১০ মার্চ থেকে ছয় সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি হতে পারে

ট্যাংক, কামান আর বিমানের গোলায় গাজা উপত্যকার ফিলিস্তিনিদের প্রাণহানির পরিসংখ্যান ৩০ হাজারের অঙ্ক স্পর্শ করে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে; একই সঙ্গে গাজার শিশুদের অপুষ্টি সমস্যা ও খাদ্যসংকট প্রতিনিয়ত নতুন নতুন মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এ অবস্থায় আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর ইঙ্গিত, গাজায় যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠায় ২৪-৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ইতিবাচক খবর পাওয়া যেতে পারে। ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস এবং ইসরায়েলের মধ্যে শেষ মুহূর্তের মতৈক্য সম্ভব হলে, আগামী ১০ কিংবা ১১ মার্চ থেকে ছয় সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হতে পারে। এ নিয়ে মিসরের রাজধানী কায়রোতে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

এ মাসেই শুরু হচ্ছে মুসলিমদের পবিত্র মাস রমজান। এর আগে যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠার তোড়জোড় চলছে। এ নিয়ে আলোচনা করতে গতকাল রবিবার কায়রো গেছে হামাসের প্রতিনিধিদল। এর আগে সংগঠনটি জানায়, তাদের হাতে থাকা ইসরায়েলি জিম্মি এবং ইসরায়েলের কারাগারে থাকা ফিলিস্তিনি বন্দিদের পারস্পরিক মুক্তির ব্যাপারে সম্ভাব্য সমঝোতার শর্ত তেল আবিব মানলে ছয় সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি হতে পারে।

মিসরের পাশাপাশি কাতার ও যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতির আলোচনায় রয়েছে। দোহা ও ওয়াশিংটনের কর্মকর্তারাও গতকাল কায়রো গেছেন। ইসরায়েলি আলোচকদের সঙ্গে গত শনিবার এ নিয়ে কথাবার্তা হয়েছে দোহাতে। সব কিছু ঠিকমতো অগ্রসর হলে আগামী ১০-১১ মার্চ যুদ্ধবিরতি শুরু হতে পারে। অর্থাৎ রমজান মাস শুরু হতে হতেই কার্যকর হবে যুদ্ধবিরতি।

হামাসের একটি সূত্র জানায়, ইসরায়েল গাজা উপত্যকা থেকে সম্পূর্ণভাবে সরে গেলে, মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর পথ তৈরি করে দিলে এবং জিম্মি-বন্দি মুক্তির ব্যাপারে একমত হলেই কেবল ২৪-৪৮ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতি হবে। এক মার্কিন কর্মকর্তা গত শনিবার বলেন, ইসরায়েল সম্ভাব্য চুক্তিতে কমবেশি সায় দিয়েছে।

এর মধ্যে গাজার এক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা গতকাল জানান, কামাল আদওয়ান হাসপাতালের ১৫ জন শিশু অপুষ্টিজনিত কারণে মৃত্যুমুখে পতিত হয়েছে এবং গাজার মানুষ দুর্ভিক্ষ থেকে এক ধাপ দূরে।

গাজায় ইসরায়েলি প্রশাসনের অব্যাহত সহিংসতার মধ্যে গতকাল থেকে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে উপসাগরীয় সহযোগিতা সংস্থার (জিসিসি) মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক শুরু হয়েছে। ওই বৈঠকের পাশেই আলাদা একটি সভায় যোগ দিয়েছেন জর্ডান, মিসর ও মরক্কোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা। জিসিসি এবং এসব মন্ত্রীর সমন্বিত বৈঠকে গাজা পরিস্থিতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হবে বলে জানিয়েছে এ-সংক্রান্ত সূত্র।

এ নিয়ে মিসরীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী সামেহ শৌক্রি বলেন, ‘গাজায় যা ঘটছে তা ফিলিস্তিনিদের কণ্ঠকে দুর্বল করার পরিকল্পিত আয়োজন। সমস্যার পরিপ্রেক্ষিতে নিরাপত্তাসংক্রান্ত সমাধান এ অঞ্চলে ধ্বংস ছাড়া কিছুই বয়ে আনেনি, যা লোহিত সাগর থেকে বাব আল-মান্দেব প্রণালি পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে।’