সারা দুনিয়ার মানুষ লক্ষ করছে এই বিচারে কী হয়: ড. ইউনূস

গ্রামীণ টেলিকমের শ্রমিক-কর্মচারীদের কল্যাণ তহবিলের ২৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের মামলায় আদালতে জামিন পেয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ও নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস। 

ট্রাইব্যুনাল থেকে বেরিয়ে উপস্থিত সাংবাদিকদের উদ্দেশে ড. ইউনূস বলেন, ‘আমি আশা করব, দেশের বিচারব্যবস্থা থেকে ন্যায়বিচার পাব। এটাই তো একজন নাগরিকের ইচ্ছা। আমি এটাই আশা করছি।’ 

ড. ইউনূস বলেন, ‘একজন নোবেল বিজয়ীর বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে। জালিয়াতির অভিযোগ আনা হয়েছে। মানি লন্ডারিংয়েরমানি লন্ডারিং মামলায়  অভিযোগ আনা হয়েছে। এটা ঐতিহাসিক ঘটনা। কেবল আমি একা নই, আমার সঙ্গে আরও সাতজনের বিরুদ্ধে একই অভিযোগ আনা হয়েছে।’

মামলায় হাজিরা নিয়ে এক প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘এতে সময় যাচ্ছে। আমাদের সবাইকে ব্যস্ত থাকতে হচ্ছে, যে সময় আমরা অন্য কাজগুলো করতে পারতাম। এখন আমাদের বহু কাজ করার সময় এসেছে, এখানে যদি আমরা নিজেদের নিয়োজিত করতে পারতাম। এ সময়গুলো, এগুলো আমাদের মনে কষ্ট দেয়। কাজে বাধা দেয়।’ 
অধ্যাপক ইউনূস আরও বলেন, ‘আমরা সবাই চাই দেশের মঙ্গল হোক। সবাই দেশের কাজে নিয়োজিত থাকতে চাই। নানা রকমের এই আইনগত বিষয়ে আমাদের সময় দিতে হয়। এতে আমাদের ক্ষতি, সবারই ক্ষতি। তবে আইনের প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকুক, এর মধ্যে শান্তিতে আমরা যেন সবাই থাকতে পারি।’

আজ রবিবার বেলা আড়াইটার দিকে ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে হাজির হয়ে আইনজীবীদের মাধ্যমে তিনি আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। 
শুনানি নিয়ে ড. ইউনূসসহ সাতজনের জামিন মঞ্জুর করেন ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আস সামছ জগলুল হোসেন। পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ২ এপ্রিল দিন ধার্য করেছে আদালত।
ড. ইউনূস ছাড়া অন্য সাত অভিযুক্ত হলেন গ্রামীণ টেলিকমের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. নাজমুল ইসলাম, পরিচালক মো. আশরাফুল হাসান, নাজনীন সুলতানা, পারভীন মাহমুদ, মো. শাহজাহান, নূরজাহান বেগম ও এস এম হাজ্জাতুল ইসলাম লতিফী। 
আদালতে ড. ইউনূসের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী আব্দুল্লাহ আল মামুন। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল।