কিছু ক্ষেত্রে বীমা বাধ্যতামূলক করা উচিত

এস এম জিয়াউল হক

মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা

চার্টার্ড লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানি লি.

দুই বছর ধরে দেশের অর্থনীতিতে অস্থিরতার পাশাপাশি উচ্চ মূল্যস্ফীতি বিরাজ করছে। এমন পরিস্থিতিতে বীমা নিয়ে কেমন সাড়া পাচ্ছেন?

এস এম জিয়াউল হক : বীমা কোম্পানি যেহেতু আর্থিক প্রতিষ্ঠান তাই দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার সঙ্গে এর গভীর সম্পর্ক রয়েছে। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে যাওয়া, প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়াসহ আর্থিক চাপ বীমায় বেশ ভালো প্রভাব ফেলেছে। তাই বীমা কোম্পানিগুলোর অক্লান্ত পরিশ্রমের পরও আশানুরূপ ব্যবসায়িক সাফল্য অর্জন হচ্ছে না। তবে অর্থনৈতিক সুবাতাসের সঙ্গে সঙ্গে বীমা কোম্পানিতেও সুবাতাস বইতে শুরু করেছে।

সরকারের সর্বজনীন পেনশন স্কিমের প্রভাব বেসরকারি জীবনবীমা কোম্পানিগুলোতে পড়বে কি না?

এস এম জিয়াউল হক : সর্বজনীন পেনশন স্কিম যেহেতু দেশের সব মানুষের জন্য তাই এই স্কিমকে সরকার যদি কিছু নিয়মকানুন বেঁধে দিয়ে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে বিক্রয় অনুমোদন দেয় তবে এর বিক্রয় বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে, সেবা সুনিশ্চিত হবে আর সরকারের ওপর চাপও কমবে। এক কথায় বেসরকারি বীমা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সরকার এর সুফল তুলে আনতে পারে সহজে।

বেসরকারি বীমা কোম্পানির মাধ্যমে বাংলাদেশে সামাজিক নিরাপত্তা দেওয়া সম্ভব কি?

এস এম জিয়াউল হক : অবশ্যই সম্ভব। পেনশন, গ্রামীণ মাতৃস্বাস্থ্য, শিশুস্বাস্থ্যসহ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য বেসরকারি বীমা কোম্পানি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। এরই মধ্যে ব্র্যাক, সাজেদা ফাউন্ডেশনের মতো এনজিওর মাধ্যমে সরকার বেসরকারি বীমা কোম্পানি দিয়ে সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে আসছে।

বাংলাদেশের অর্থনীতির আকারের তুলনায় বীমা কোম্পানির সংখ্যা বেশি কি না?

এস এম জিয়াউল হক : আমাদের দেশের এই মুহূর্তের বিরাট বাজেটের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে বীমা কোম্পানি খুব বেশি নয়। এখনো আমরা শতকরা পাঁচজন মানুষকে বীমার আওতায় আনতে পারিনি। বীমা বাজারে অপার সম্ভাবনা রয়েছে বাংলাদেশে। তাই তো এবারের সেøাগান ‘করবো বীমা গড়বো দেশ, স্মার্ট হবে বাংলাদেশ’।

বীমায় আস্থার সংকট নিরসনে আপনারা কীভাবে কাজ করছেন?

এস এম জিয়াউল হক : বীমা কোম্পানির প্রতি আস্থা বাড়াতে কোম্পানিগুলো নানাবিধ কার্যক্রম করে যাচ্ছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো দ্রুততম সময়ে নির্ভুলভাবে দাবি নিষ্পত্তি করা। ২০২৩ সালে ১৯টি কোম্পানি ৮০ শতাংশের বেশি দাবি নিষ্পত্তি করেছে। এদিকে, চার্টার্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স শতভাগ দাবি নিষ্পত্তি করেছে। যুগোপযোগী আধুনিক নতুন পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে। দ্রুততম সময়ে নির্ভুলভাবে দাবি নিষ্পত্তি করে গ্রাহকের অভিযোগ শূন্যের কোঠায় নিয়ে এসেছে চতুর্থ প্রজন্মের কোম্পানি চার্টার্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স।

কোন ধরনের বীমাতে আপনারা বেশি মনোযোগ দিচ্ছেন?

এস এম জিয়াউল হক : চার্টার্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি যেহেতু জীবনবীমা কোম্পানি তাই আমাদের মূল লক্ষ্য আর্থিক নিরাপত্তার মাধ্যমে জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, পাশাপাশি স্বাস্থ্যের জন্য বীমাসেবা নিশ্চিত করা। আমাদের দেশের বেশিরভাগ মানুষ তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা টাকার অভাবে নিশ্চিত করতে পারছে না। সরকার ভর্তুকি দিয়েও এ সব জনগোষ্ঠীকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা দিতে পারছে না। তাই এই সব জনগোষ্ঠীকে জীবনবীমা এবং স্বাস্থ্যবীমার আওতায় এনে বেসরকারি বীমা কোম্পানি কে কাজে লাগিয়ে দেশের বিশাল একটা গোষ্ঠী কে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা যায়।

আপনাদের বীমা দাবি পরিশোধের সময়সীমা এখন কেমন?

এস এম জিয়াউল হক : আইডিআরএ এর তথ্য অনুযায়ী বেশিরভাগ কোম্পানি পাঁচ থেকে সাত কার্যদিবসের মধ্যে দাবি নিষ্পত্তি করে। আর এদিকে চার্টার্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড সর্বোচ্চ তিন কার্যদিবসের মধ্যে দাবি নিষ্পত্তি করে গ্রাহকসেবা নিশ্চিত করে।

সামনের দিনগুলোর জন্য আপনার প্রতিষ্ঠানের কি পরিকল্পনা আছে?

এস এম জিয়াউল হক : সরকারের রূপকল্প ২০৪১ এর সঙ্গে সঙ্গে চার্টার্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্সেরও মিশনের পাশাপাশি ভীষণ রয়েছে। আমরা দ্বিবার্ষিক, ত্রিবার্ষিক, পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা করে এগিয়ে যাচ্ছি। আমাদের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনা করা হয়েছে যা ক্রমান্বয়ে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। দেশ ও মানুষের আর্থিক কল্যাণে চার্টার্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড নানামুখী কাজ করে যাচ্ছে। যুগোপযোগী আধুনিক সব পরিকল্পে সমৃদ্ধ হয়ে কাজ করে যাচ্ছে চতুর্থ প্রজন্মের কোম্পানি চার্টার্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স।

ইন্স্যুরেন্স একটি দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসা। এখানে ফলাফল আসতে এক থেকে দুই বছর সময় লাগে। এই খাতে সেবা ও আকর্ষণীয় পরিকল্পের মাধ্যমে গ্রাহকের আস্থা বাড়াতে বিভিন্নভাবে কার্যক্রম গ্রহণ করে ঝুঁকি মুক্ত বিনিয়োগে মানুষকে আগ্রহী করা সম্ভব। বর্তমানে যে সব কাজে টিন সার্টিফিকেট ম্যান্ডেটরি সেই সব খাতসহ আরও বেশ কিছু ক্ষেত্রে বীমা বাধ্যতামূলক করা উচিত।