ডেথ ওভার নিয়ে শঙ্কিত হাথুরু খুশি শরিফুলদের উন্নতিতে

সিলেট থেকে খালি হাতে ফিরে না বাংলাদেশ। ইতিহাস অন্তত তাই বলে। ১৯৪৭ সালে ভারত-পাকিস্তান নামে আলাদা দুটি রাষ্ট্রের যখন জন্ম হয়, তখনও গণভোটে সিলেটবাসি হতাশ করেনি। তেমনিভাবে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম কিংবা স্থানীয় দর্শকরাও জাতীয় ক্রিকেট দলকে আশাহত করেননি। গ্যালারিজুড়ে তাদের সরব উপস্থিতি গোটা বিশ্বই দেখেছে। পাশাপাশি স্পোর্টিং উইকেটের সুনামও প্রশংসা কুড়িয়েছে। এই মাঠে খেলে লাল-বলে যেমন সফল, সাদা বলেও তেমনি উজ্জ্বল নাজমুল হোসেন শান্তর দল। সেখানেই আজ এক ইতিহাস গড়ার দ্বারপ্রান্তে জাকের আলি অনিকরা।

গত কয়েক বছরে বিশ্ব স্বাক্ষী হয়েছে কতশত ঘটনার। করোনা অতিমারি শেষে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ। দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতিসহ নানান কিছু। তাতে অর্থনীতির চাকাও মোড় নিয়েছে নতুন এক পথের দিকে। তবে একটা ক্ষেত্রে অবস্থান একই আছে। সেটা শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাংলাদেশ এখনও টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়হীন। লাক্কাতুরা চা বাগানের বুকে সবুজ স্টেডিয়ামে প্রথম ম্যাচে ৩ রানে হারের পর দ্বিতীয়টিতে ৮ উইকেটের বড় জয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ। তাতেই প্রথমবার লঙ্কানদের বিপক্ষে সিরিজ জয়ের হাতছানি। টাইগারদের প্রধান কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহের ইতিহাস গড়াতে যেমন ঝুঁক আছে, তেমনি চোখ রাখছেন আগামী জুনে ওয়েস্টইন্ডিজ-যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিতব্য টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দিকেও।

গতকাল সকালে দলের প্রতিনিধি হয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসে এ কথা তিনি জানালেন। বললেন, ‘আপনি যেমন বললেন, আমরা ইতিহাসটা বদলানোর দ্বারপ্রান্তে আছি।’

তবে সে পথে বাঁধা হয়ে দাঁড়াতে পারেন শ্রীলঙ্কান লেগ স্পিনার ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা। তার লেগ স্পিনের ভেলকিতে গুটিয়ে যেতে পারে বাংলাদেশ। আফগানিস্তান সিরিজে আম্পায়ারের সঙ্গে অসদাচরণের দায়ে দুই ম্যাচ নিষিদ্ধ ছিলেন তিনি। যে কারণে প্রথম দুই ম্যাচ খেলতে পারেননি তিনি। সেটা শেষ হওয়াতে শেষ ম্যাচে দুয়ার খুলেছে তার। তবে তাকে নিয়ে কোনো শঙ্কা নেই হাথুরুর মনে। কারণ হিসেবে তিনি বলেছেন, ‘ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা আমাদের জন্য অন্যদের মতোই একজন ক্রিকেটার।’

সিরিজ জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী হলেও আগের দুই ম্যাচ হয়েছিল রাতে। এবারের ম্যাচটি হবে দিনে। তাই অনেক বিষয় বিবেচনার বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘আমরা সিরিজটা জেতার মতো অবস্থানে আছি। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে ম্যাচটা জেতা। ম্যাচটা যেহেতু দিনে, আমাদের বেশ কিছু বিষয় বিবেচনায় রাখতে হবে। আমরা যদি আমাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারি, তাহলে আমাদের ভালো সুযোগ থাকবে ম্যাচটা জেতার। তবে এটাও বলব, শ্রীলঙ্কা খুবই ভালো টি-টোয়েন্টি দল। যা-ই হোক, আমরা নিজেদের খেলায় মনোযোগ দেওয়ার চেষ্টা করছি।’

তবে বাংলাদেশি বোলারদের সমস্যা ডেথ বোলিংয়ে। প্রথম ম্যাচে হারের মূল কারণ ছিল সেটাই। শেষ ৪ ওভারে ৬৩ রান দিয়েছিল টাইগাররা। শেষ ওভারে মোস্তাফিজুর রহমানকে বেধরক পিটিয়েছেন শ্রীলঙ্কান ব্যাটসম্যানরা। সেই প্রসঙ্গে জিজ্ঞেস করতে হাথুরু বলেন, ‘আমরা জানি আমরা কী করতে পারি। আমরা প্রতিনিয়ত ডেথ বোলিং নিয়ে কাজ করছি। আমরা এখন ভিন্ন ধরনের উইকেটে খেলছি। যেখানে ঘাস থাকায় বল ক্যারি করবে। আমরা এমন উইকেটে খেলতে চেয়েছিলাম যা হাই স্কোরিংয়ের জন্য উপযোগী। বোলিংয়ে আমাদের কোন জায়গায় উন্নতি করতে হবে তা বোঝানোর জন্য। এটাও একটা মানসিকতার পরিবর্তন। আপনি যখন উইকেটে বোলিং করছেন যেখানে ১৫০ রান একটি জয়ী স্কোর, আপনি একটি নির্দিষ্ট উপায়ে বোলিং করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। (সিলেটে) ওভার প্রতি আট রান খুব ভালো। আপনি অন্য দিন দেখেছেন যে ১৬০ কোনো সমান স্কোর নয়। পাওয়ার প্লেতে চার উইকেট হারানোর পরও আমরা প্রায় ২০০ রানে পৌঁছে গিয়েছিলাম। এই ফ্যাক্টরগুলোও আমাদের বুঝতে হবে। আমাদের বোলিং ইউনিট যেভাবে গড়ে উঠছে তাতে আমি সন্তুষ্ট।’

তবে দ্বিতীয় ম্যাচে ঘুরে দাঁড়িয়েছিলেন শরিফুলরা। তাতে ১৬০ রানের মধ্যেই বেঁধে রাখা সম্ভব হয়েছিল। ফলে ৮ উইকেটের জয় পেয়েছিল। তবে শঙ্কা ছিল শরিফুল ইসলামের চোট নিয়ে। সেই শঙ্কা উড়িয়ে হাথুরু বলেছেন খেলার সম্ভাবনা আছে এই পেসারের।