বেইলি রোডে অগ্নিকাণ্ডের পর এখন প্রকৃত অপরাধীদের গ্রেপ্তার না করে নিরপরাধ সাধারণ রেস্টুরেন্ট কর্মচারীদের গ্রেপ্তার করে হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন আমার বাংলাদেশ পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম।
আজ বুধবার বিজয়নগরের দলীয় কার্যালয়ে বার বার অগ্নি দুর্ঘটনায় গণমৃত্যু, সরকারের দায় ও মানুষের জীবন নিয়ে নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান সমূহের দায়িত্বহীনতার প্রতিবাদে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।
তাজুল ইসলাম বলেন, ‘যে কোনো রেস্টুরেন্ট চালাতে দশটি সংস্থার অনুমোদন লাগে। বছর বছর ধরে ঢাকার রেস্টুরেন্ট চলছে এই সংস্থাগুলোর কোনো ভূমিকা নাই, একটা দুর্ঘটনা ঘটার পর এক সংস্থা আরেক সংস্থার ওপর দায় চাপিয়ে নিজেরা বাচার চেষ্টা চলছে। অগ্নিকাণ্ডে মানুষ মরছে, মরার পর আমরা শুনতে পাই মৃত, আহত ব্যক্তিদের খবর রাখছেন প্রধানমন্ত্রী। এটি জনগণের সাথে তামাশা ছাড়া আর কিছুই নয়।’
সরকারকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘আপনারা সাউন্ড গ্রেনেড কিনতে পারেন অথচ ফায়ার বল কিনতে পারেন না। এই ধরনের অনিয়ম নিয়ে একটি জাতি চলতে পারে না। অবিলম্বে ফায়ার সার্ভিসকে সকল যন্ত্রপাতি দিয়ে সক্ষম করে গড়তে হবে। নিয়ন্ত্রক সংস্থা সমুহের সমন্বয়ে একটা রিভিউ কমিটির মাধ্যমে সকল ঝুঁকিপূর্ণ ভবন সমুহ পর্যবেক্ষণ করে একমাসের মধ্যে অবৈধ স্থাপনা সমুহ ভেঙে ফেলতে হবে।’
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কার্যক্রমের ২০২২ ও ২০২১ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, সারা দেশে এই দুই বছরে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রতিদিন গড়ে ৬৩টি অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আগের ১৪ মাস ১০ দিনে সারা দেশে অগ্নিকাণ্ডে মারা গেছেন ১৪৫ জন। ২০২২ সালে সারা দেশে ২৪ হাজার ১০২টি অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। এসব ঘটনায় ৩৪২ কোটি টাকার বেশি সম্পদ পুড়েছে। এর আগের বছর ২১ হাজার ৬০১টি অগ্নিকাণ্ডে ২১৮ কোটি টাকার সম্পদ পুড়ে যায়। আর ২০২০ সালে সারা দেশে ২১ হাজার ৭৩টি আগুনের ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ছিল ২৪৬ কোটি টাকা। অন্যদিকে অগ্নিকাণ্ডে ঢাকাকে বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ শহর হিসেবে ঘোষণা করার পরেও সরকার ও সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত নিয়ন্ত্রক সংস্থা সমুহের টনক নড়ছে না। এর মূল কারণ সংস্থা সমুহের কর্মকর্তাদের দুর্নীতি ও সরকারদলীয় বাহিনীর চাঁদাবাজি।
যুগ্ম সদস্য সচিব আসাদুজ্জামান ফুয়াদের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন তাজুল ইসলাম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন এবি পার্টির প্রচার সম্পাদক আনোয়ার সাদাত টুটুল, যুবপার্টির আহ্বায়ক এ বি এম খালিদ হাসান ও সহকারী সদস্যসচিব ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ লোকমান। এ সময় ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ লোকমান ঢাকার বিভিন্ন স্থাপনার প্রযুক্তিগত ত্রুটি সমুহ উপস্থাপন করে অবিলম্বে এগুলো সংশোধন করার আহ্বান জানান।