‘দক্ষ পেশাদার তৈরির কাজ স্কুল থেকেই শুরু করা জরুরি’

রাশিয়া বর্তমানে চলমান বিশ্ব যুব উৎসব-২০২৪ এর আওতায় সম্প্রতি ‘মানব পুঁজি: বর্তমান বিশ্বে যুবকদের জন্য প্রকৃত সম্ভাবনার সন্ধানে’ শীর্ষক একটি সেমিনারের আয়োজন করা হয়। সেমিনারে বক্তারা অভিমত ব্যাক্ত করেন, দক্ষ যুবকরা শুধুমাত্র প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নেই ভূমিকা রাখে না, জাতীয় অর্থনীতির উন্নয়নেও তাদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

বক্তারা বর্তমান বিশ্বে প্রতিভাবান ও উচ্চাভিলাষী যুবকদের জন্য সম্ভাবনা; রাষ্ট্র, কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান এবং এনজিও কর্তৃক সম্ভাবনাময় যুবকদের সম্পৃক্ত করা ইত্যাদি বিষয়ের ওপর আলোকপাত করেন। 

সেমিনারে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ছিলেন রসাটম কর্পোরেট একাডেমির মহাপরিচালক ইউলিয়া উঝাকিনা, অস্ট্রিয়ার সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী কারিন নেইসল, স্বনামধন্য রুশ ব্যবসায়ী কিরিল সামালভ প্রমুখ।

ইউলিয়া উঝাকিনা জানান, রসাটমের অধিকাংশ প্রকল্পই বৃহৎ স্কেলের এবং এগুলোর জীবনকাল অনেক দীর্ঘ। যেমন পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র যেগুলোর উদ্বোধন থেকে ডিকমিশনিং পর্যন্ত সময়কালের ব্যাপ্তি প্রায় এক শ বছর। এ অবস্থায় আমাদের বিবেচনায় থাকে যে, এসকল প্রকল্পের উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনায় যুবকরাই দায়িত্ব গ্রহণ করবে। আমি মনে করি মাধ্যমিক স্কুল থেকেই উচ্চদক্ষ পেশাদার তৈরির কাজ শুরু করা জরুরী।

তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যৎ পেশাদারদের ক্যারিয়ার সম্ভাবনা একটি দ্বিমুখী বিষয়। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, চাকরিদাতাদের দায়িত্ব হলো, যুবকদের ভিতরের সম্ভাবনাকে খুঁজে বের করে তা বিকশিত করার সুযোগ করে দেওয়া। যুবকদের দায়িত্ব হলো তাদের নিজের শক্তি সম্পর্কে বুঝতে পারা এবং তার উন্নয়নে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়া। আমরা রসাটমে আমাদের এমপ্লয়িদের জন্য পেশাগত ও ব্যাক্তিগত সুযোগ সৃষ্টি করে থাকি, যাতে তারা সঠিকভাবে তাদের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে পারেন। এ ছাড়া রসাটমের সাথে এখনও সম্পৃক্ত হয়নি এমন স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের সঙ্গেও আমরা কাজ করে থাকি। স্কুল শিক্ষার্থীদের সাথে কাজ করার সময় আমরা তাদের অভিভাবক ও শিক্ষকদের বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেই কারণ তারাই এই শিশুদের সক্ষমতা খুঁজে বের করতে এবং সেই অনুযায়ী তাদের ভবিষ্যৎ যাত্রা নির্ধারনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

সেমিনারে আন্তর্জাতিক শিক্ষা পার্টনারশিপ বিষয়টিও বিশদভাবে আলোচিত হয়। আলোচকরা এ ব্যাপারে একমত হন, শিক্ষাক্ষেত্রে বৈশ্বিক সহযোগিতার শিক্ষা, বিজ্ঞান, শিল্প, উন্নয়নে যেমন সহায়ক তেমনিভাবে নতুন কর্মস্থল সৃষ্টি, জীবনমানের উন্নয়নেও ভূমিকা রাখে। এর মাধ্যমে নিশ্চিত হয়, টেকসই বৈশ্বিক উন্নয়ন।

সারা বিশ্বে পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোর জন্য রসাটম রুশ এবং বিদেশি বিশেষজ্ঞদের ব্যাপক প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে। এ ছাড়া যেসকল দেশে রসাটম তাদের প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে সেখানে পারমাণু শিক্ষা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায়ও সামগ্রিক সহযোগিতা দিয়ে থাকে।

বিশ্ব যুব উৎসব-২০২৪ এ প্রায় বিশ হাজার তরুণ ও যুবক অংশগ্রহণ করছে। তাদের প্রত্যেকেই শিক্ষা, বিজ্ঞান, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, সংস্কৃতি, স্বেচ্ছা শ্রম ও চ্যারিটি, ব্যবসা ও মিডিয়াসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নেতৃস্থানীয় ভূমিকা পালন করছেন। বাংলাদেশসহ বিশ্বের কয়েক ডজন দেশের প্রায় দশ হাজার যুব প্রতিনিধিও রয়েছেন অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে। শুরুর পর থেকেই রসাটম বিশ্ব যুব উৎসবের অন্যতম প্রধান পার্টনার হিসেবে ভূমিকা পালন করে আসছে।