেলার ব্যাটার নন, বিশেষজ্ঞরাও তাই বলেছেন। সরফরাজ আচমকা চাপে পড়ে ছন্দ হারিয়েছেন।

রাঁচি টেস্টের নায়ক অবশ্যই ভারতের উইকেটরক্ষক ব্যাটার ধ্রুব জুরেল। তিনি গত ইনিংসে ৯০ রানের ইনিংস না খেললে ভারতের এই জয়ের মঞ্চই তৈরি হতো না। তিনি জয়ের ভিত গড়েছেন। দ্বিতীয় ইনিংসেও গিলের সঙ্গে দারুণ একটি কার্যকরী ইনিংস খেলেছেন আগ্রার ২৩ বছরের উদীয়মান তারকা। যিনি ভারতীয় দলের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিয়েছেন। কিপিং যতটা দক্ষতার সঙ্গে করেন, তেমনি ব্যাটেও রোহিতদের ভরসা দিয়েছেন। ঋদ্ধিমান সাহার অভাব এতদিন পরে মেটালেন জুরেল।

গিলের কথাও বিশেষভাবে বলতে হবে। রাজকোট টেস্ট থেকে শুরু হয়েছিল তাঁর বাদ পড়ার সম্ভাবনা নিয়ে। কারণ পূজারা ঘরোয়া ক্রিকেটে বহু রান করছেন। গিলকে বাদ দিয়ে পূজারাকে দলে আনার কথা বলেছিলেন। কিন্তু গিলের দাপটে রাঁচি টেস্ট ভারত জিতল অনায়াসেই। সঙ্গত করেন জুরেলও। গিলের হাফসেঞ্চুরিও এসেছে ধোনির মাঠে।