বিআরটি প্রকল্পের ঢাকা-ময়মনসিংহ লেন উন্মুক্ত 

বহুল আলোচিত বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্পের ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ লেন খুলে দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে গাজীপুর বাসস্ট্যান্ড (শিববাড়ী) এলাকা থেকে ঢাকামুখী লেনটিও মঙ্গলবার সকালে অনানুষ্ঠানিকভাবে খুলে দেওয়া হয়। 

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিআরটি প্রকল্পের ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ভোগড়া থেকে চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় নির্মিত ফ্লাইওভারের ময়মনসিংহমুখী একটি লেন খুলে দেওয়া হয়েছে। তাতে ঢাকা থেকে ময়মনসিংহগামী সব যানবাহন এই লেন ব্যবহার করে ভোগড়া ও চান্দনা চৌরাস্তার দীর্ঘ যানজট এড়িয়ে চলাচল করতে পারবে। একইসঙ্গে ফ্লাইওভার ব্যবহার করে ঢাকা থেকে জয়দেবপুরগামী যানবাহন চন্দনা চৌরাস্তার যানজট এড়িয়ে জয়দেবপুরের দিকে যেতে পারবে। তা ছাড়া জয়দেবপুর থেকে ঢাকার দিকেও চলাচলের ক্ষেত্রে এই ফ্লাইওভারের লেন ব্যবহার করা যাবে।

গাজীপুর মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (ট্রাফিক) মো. আলমগীর হোসেন জানান, ‘ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে নির্মাণাধীন বিআরটি প্রকল্পের ভোগড়া থেকে চান্দনা চৌরাস্তা পর্যন্ত একটি ফ্লাইওভারের নির্মাণকাজ সমাপ্ত হয়েছে। এর মধ্যে ময়মনসিংহমুখী একটি লেন যোগাযোগমন্ত্রীর মৌখিক নির্দেশে মঙ্গলবার সকালে খুলে দেওয়া হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, এই ফ্লাইওভারে নির্মাণকাজ চলার কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগড়া থেকে চান্দনা চৌরাস্তা পর্যন্ত ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ময়মনসিংহমুখী লেনটি যান চলাচলের জন্য বন্ধ ছিল। এ কারণে ঢাকা থেকে সব যানবাহনকে নাওজোর হয়ে কয়েক কিলোমিটার ঘুরে ময়মনসিংহ ও গাজীপুরের জয়দেবপুর রোডে চলাচল করতে হতো। এই দুর্ভোগ লাঘবের জন্য ফ্লাইওভারের একটি লেন খুলে দেওয়া হলো।

প্রকল্প সূত্রে আরও জানা গেছে, ২০১২ সালে প্রকল্পটি গ্রহণ করা হলেও চীনের কোম্পানিটি অর্থায়ন সংগ্রহ করে কাজ শুরু করতে পাঁচ বছর বিলম্ব করে ফেলায় প্রকৃতপক্ষে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছিল ২০১৭ সালে। চার বছরে প্রকল্পটির নির্মাণ সম্পন্ন করার কথা থাকলেও সাত বছরেও প্রকল্প শেষ করা যায়নি। ইতিমধ্যে প্রকল্পের ব্যয় কয়েক দফায় বাড়িয়ে চার গুণ করে ফেলা হয়েছে। এই সাত বছর ধরে বিমানবন্দর, উত্তরা, টঙ্গী ও গাজীপুরে যাতায়াতকারী জনগণকে কী পরিমাণ ভোগান্তি সইতে হয়েছে, তা অবর্ণনীয়।

সূত্র আরও জানায়, আপাতত শিববাড়ী না হলেও ভোগড়া থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত প্রাথমিকভাবে চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এই পথে ২৫টি স্টেশনের মধ্যে প্রথম দফায় ১১টি চালু হওয়ার কথা রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ১১টি স্টেশনে ৫০টি বাস দিয়ে চালু হবে এই প্রকল্প। আর এই বাস আসবে চাইনিজ কোম্পানি হাইগার থেকে। পরবর্তী ধাপে আরও ৫০টি বাস যুক্ত হবে। সময় আর সক্ষমতা অনুযায়ী বাস যুক্ত হতে থাকবে।