অমর একুশে বইমেলায় প্রকাশিত হয়েছে শাহজাহান ভূঁইয়ার স্মৃতিকথা ‘কেমন ছিলো জল্লাদ জীবন’। তিন দশকেরও বেশি সময় কারাগারে থাকাকালে শাহজাহান রাজনীতিবিদ, জঙ্গি ও সামরিক কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির ফাঁসি কার্যকর করেছেন। এসব ঘটনাই লিপিবদ্ধ হয়েছে কিংবদন্তি প্রকাশনী থেকে আসা বইয়ে।
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মেলায় বাংলাদেশের বিখ্যাত লেখকদের এক ঝলক দেখতে পাঠকরা ভিড় করেন। কিন্তু এই বইমেলায় সেই ভিড়ে দেখা মিলছে শাহজাহানের। তার বই সংগ্রহ করতে এসেছিলেন কলেজ শিক্ষার্থী শাহীন। তিনি বলেন, আমি তার বইয়ের একটি কপি কিনেছি। অটোগ্রাফ নেবার অপেক্ষায় আছি। খবর বার্তা সংস্থা ইএফইর।
দীর্ঘ কারাবাসের সময় স্মৃতিকথা লেখার ধারণা পেয়েছিলেন শাহজাহান। সে সময় আসামিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা ছাড়া তার খুব বেশি কিছু করার ছিল না। তিনি বলেন, ‘আমি একটা ডায়েরি রাখতাম। গত বছর জেল থেকে বের হয়ে প্রকাশনী সংস্থার মালিকের সঙ্গে দেখা করি। আমি চেয়েছি মানুষ আমার জীবন থেকে শিখুক। আমি চাই না অন্য কেউ একই ভুল করুক।’
১৯৯১ সালে শাহজাহানকে গ্রেপ্তার করা হয়। ডাকাতি ও হত্যার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হন তিনি। তাকে ১৮৪ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পরে আপিলে তার সাজা কমিয়ে ৪২ বছর করা হয়। তবে জল্লাদ হিসেবে প্রতিটি মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পর তার সাজা দুই মাস করে কমিয়ে আনা হয়।
এছাড়া সাধারণ ও বিশেষ ছাড়ের আওতায় তার কারাবাসের মেয়াদ ১০ বছর কমানো হয়। সব মিলিয়ে ৩১ বছর ৬ মাস ২ দিন কারাভোগের পর ২০২৩ সালের ১৮ জুন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি। ৭৪ বছর বয়সী শাহজাহান এখন ঢাকার কাছে একটি চায়ের দোকান চালান।
জল্লাদ হিসেবে কাজ করা নিয়ে তার মন্তব্য ‘আমি আদালতের আদেশ বাস্তবায়ন করেছি মাত্র। কোনো আসামির প্রতি আমার কোনো সহানুভূতি ছিল না।’ তার দাবি, কারাগারে প্রধান জল্লাদ এবং অন্যদের সহকারী হয়ে কমপক্ষে ৬০ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছেন তিনি। যদিও কর্তৃপক্ষ তাকে মাত্র ২৬ জনের মৃত্যুদণ্ডের জন্য কৃতিত্ব দিয়েছে।