মেট্রোরেলের এনাউন্সমেন্টে পুরুষ কণ্ঠ ব্যবহার করা হয়নি কেন?

মেট্রোরেল চলাচলের সময় দিকনির্দেশনার জন্য কিছুক্ষণ পরপর যে ভয়েসটি শোনা যায় সেটি নারী কণ্ঠের। যা নিয়ে বেশ কিছুদিন কৌতুহল ছিল। অনেকেই ভেবেছিলেন এটি মেশিন জেনারেটেড ভয়েস। আসলে ভয়েসটি দিয়েছেন কিমিয়া অরিন নামের এক সফটওয়‍্যার ইঞ্জিনিয়ার। তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারে ইংরেজি সংবাদ পাঠিকা হিসেবে কাজ করেছেন। কিন্তু বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মেট্রোরেলের এই এনাউন্সমেন্টে পুরুষ কণ্ঠ কেন ব্যবহার করা হয়নি— বিষয়টি নিয়েও আলোচনা-সমালোচনা চলছে। 

সম্প্রতি ফেসবুকের মেট্রোরেলের একটি কমিউনিটি গ্রুপে মৃণাল হক নামক এক মেট্রো যাত্রী লিখেছেন, 'মেট্রোরেলের এনাউন্সমেন্টে পুরুষ কণ্ঠ কেন ব্যবহার করা হয়নি। এ বিষয়টি জানতে চাই।' সেখানে অনেকেই কমেন্ট করেছেন। কেউ বলছেন, নারী কণ্ঠ শুনতে শ্রুতিমধুর লাগে। কেউ বলছেন, নারী কণ্ঠ বেশি আকর্ষণীয়। কেউ বলছেন, মেয়েদের কণ্ঠে পিচ আর কম্পাংক বেশি। আবার কেউ বলছেন, পুরুষের কথা শুনছে কে জীবনে?

মিরাজ মাহবুব নামক এক মেট্রো যাত্রী লিখেছেন, 'ছেলেদের তুলনায় মেয়েদের গলার স্বরের কম্পাংক বেশি ও তুলনামূলক বেশি শ্রুতিমধুর। তাই, প্রায় বেশিরভাগ ব্যস্ত জায়গাসমূহে মেয়েদের স্বরেই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণাগুলো করানো হয়, যাতে জনগণের কাছে প্রয়োজনীয় তথ্যগুলো সঠিকভাবে ও যত বেশি দূরত্বে পৌঁছানো যায় ও জনগণ যেন মনোযোগ সহকারে সেগুলো শোনে।'

ফাহমিদা আহমেদ লিখেছেন, 'শুনতে শ্রুতিমধুর লাগে। এ ছাড়া পুরুষ কণ্ঠ তো আছেই ঝাড়ি দেওয়ার জন্য।' ফারিহা ফারজানা লিখেছেন, 'জ্বলে?'। রাসেল খান লিখেছেন, 'পুরুষ কণ্ঠ ব্যবহার করলে আপনি এই পোস্ট করতে পারবেন না বলে।' মোস্তফা রেজওয়ান রাহাত লিখেছেন, 'পুরুষের কথা শুনছে কে জীবনে?'

বিস্ময় শ্রাবন্তী লিখেছেন, 'ঢাকা রেলওয়ে স্টেশনে যখন পুরুষ কণ্ঠে এনাউন্সমেন্ট করা হয়। আর নতুন কিছু ট্রেনে এখন পুরুষ কণ্ঠে এনাউন্সমেন্ট করা হয়। ওটা শুনলেই বুঝবেন কেন মেট্রোতে পুরুষ কণ্ঠে এনাউন্সমেন্ট করা হয় না। আর মেয়েদের কণ্ঠে পিচ আর কম্পাংক বেশি, ফলে শব্দ বেশিদূর অব্দি স্পষ্ট ভাবে পৌঁছায়, ভোকাল কর্ড এর গঠন এর কারণে নয়েজ ডিস্টরিশনও কম তাই।'

সাজিদ আমিন লিখেছেন, 'সবকিছুর মূল একটাই, ক্যাপিটালিজম।' আব্দুর্লাহ সিকদার লিখেছেন, 'কারণ নারীকে পণ্য মনে করে, নারী ছবি ছাড়া কোনো প্রডাক্ট দেখি না বর্তমানে। এর জন্য দায়ী পুরুষ।' মুশফিক এ আমিন লিখেছেন, 'নারী কণ্ঠ ইউজ করায় কি অনূভুতিতে আঘাত লেগেছে?' শেখ সাদমান সাকিব লিখেছেন, 'আন্দোলনে নামেন ভাই।' মো. সাইফুল ইসলাম লিখেছেন, 'আগুন লাগছে নাকি কোথাও?' 

রফিক রায়হান আদিব লিখেছেন, 'নারী কণ্ঠ বেশি আকর্ষণীয়.. এটার সাইকোলজিক্যাল কিছু ব্যাপার-স্যাপার আছে।' সিফাত উল্লাহ লিখেছেন, 'নারী জাতিকে পণ্য হিসেবে ধরছে সবক্ষেত্রে। পণ্য ব্যবহারের জিনিস তাই পণ্য হিসেবে নারী কণ্ঠ দিচ্ছে। নারী গুলা শুনতে ভালো লাগবে তাই। অনেক নারী এটাকে আবার নিজেদের জন্য গর্ভ মনে করে।'

শাহ ইয়াসফিক ভূঁইয়া লিখেছেন, 'নারী জাগরণ-অধিকারের, নারীবাদের নামে যেভাবে মহিলাদেরকে বাইরে এনে ক্রেতা আকর্ষণের আইটেম হিসেবে রুপান্তরিত করা হয়েছে। সেটারই অংশবিশেষ এই শ্রুতিমধূর নারীকণ্ঠ ব্যবহার করা। অব্জেক্টিফিকেশন আরকি।' পিয়াল আহমেদ লিখেছেন, দুনিয়াতে আদিকাল থেকেই নারীকে পণ্য হিসেবে ব্যবহার করা হয়ে আসতেছে। রিসেপশনিস্ট বেশিরভাগই নারী। কাস্টমার কেয়ার সার্ভিসে নারী বেশি। টেলিসেলসে নারী বেশি।'

মোহাম্মদ জুনায়েদ লিখেছেন, 'এখানেও পুরুষ বৈষম্যের শিকার।তাই পুরুষ নির্যাতন আইন চাই।' আনোয়ার হোসেন লিখেছেন, 'পুরুষ কণ্ট ব্যবহার করলে কি কি লাভ হতে পারতো?' সুমন রায় লিখেছেন, 'মেয়ে কণ্ঠ হলে মানুষ মনোযোগ দিয়ে শোনেন, এই জন্য।' কবির আহমেদ লিখেছেন, 'লিফট এ তো ভাই আদিকাল থেকেই নারী কণ্ঠ চলে আসছে।'