জাতীয় পার্টির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু বলেছেন, রওশন এরশাদের সঙ্গে জাতীয় পার্টির (জাপা) সম্পর্ক ‘স্পর্শকাতর’। এ কারণে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ নেই। রওশন এরশাদের নাম ব্যবহার করে যারা অন্যায় করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে বহিষ্কৃতরা ক্ষমা চাইলে পার্টি চেয়ারম্যান যেন বিবেচনা করেন সে ব্যাপারে অনুরোধ করা হয়েছে।
আজ বুধবার জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের বনানীর কার্যালয়ে দলের প্রেসিডিয়াম ও সংসদ সদস্যদের যৌথ সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা জানান।
এদিকে জাপা এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে যৌথ সভায় সভাপতিত্ব করেন দলের চেয়ারম্যান ও সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা জি এম কাদের। সভাপতির বক্তব্যে জি এম কাদের বলেন, জাতীয় পার্টি কোনো বিশেষ দলকে বাঁচাতে রাজনীতি করবে না। আমরা আমাদের নিজস্ব রাজনীতি নিয়ে এগিয়ে যাব। জনগণের চাহিদা বিবেচনা করে রাজনীতি করব। আমরা গণমানুষের স্বার্থ বিবেচনা করে কর্মসূচি ঘোষণা করব। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই জাতীয় পার্টির সম্মেলন হবে। তার আগে সব জেলা ও উপজেলায় দলের সম্মেলন শেষ করতে হবে। শিগগিরই জাতীয় পার্টির বর্ধিত সভা, ইফতার মাহফিল এবং বিভাগীয় পর্যায়ে সমাবেশ করা হবে।
জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত করার জন্য ১২ অক্টোবর সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে বলে সাংবাদিকদের জানান মুজিবুল হক চুন্নু। তিনি বলেন, এপ্রিল মাসের মধ্যে কেন্দ্রীয় বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে দলের সার্বিক রাজনীতি নিয়ে আলোচনা হবে। আগামী আগস্টের মধ্যে ৩ থেকে ৫ সদস্যের ছোট ছোট কমিটি করে জেলায় জেলায় পাঠানো হবে। তারা দলের সাংগঠনিক শক্তি পর্যালোচনা করে কেন্দ্রে একটি রিপোর্ট দেবে। আগস্টের মধ্যেই সব জেলার সম্মেলন সম্পন্ন করা হবে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মুজিবুল হক বলেন, পার্টির চেয়ারম্যান ও মহাসচিবকে বহিষ্কার করার জন্য কাজী ফিরোজ রশীদের বাসায় মিটিং হয়েছিল। তাই কাজী ফিরোজকে বহিষ্কার করা হয়েছে। আর তথাকথিত সম্মেলন কমিটির সভায় বক্তৃতা করায় সৈয়দ আবু হোসেন বাবলাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। কারণ, বাবলা সাহেব নিজেই পার্টি থেকে চলে গেছেন। দল থেকে বহিষ্কৃত অনেকেই আবার দলে ফিরতে চেয়ে যোগাযোগ করছেন। অমার্জনীয় অপরাধের জন্য যাঁরা বহিষ্কৃত হয়েছেন, তাঁরা ছাড়া অন্য বহিষ্কৃত ব্যক্তিরা ক্ষমা চাইলে চেয়ারম্যান যেন সহানুভূতির দৃষ্টিতে বিবেচনা করেন, সে ব্যাপারে চেয়ারম্যানকে অনুরোধ করা হয়েছে।
সভায় উপস্থিত ছিলেন জ্যেষ্ঠ কো-চেয়ারম্যান আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, কো-চেয়ারম্যান এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার, সালমা ইসলাম, প্রেসিডিয়াম সদস্য হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, গোলাম কিবরিয়া, ফখরুল ইমাম, গোলাম কিবরিয়া টিপু এমপি, হাজী সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলন, নাসরিন জাহান রতনা, ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী, লে. জোনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী (অব.)।