পূর্ব বিরোধ, গ্রাম্য দলাদলি ও জুয়া খেলার টাকা নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার নাটাই উত্তর ইউনিয়নের বিরাসার গ্রামে গত দুদিন দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। সংঘর্ষে পাঁচ পুলিশসহ ৩০ জন আহত হন। সংঘর্ষ চলাকালে আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে ৫/৬টি বাড়ি। ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে ১০টি বাড়িতে। পুলিশ পিস্তলসহ জসীম (৩৫) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে।
গত সোমবার সকালে ও গতকাল মঙ্গলবার দিনভর বিরাসার গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের আনন্দ বাজার কসাইপট্টির একটি ভিটির মালিকানা নিয়ে বিরাসার গ্রামের ব্যবসায়ী ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক বাবুল মিয়ার বড়গোষ্ঠী বাড়ির সুলতানের সঙ্গে গফুর মিয়া সাহেব বাড়ির ব্যবসায়ী হোসেন মিয়ার বিরোধ তৈরি হয়। সম্প্রতি জুয়া খেলা নিয়ে বড়গোষ্ঠীর সালেকের সঙ্গে সাহেব বাড়ির আনোয়ারের দ্বন্দ্ব হয়। এ নিয়ে সালেক ও তার ভাইয়েরা মিলে গত রবিবার রাতে মহিদ মিয়া ও তার ছেলে আনোয়ারকে মারধর করে। এর জেরে সোমবার সকালে সাহেব বাড়ির লোকজনের সঙ্গে বড়গোষ্ঠীর সংঘর্ষ বেধে যায়। ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে রূপ নেয়। পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
গতকাল মঙ্গলবার সকালে আবার দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। পুরো গ্রামে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। উভয়পক্ষই সংঘর্ষে দেশীয় অস্ত্রের পাশাপাশি পিস্তল ও ককটেল ব্যবহার করে। বিভিন্ন স্থানে ককটেলের বিস্ফোরণে এলাকা প্রকম্পিত হয়ে ওঠে। ব্যাপক ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। গ্রামের কয়েকটি স্থানে থেমে থেমে সংঘর্ষ চলতে থাকে। সংঘর্ষ চলাকালে ১০টি বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়। ৫/৬টি বাড়ি আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়।
সংঘর্ষে সদর থানার পরিদর্শক (অপারেশন) মো. সোহেল, কনস্টেবল মামুন, সাইফুলসহ পুলিশের পাঁচ সদস্য এবং সংঘর্ষে লিপ্ত দুই পক্ষের ২৫ জন আহত হন। গ্রেপ্তার এড়াতে আহতরা বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা নিয়েছেন। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিকেল ৩টা পর্যন্ত ১টি টিয়ার গ্যাস শেল ও ১৪টি রাবার বুলেট ছুড়েছে। এ সময় জসীম (৩৫) নামে এক যুবককে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। তার কাছ থেকে ৫টি গুলিসহ একটি পিস্তল ও বেশ কিছু হাতবোমার খোসা উদ্ধার করা হয়।
সদর থানার ওসি আসলাম হোসাইন বলেন, ‘পূর্ব বিরোধের জেরে দুদিন ধরে দুই দলের মধ্যে মারামারি হচ্ছে। এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন আছে। আমাদের পাঁচজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। পিস্তলসহ এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দাঙ্গাবাজরা দেশীয় অস্ত্রের পাশাপাশি ককটেলও ব্যবহার করেছে। ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগের কয়েকটি ঘটনাও ঘটেছে।’