জাতীয় হিরো থেকে গৃহহীন

গত বছরের নভেম্বরে ভারতের উত্তরাখণ্ডের একটি ভূগর্ভস্থ টানেল ধসে আটকে পড়েছিলেন ৪১ জন শ্রমিক। ১৭ দিন সুড়ঙ্গের ভেতরে আটকে থাকার পর উদ্ধার করা হয় তাদের।

নানারকম উচ্চ প্রযুক্তির যন্ত্র ও সরঞ্জামাদি ব্যবহার করেও শ্রমিকদের উদ্ধার প্রচেষ্টা বারবার ব্যর্থ হওয়ায় শেষ পর্যন্ত ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে ‘র‍্যাট হোল’ কৌশলে সুড়ঙ্গ খুঁড়ে শ্রমিকদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়। আর উদ্ধারকারী র‍্যাট হোল কয়লা খনির শ্রমিকদের আখ্যা দেওয়া হয় জাতীয় বীরের।

সেই উদ্ধারকারীদের মধ্যে একজন ৪৫ বছর বয়সী শ্রমিক ওয়াকিল হাসান। তিনমাস আগেও জাতীয় বীরের আখ্যা থাকলে বর্তমানে গৃহহীন তিনি। দিল্লি ডেভেলপমেট অথোরিটি বুধবার এক অভিযানে গুঁড়িয়ে দিয়েছে তার বাড়ি। এক দিনের ব্যবধানে গৃহহীন হয়ে পড়েছেন তিনি।

রোববার এক প্রতিবেদনে এ খবর জানায় কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরা।

দিল্লির খজোরি খাস এলাকায় র‍্যাট হোল মাইনার ওয়াকিল হাসানের বাড়ি। অনেক বছর ধরেই ওই বাড়িতে বসবাস করেন তিনি৷ কিন্তু আচানক গত বুধবার ডিডিএ-এর এক অভিযানে ভেঙে ফেলা হয় তার বাড়ি। এমনকি বাড়ি ভাঙার আগে কোনরকম নোটিশও দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ জানিয়েছেন ওয়াকিল হাসান।

তবে দিল্লি ডেভেলপমেট অথোরিটির দাবি, সরকারি জমিতে বেআইনিভাবে তৈরি করা হয়েছে হাসানের বাড়ি। বাড়ি ভাঙার আগে নোটিশ দেওয়া হয়েছিল হাসানকে এমনকি তাদের জিনিসপত্র সরিয়ে নেওয়ার জন্য যথেষ্ট সময় দেওয়া হয়েছিল।

তবে ডিডিএ-এর অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ওয়াকিল। তিনি জানান, কোন পূর্ব নোটিশ দেওয়া হয়নি তাকে। এছাড়া বাড়ির সরকারি বিদ্যুৎ বিলসহ নিজের বাড়ির আইনি দলিলও তার কাছে রয়েছে বলেও জানান তিনি।

আল জাজিরাকে তিনি বলেন, ডিডিএ অবৈধ সম্পত্তি ধ্বংস করার অভিযানের কথা বললেও তারা শুধুমাত্র আমার সম্পত্তি ধ্বংস করেছে।

অভিযানের সময় নির্যাতন

 

ওয়াকিল হাসানের বাড়িঘর গুঁড়িয়ে দেওয়ার সময় তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের নির্যাতন করেছে দিল্লি ডেভলপমেন্ট অথরিটির অভিযানে আসা পুলিশ সদস্যরা, এমনটাই অভিযোগ জানিয়েছেন তিনি।

তিনি জানান, তার মেয়ে আলিজা এবং ছেলে আজিম বাড়ি ভাঙতে বাধা দিলে তাদেরকে আঘাত করে বাড়ি ভাঙতে আসা পুলিশ সদস্যরা। তার ছেলে ও মেয়েকে চড়-থাপ্পড় মেরে গালিগালাজ করা হয়। তারপরে বাড়ি থেকে টেনে বের করা হয়।

হাসান তখন দোকানে কিছু পণ্য কিনতে গিয়েছিলেন। কিন্তু ফোন পাওয়ার পর তিনি এসে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে ওয়াকিলকে ও তাকে সহযোগিতা করতে ছুটে আসা একজন সহযোগী কোরেশিকে আটক করে পুলিশ। পুলিশ স্টেশনে হাসানকে ও কোরেশীকে ঘুষি মারা হয় এবং গালাগাল করা হয়।

টানেল থেকে শ্রমিকদের উদ্ধারের সময় পাওয়া মেডেল এবং পুরস্কারে ভরা একটি বাক্স হাতে রেখে হাসান বলেন, এই সব ট্রফি আর মেডেল দিয়ে আমি কী করব? যারা দেশকে গর্বিত করে তাদের সাথে সরকার কি এভাবেই আচরণ করে?

এদিকে হাসানের অভিযোগ তিনি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের লোক বলেই তাকে টার্গেট করা হয়েছে। তিনি বলেনতার বাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়া "প্রতিশোধমূলক" বলে মনে হচ্ছে কারণ সেদিন শুধুমাত্র তার বাড়িটিই ভেঙে দেওয়া হয়েছিল।

এদিকে দিল্লির খাজুরি খাস এলাকায় ডিডিএর জমিতে অবৈধভাবে বসবাসের অভিযোগে হাসানের ঘর ভেঙে দেওয়ার ফলে প্রবল সমালোচনার মুখে পড়েছে কেন্দ্রীয় নগরোন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের অধীন ডিডিএ। নির্বাচনকে সামনে রেখে এই সমালোচনায় বিব্রত বোধ করছে বিজেপিও।