মোবাইল ফোন পাচার চক্রের সদস্য ৯ ভারতীয় গ্রেপ্তার

মোবাইল পাচার চক্রের ৯ জন ভারতীয় ও ১ জন বাংলাদেশি ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। চক্রটি চোরাই ফোন ছাড়াও ভারত থেকে কসমেটিকস, শাড়ি ও থ্রি-পিস এনে বাংলাদেশে বিক্রি করত। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর মধ্যবাড্ডায় ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ এসব তথ্য জানান। 

অভিযানে ভারতে চুরি হওয়া বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ২১টি স্মার্টফোন, পাঁচটি ভারতীয় পাসপোর্ট, নগদ টাকাসহ, কসমেটিকস, থ্রি-পিস, শার্ট, জুতা ও স্যান্ডেল জব্দ করা হয়।

গ্রেপ্তার ভারতীয়রা হলেন রাজা শাও, পঙ্কজ বিশ্বাস, উৎপল মাইতি, দীপঙ্কর ঘোষ, রাজু দাস, সুজন দাস, এস কে আজগর আলী, লারাইব আশ্রাব ও সমরজিৎ দাস। বাংলাদেশি মো. মুরাদ গাজী।

মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ বলেছেন, বাংলাদেশি মুরাদ গাজী তার বোন ববিকে নিয়ে মধ্যবাড্ডার বাসায় দীর্ঘদিন ধরে অনলাইনে ভারতীয় কাপড়, জুতা স্যান্ডেল, তেল, সাবান, কসমেটিকস বিক্রি করে আসছিলেন। তাদের কাছে নিম্নমানের এসব সামগ্রী বিক্রির বিপুল পরিমাণ রসিদ এবং রসিদ বই পাওয়া গেছে। জব্দ মালামালগুলো অবৈধ পথে আনা হয়েছে। কলকাতা থেকে আন্তঃদেশীয় ট্রেনে তারা কোনো ট্যাক্স পরিশোধ না করেই এসব ভারতীয় পণ্য চোরাই পথে বাংলাদেশ এনে বিক্রি করত।

হারুন অর রশীদ বলেন, বাংলাদেশে নামাজ পড়তে গিয়ে, জনসভায় গিয়ে, চলার পথে বা মার্কেটে গিয়ে প্রতিদিন অনেকের আইফোনসহ নামিদামি ব্র্যান্ডের ফোন চুরি হচ্ছে। এসব ঘটনায় চোররা ধরা পড়লেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ফোন উদ্ধার হয় না। গ্রেপ্তার কয়েকজন এবং তাদের অন্য সহযোগীরা বাংলাদেশে চুরি হওয়া নামিদামি ফোনগুলো স্বল্প দামে কিনে ভারতের বাজারে বিক্রি করে।

এদিকে গত তিন মাসে ঢাকাসহ সারা দেশে হারানো ১১২টি মোবাইল উদ্ধার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গতকাল সিআইডি কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সিআইডি প্রধান ও অতিরিক্ত আইজিপি মোহাম্মদ আলী মিয়া এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, দেশে চুরি হওয়া মোবাইল ফোনগুলো কয়েকটি হাত বদল হয়। একপর্যায়ে ওইসব মোবাইল ফোনে থাকা গোপন কনটেন্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে প্রকৃত মালিকদের জিম্মি করা হয়।

এ সময় আসন্ন রমজানে ঢাকা সিটিতে কেউ যাতে উদ্দেশ্যমূলকভাবে দ্রব্যমূল্য নিয়ে কারসাজি করতে না পারে, সেজন্য নজরদারি করা হচ্ছে উল্লেখ করে সিআইডি প্রধান বলেন, ‘আমরা ১২টি টিম গঠন করে দিয়েছি। তারা মাঠে কাজ করছে, নজরদারি চালাচ্ছে। যারা ইচ্ছেকৃতভাবে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ানোর পাঁয়তারা করছে, তাদের ওপর বিশেষ নজরদারি থাকছে। কেউ যাতে দাম বাড়াতে না পারেন, সেটিই ১২টিমের কাজ। যে ব্যবসায়ীরা মজুদদারি, কালোবাজারি করছেন, নজরদারিতে ধরা পড়লে তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।