ক্যান্সারজয়ী মাকে শততম টেস্ট উৎসর্গ করবেন জনি

ক্রিকেটের আতুড় ঘর খ্যাত লর্ডসে এক যুগ আগে টেস্ট ক্যাপ পড়েছিলেন জনি বেয়ারস্টো। উইন্ডিজের বিপক্ষে অভিষেক ইনিংসটা অবশ্য রাঙাতে পারেননি তিনি। এক পর্যায়ে বাদ পড়েও গিয়েছিলেন দল থেকে। তবে সময় যত গিয়েছে ততই তিনি ইংলিশ ক্রিকেটের ‘ব্যাটিং ভোমরা’ হয়ে উঠেছেন। আর আগামীকাল হিমালয়ের কুল ঘেষা ভারতের রাজ্য হিমাচল প্রদেশের ধর্মশালায় খেলতে যাচ্ছেন কুলিন সংস্করণের শততম ম্যাচটি।

সেই ম্যাচটিতে খেলতে নামার আগে আজ এসেছিলেন সংবাদ সম্মেলনে। সেখানে এসে ঝরিয়েছেন অশ্রু। শততম টেস্ট খেলার আগ মুহূর্তে বলেছেন, ‘আমি গর্বিত। আপনারা জানেন আমি কেমন আবেগপ্রবণ একজন লোক। তাই হ্যা।’ বলেই টিস্যু দিয়ে মুছে নিচ্ছিলেন অশ্রু।

ধর্মশালায় ভারতের বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম তথা শেষ টেস্টে শততম টেস্ট ম্যাচ খেলতে নামবেন জনি বেয়ারস্টো। তিনি ১৭তম ইংলিশ ক্রিকেটার হিসেবে এই কীর্তি গড়বেন। গত বছর ওয়ানডে বিশ্বকাপের সময় ভারতেই শততম ওয়ানডে ম্যাচ খেলতে নেমেছিলেন তিনি। এবার ক্রিকেটের সবচেয়ে মর্যাদাবান সংস্করণটিতে। যে মাহেন্দ্রক্ষণের সাক্ষী হতে সোমবারই সেখানে পৌঁছেছেন তার পরিবার ও ঘনিষ্ঠরা। যাদের মধ্যে আছেন তার স্ত্রী ও নয় মাস বয়সী ছেলে এবং মা জ্যানেট। ১৯৯৭ সালে জনির বাবা যখন আত্মহত্যা করেন, তারপর থেকে জনি ও তার বোন বেকিকে লালন-পালন করেন তিনি।

জ্যানেট তখনও স্তন ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করছিলেন। যা ফিরে আসে ২০১২ সালে। তবে সেই লড়াই জয় করেছেন তিনি। জনির বয়স যখন মাত্র ৮ বছর, তখন থেকেই এই ব্যাধি নিয়ে লড়াই করা সংগ্রামী মাকে নিজের শততম টেস্ট টা উৎসর্গ করেছেন বেয়ারস্টো।

মাকে নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে জনি তাই বলেছেন, ‘আমাদের ভাই-বোনকে বড় করে তুলতে যে সমর্থন, সাহস ও শক্তি জুগিয়েছেন তা বিশাল। তিনি না থাকলে আমরা আজ এখানে থাকতাম না। ইয়র্কশায়ার একাডেমির ছেলেরা থেকে শুরু করে বাজবল খেলা প্রতিটি ক্রিকেটারের জন্য আজকের দিনটি বিশেষ উপলক্ষ্য। আমি এই শততম ম্যাচটা মাকে উৎসর্গ করতে চাই।’

আবেগপ্রবণতা থাকলেও ৩-১ ব্যবধানে ভারতের বিপক্ষে সিরিজে পিছিয়ে আছে ইংল্যান্ড। পঞ্চম টেস্টেও ইংলিশদের সামনে আছে অনেক চ্যালেঞ্জ। ধর্মশালার পাল্লা দেওয়ার মতো ঠান্ডার সঙ্গে ইংলিশ ক্রিকেটাররা অনভ্যস্থ। এই সফরে প্রথমবারের মতো তিন পেসার নিয়ে নামতে যাচ্ছে বলে আভাস দিয়েছেন জনি।