পঙ্কজ উদাসের সেরা ১০ গান

থেমে গেল 'তুমি খাঁচা হলে আমি হব পাখি'র কণ্ঠ

আর কোনো চিঠি আসবে না। কারণ যিনি চিঠি আসার সেই সুর বেঁধেছিলেন তিনিই আজ পাড়ি দিলেন না ফেরার দেশে। প্রয়াত সংগীতশিল্পী পঙ্কজ উদাস। বেশ কদিন ধরেই বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছিলেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭২ বছর। মেয়ে নায়াব উদাস সোশাল মিডিয়ায় জানালেন শোক সংবাদ।

বলিউডে প্লেব্যাক, মিউজিক ভিডিও থেকে শুরু করে কনসার্ট একাধিক গানে তিনি জায়গা করে নিয়েছেন শ্রোতাদের মনে। দেখে নেওয়া যাক তার সবচেয়ে জনপ্রিয় ১০ গান।

১. বলিউডে সঞ্জয় দত্তের 'নাম' ছবির জন্য বিখ্যাত 'চিঠি আয়ি হ্যায়' গানটি গেয়ে তিনি পৌঁছে যান জনপ্রিয়তার শীর্ষে। ছবিটি পরিচালনা করেছেন মহেশ ভাট। এই গানে চোখ ভিজেছিল আপামর সংগীতপ্রেমীর।

২. ১৯৮৮ সালে বিনোদ খান্না ও মাধুরী দীক্ষিত অভিনীত 'দয়াবান' ছবির গান 'আজ ফির তুম পে' ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়, গানটি একসঙ্গে গেয়েছিলেন পঙ্কজ উদাস ও অনুরাধা পাড়োয়াল।

৩. 'সাজন' ছবির জনপ্রিয় গান 'জিয়ে তো জিয়ে ক্যায়সে, বিন আপকে...' পঙ্কজের কেরিয়ারের অন্যতম মাইলস্টোন।

৪. নব্বইয়ে মিউজিক অ্যালবামেও বাজিমাত করেছিলেন পঙ্কজ। তার 'অউর আহিস্তা কি জিয়ে বাতে...' আজও মুখে মুখে ফেরে সংগীতপ্রেমীদের।

৫. আরেক মিউজিক ভিডিও 'চান্দি য্যায়সে রং' ছিল নব্বইয়ের অন্যকম জনপ্রিয় গান। নানা কনসার্টে এই গান গেয়ে বাহবা পেয়েছেন পঙ্কজ উদাস।

৬. এছাড়াও তার বেশ কয়েকটি মিউজিক ভিডিও ছিল বেশ জনপ্রিয়। তার মধ্যে অন্যতম 'করবটে বদল বদল'।

৭. তার আরেক জনপ্রিয় গান 'সাচ বোলতা হুঁ ম্যায়'

৮. পঙ্কজ উদাসের আরেক জনপ্রিয় গজল 'ম্যায় ন্যাশে মে হুঁ'। এই গানের ভিডিওতে অভিনয় করেছিলেন বিদ্যা বালান।

৯. বাজিগরের 'ছুপানা ভি নহি আতা' গানটি সিনেমায় ব্যবহার করা হয়েছিল বিনোদ রাঠোরের কণ্ঠে। তবে এই গানটি গেয়েছিলেন পঙ্কজ উধাসও। 

১০. ১৯৮৯ সালে তার বাংলা গানের একটি অ্যালবাম বাজারে আসে। অ্যালবামটির বেশ কয়েকটি গান জনপ্রিয়তা পায়। 'ভালোবাসা', 'তোমার চোখেতে ধরা', 'যদি আরেকটু সময় পেতাম' বা 'তুমি খাঁচা হলে আমি হব পাখি'র মতো অন্যন্যসাধারণ সব গান ছিল সেই অ্যালবামে।

পঙ্কজ উদাসের জন্ম ১৯৫১ সালের ১৭ মে গুজরাতের জেতপুরে। ১৯৮০ সালে প্রকাশিত হয় তার নয়া গজল অ্যালবাম। 'আহাত' নামে অ্যালবাম প্রকাশ করে তিনি তার সংগীতজীবন শুরু করেন। কালক্রমে তিনি হয়ে ওঠেন ভারতে গজল সংগীতের সমার্থক। শান্ত-নরম স্বভাবের পঙ্কজের মতোই তার কণ্ঠ ছিল নরম, পেলব। তার কন্ঠে অদ্ভুত এক শান্তি বিরাজ করত। সারা বিশ্বজুড়ে শো করে বেড়াতেন গজলের এই সুপারস্টার। শুধু গজলই নয়, নানা সম্মান ও পুরস্কারের পাশাপাশি তিনি পেয়েছেন পদ্মশ্রী। তার মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ সংগীতজগত।