উদ্বোধনের ১৮ বছরেও চালু হয়নি জিমনেশিয়াম

স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে পুষ্টিকর খাদ্যের পাশাপাশি প্রয়োজন শরীরচর্চারও। এলাকাবাসীর শরীরচর্চার কথা মাথায় রেখে নাটোরের বাগাতিপাড়ায় ১৮ বছর আগে একটি জিমনেশিয়াম নির্মাণ করা হলেও এখন পর্যন্ত আসেনি শরীরচর্চার কোনো সরঞ্জাম। ফলে এ সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এলাকাবাসী।

এতে অনেকে বাধ্য হয়ে শরীরচর্চার জন্য শহরমুখী হচ্ছে। ফলে যেমন অতিরিক্ত টাকা গুনতে হচ্ছে, আবার সময়েরও অপচয় হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে জিমনেশিয়ামটি অব্যবহৃত হয়ে পড়ে থাকার কারণে প্রশাসনিক, রাজনৈতিক সভাসহ বিভিন্ন কর্মকা-ে এটি ব্যবহার হয়ে আসছে। দ্রুতই এটিকে শরীরচর্চার উপযোগী হিসেবে প্রস্তুত করার দাবি এলাকাবাসীর।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০০৬ সালে প্রায় ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে উপজেলা পরিষদ চত্বরে একটি জিমনেশিয়াম উদ্বোধন করেন নাটোর-১ আসনের সাংসদ সাবেক যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ফজলুর রহমান পটল। এরপর থেকে দীর্ঘদিন এটি অব্যবহৃত হিসেবে থাকে। অব্যবহৃত হয়ে থাকার কারণে প্রশাসনিক, রাজনৈতিক বিভিন্ন সভা-সেমিনারের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক কর্মকা-ে ব্যবহার হয়ে আসছে জিমনেশিয়ামটি। এরপর ওই স্থানেই উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জিমনেশিয়ামের পাশাপাশি শিল্পকলা একাডেমি নামকরণ করা হয় এবং জেলা পরিষদের অর্থায়নে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ওই স্থানেই উপজেলা শিল্পকলা একাডেমি উন্নয়ন প্রকল্পে ১ লাখ টাকা বরাদ্দও দেওয়া হয়। ফলে জিমনেশিয়ামটিকে হলরুমে রূপান্তরিত করা হয়। ভবনটির প্রধান গেটের একপাশে উপজেলা জিমনেশিয়াম ও অন্যপাশে শিল্পকলা একাডেমি নামের দুটি আলাদা নামফলক ব্যবহার করা হচ্ছে। অথচ জিমনেশিয়ামটি চালুর উদ্যোগ কখনো নেওয়া হয়নি।

উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক আল মামুন সরকার বলেন, ভবনটি শরীরচর্চার জন্য নির্মিত হলেও বর্তমানে বিভিন্ন কর্মকা-ে ব্যবহার হয়ে আসছে।

উপজেলার বিহারকোল এলাকার ক্রীড়ামোদী মুক্তার হোসেন (৬০) সরঞ্জাম সরবরাহ এবং প্রশিক্ষক নিয়োগ দিয়ে জিমনেশিয়ামটি পরিপূর্ণরূপে প্রস্তুত করার জোর দাবি জানান তিনি। এ বিষয়ে ইউএনও মোহাইমেনা শারমীন বলেন, জিননেশিয়ামটি সচল করার জন্য অর্থ বরাদ্দ পেলে দ্রুত উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।