ড. ইউনূসের গ্রামীণ কল্যাণকে দিতে হবে ১০০ কোটি টাকার বেশি আয়কর

শান্তিতে নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ কল্যাণকে ১০০ কোটি টাকার বেশি আয়কর দিতে হবে বলে রায় এসেছে উচ্চ আদালত থেকে। এ বিষয়ে গ্রামীণ কল্যাণের করা ৭টি রেফারেন্স মামলা খারিজ করে আজ বৃহস্পতিবার বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকার ও বিচারপতি সরদার মো. রাশেদ জাহাঙ্গীরের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।

সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা রায়ের বরাত দিয়ে বলেন, গ্রামীণ কল্যাণকে ২০১১ সাল থেকে ২০১৭ অর্থ বছর পর্যন্ত সাত বছরের ১১৯ কোটি টাকা আয়কর পরিশোধ করতে হবে।

আইনজীবীদের তথ্য মতে, গ্রামীণ কল্যাণের পক্ষে ২০১১ থেকে ২০১৭ পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে আয়কর রিটার্ন দাখিল করা হয়। তবে ডেপুটি কমিশনার অব ট্যাক্সেস দাখিলকৃত আয়করের বাইরে তাদের কাছে আরো আয়কর দাবি করে। ডেপুটি কমিশনার অব ট্যাক্সেসের এ দাবির বিরুদ্ধে অ্যাপিলেট জয়েন্ট কমিশনার অব ট্যাক্সেসে যায় গ্রামীণ কল্যাণ। সেখানে ডেপুটি কমিশনার অব ট্যাক্সেসের সিদ্ধান্ত বহাল রেখে গ্রামীণ কল্যাণের আবেদন খারিজ হয়ে যায়। এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গ্রামীণ কল্যাণ আয়কর আপিল ট্রাইব্যুনালে যায়। আপিল ট্রাইব্যুনালে বিভিন্ন সময়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জাতীয় রাজস্ব বোর্ড গ্রামীণ কল্যাণের কাছে ৫৫৫ কোটি টাকা দাবি করে।

তবে, এই সাত বছরে বিভিন্ন সময়ে গ্রামীণ কল্যাণ ৪৩৬ কোটি টাকা পরিশোধ করে বলে জানান সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা। সে হিসেবে এনবিআরের দাবিকৃত আরো ১১৯ কোটি টাকার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে হাইকোর্টে আয়কর রেফারেন্স মামলা করে গ্রামীণ কল্যাণ। গত বছরের মে মাসে এসব মামলার ওপর শুনানি শুরু হয়। আজ শুনানি শেষে এ রায় দেয় হাইকোর্ট।

আদালতে এনবিআরের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন। তাকে সহযোগিতা করেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল তাহমিনা পলি। ড. ইউনূসের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী জিন্নাত আলী।

ব্যারিস্টার তাহমিনা পলি দেশ রূপান্তরকে বলেন, সাতটি রেফারেন্স মামলার মধ্যে ২০১৬-২০১৭ অর্থ বছরের আয়কর সবচেয়ে বেশি ১১৫ কোটি টাকা। তিনি বলেন, ‘প্রতিটি রেফারেন্স মামলায় আমাদের আইনি প্রশ্ন আছে। এসব আইনি প্রশ্নের সবগুলোতে আমরা যুক্তি উপস্থাপন করেছি। ফলে রায় আমাদের পক্ষে এসেছে। গ্রামীণ কল্যাণের আয়কর রেফারেন্স মামলা খারিজ করেছেন হাইকোর্ট। তাদের এখন ১১৯ কোটি টাকা আয়কর দিতে হবে।’

অ্যাডভোকেট জিন্নাত আলী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘হাইকোর্টের রায় আমাদের বিপক্ষে গেছে। এখন এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল হবে কি না তা ম্যানেজমেন্ট (গ্রামীণ কল্যাণ) সিদ্ধান্ত নেবে।’