ঘুমপরি
নকুল শর্ম্মা
ঘুমপরি সব গেলি কোথায়
আয় না তোরা উড়ে,
খোকার চোখে ঘুম দিয়ে যা
বসে চোখটা জুড়ে।
লালপরি আর নীলপরি সব
নূপুর পায়ে দিয়ে,
ঘুমপাড়ানি গান গেয়ে আয়
জাদুর কাঠি নিয়ে।
তারার দেশে ঘুমপরিরা
থাকে চাঁদের পরে,
ছোট্ট খোকন ঘুমে যাবে
আয় আয় আমার ঘরে।
ঘুমপরিরা আসলো ছুটে
ঝিলমিল পাখা নেড়ে,
সাধ্য কি আছে কারও
ঘুমটা নেবে কেড়ে?
শান্ত হলো মায়ের কোলে
ছোট্ট খোকন সোনা,
থেমে গেলো মায়ের মুখে
পরির গল্প শোনা।
ভয় পেয়েছে হাঁসের ছানা
কবির কাঞ্চন
ভয় পেয়েছে হাঁসের ছানা
নামবে না সে জলে
মৎস্য তারে ধরে যদি
নেয় টেনে নেয় তলে।
কেমন করে আসবে ফিরে
নেই তো উপায় জানা
জলের খাবার জলেই থাকুক
আনবে না সেই খানা।
এসব ভেবে কাঁদছে বসে
সঙ্গীবিহীন একা
এমন সময় মায়ের সাথে
তার হয়ে যায় দেখা।
মায়ের ডাকে হাঁসের ছানা
প্যাঁক প্যাঁক করে এসে
আরাম করে রৌদ্র পোহায়
মায়ের শরীর ঘেঁষে।
খানিক পরে মায়ে ডাকে
আয় না বাছা, ওরে
কী যে দারুণ সাঁতার কাটা
শিখিয়ে দেবো তোরে।
হাঁসের ছানা আঁতকে ওঠে
আস্তে করে বলে
মাগো, আমি নামব না আর
অগাধ পুকুর জলে।
আমি যদি নেমে পড়ি
পুকুর বিলে ঝিলে
মৎস্যকুলে সুযোগ পেয়ে
খাবে আমায় গিলে।
হেসে উঠে মায়ে বলেন
তুই না হাঁসের ছানা
জলকে ঘিরে বাঁচতে শিখে
জলকে আপন বানা।