মারা গেলেন লতাও

সাবেক স্বামীর দেওয়া আগুনে মারা গেলেন নরসিংদী রায়পুরায় উপজেলার চিকিৎসক লতা আক্তার (২৯)। শরীরের ৯০ শতাংশ দগ্ধ নিয়ে আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে সোয়া ১টার দিকে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে মারা গেছেন দিনি।

এর আগে, গত সোমবার মারা গেছেন একই ঘটনায় দগ্ধ হওয়া লতার সাবেক স্বামী খলিলুর রহমান (৩৫)।

লতার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বার্ন ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. তরিকুল ইসলাম। তিনি জানান, লতার শরীরের ৯০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল। শ্বাসনালীও পুড়ে গিয়েছিল। গত রবিবার থেকেই তাকে আইসিইউতে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল।

ডা. লতার খালু ফরহাদ চৌধুরী জানান, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি দুপুরে নরসিংদী রায়পুরা লতাদের বাসায় প্রবেশ করে তার তালাকপ্রাপ্ত স্বামী খলিল লতার শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয়। খলিল একজন গাড়িচালক। তবে নিজের পরিচয় গোপন করে লতাকে বিয়ে করে সে। বিয়ের পরে তার প্রতারণার বিষয়টি ফাঁস হয়ে যায়। এর পর গত চার মাস আগে লতা তাকে তালাক দিয়ে দেন। এতেই খলিল ক্ষিপ্ত হয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে লতার গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয়।

নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার মরজাল ইউনিয়নের ব্রাহ্মণের টেক গ্রামে লতার বাড়ি। গুলশানের শাহাবুদ্দিন মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করেন। নারায়ণগঞ্জে একটি বেসরকারি হাসপাতালে রোগী দেখতেন। গ্রামের বাড়িতে লতা ও তার মা বাস করেন। তার বাবা মারা গেছেন। বড় দুই ভাই-বোন ইতালিপ্রবাসী। আর মারা যাওয়া খলিলুর রহমানের বাড়ি গাজীপুরের কাপাসিয়া এলাকায়।

লতার ফুপাতো ভাই সজীব আহমেদ বলেন, লতা তাদের জানিয়েছিলেন যে এক বন্ধুর মাধ্যমে ঢাকায় খলিলুরের সঙ্গে পরিচয় হয়। খলিলুর বেশ লম্বা ও সুদর্শন ছিলেন। নিজেকে কানাডার নাগরিক এবং তার বাবা অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তা বলে পরিচয় দিয়েছিলেন।

গত মঙ্গলবার স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন বার্ন ইনস্টিটিউটে গিয়ে দগ্ধ লতার চিকিৎসার খোঁজ-খবর নেন এবং তার মায়ের সাথে কথা বলেন।