হারের ব্যথা ছক্কায় ভোলালেন রিশাদ-তাসকিন

শেষ চার ওভারে বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল ৬০ রান, মানে হিসাবটা দাঁড়ায় দশটা ছক্কার। কেননা তার আগে একের পর এক ছক্কাই হাঁকাচ্ছিলেন রিশাদ হোসেন। ৭ ছক্কায় ৩০ বলে ৫৩ করা রিশাদ যখন আউট হলেন তখনই পুরোপুরি ভেঙ্গে যায় লঙ্কানদের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়ের স্বপ্ন। এর আগে নুয়ান থুশারার হ্যাটট্রিকের পর গড়া ধ্বংসস্তুপ থেকে ফিনিক্স পাখির মতো একাই বাংলাদেশকে টেনে তুলছিলেন রিশাদ হোসেন। তাতে বাংলাদেশ ম্যাচ ও সিরিজ হারলেও ঝলক দেখিয়েছে লড়াকু মানসিকতার। ইনিংসের দুই বল বাকি থাকতে ১৪৬ রানে অলআউট হওয়া বাংলাদেশের হারের ব্যবধান ২৮ রানের।

সিরিজ জয়ের জন্য বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল ১৭৫ রান। বাংলাদেশ ইনিংসের চতুর্থ ওভারে বোলিংয়ে আসেন লঙ্কান পেসার নুয়ান থুশারা। প্রথম বলটি যেমন তেমন করলেও পরের তিন বলে শান্ত, হৃদয় ও রিয়াদকে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিক করেন তিনি। তাতে দলীয় ১৫ রানে ৮ বলের ব্যবধানে নেই বাংলাদেশের ৪ উইকেট।

এর আগের ওভারে প্রথম বল করেই ইনজুরিতে পড়ে মাঠ থেকে বেরিয়ে যান অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউস। তার অসমাপ্ত ওভার পুর্ণ করতে এসে প্রথম বলেই লিটন দাসের উইকেট তুলে নেন ধনঞ্জয়া ডি সিলভা। প্রথম দুই ম্যাচে একাদশে ছিলেন না ধনঞ্জয়া ও থুশারা।

থুশারার প্রথম উইকেট নাজমুল হোসেন শান্তর। ক্রিজে আসা শান্ত তার করা ইনসুইঙ্গিং ডেলিভারি খেলতেই পারেননি। ব্যাট ও প্যাডের ফাঁক গলে তা উপড়ে নিয়ে যায় স্টাম্প। পরের বলটি আরো চমৎকার। এবার প্রায় একই রকম ডেলিভারিতে স্টাম্প উড়ে যায় তাওহীদ হৃদয়ের। মাঠ ছাড়ার আগে লঙ্কান খেলোয়াড়দের সঙ্গে বিতণ্ডায় জড়ান হৃদয়।

পরের বলটি করেন আউট সুইং। তাতে আম্পায়ার্স কলে লেগ বিফোর হয়ে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ফিরলে পূর্ণ হয় থুশারার হ্যাটট্রিক। চাপ সামলাতে বিনুরার পরের ওভারে দুটো চার হাঁকান সৌম্য। তবে থুশারা ফিরে এসে নিজের পরের ওভারের তৃতীয় বলে আউট করেন সৌম্য সরকারকেও। বাঁহাতি সৌম্যর জন্য আসা ইনসুইংয়ের জবাব দিতে পারেননি ব্যাটে। হয়েছেন বোল্ড। বাংলাদেশের বিপক্ষে দ্বিতীয় লঙ্কান বোলার হিসেবে টি-টোয়েন্টিতে হ্যাটট্রিক করেন থুশারা। শেষে এসে শরিফুলের উইকেট নিয়ে ম্যাচে ৫ উইকেট শিকার করেন তিনি। চতুর্থ শ্রীলঙ্কান হিসেবে টি-টোয়েন্টিতে ৫ উইকেট শিকার করলেন থুশারা। ২০ রানে ৫ উইকেট শিকারের পাশাপাশি চার ওভারের তিনটিই করেছেন উইকেট মেডেন। 

শান্তকে বোল্ড করে প্রথম উইকেট পান থুশারা

সেই তালে ৩২ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ফেলা বাংলাদেশ লড়াইয়ে এতোদূর আসবে তা কেউ ভাবতে না পারলেও ভেবেছিলেন রিশাদ। শেখ মেহেদির সঙ্গে ৪৪ ও তাসকিনের সঙ্গে ৪১ রানের জুটি গড়ে দলকে টেনে নিয়ে আসেন রিশাদ। ক্যারিয়ারের প্রথম ফিফটি করেন ২৬ বলে। ইনিংসে ছক্কা হাঁকান ৭টি। তাতে ভাঙেন প্রথম ম্যাচে জাকেরের গড়া রেকর্ড। এক ইনিংসে সর্বোচ্চ ৬ ছক্কা হাঁকিয়েছিলেন জাকের।  এই ম্যাচে ৭ ছক্কা হাঁকিয়ে সে রেকর্ড এখন রিশাদের। 

২১ বলে ৩ চার ও ২ ছয়ে ৩১ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন তাসকিন। পুরো ইনিংসে রিশাদ ৭টি, তাসকিন ২টি ও মোস্তাফিজ ১টি ছক্কা হাঁকান। পুরো সিরিজে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা হাঁকিয়েছেন ২৫টি ছক্কা।

শ্রীলঙ্কা ইনিংসে একাই লড়াই করেন কুশল মেন্ডিস। শুরুতে সতীর্থদের ভালো সঙ্গ পেয়েছেন। তবে শেষ বেলায় তাসকিন আহমেদ ও রিশাদ হোসেনের কবলে পড়েন তারা। তাতে উইকেট বিলিয়ে আসছিলেন। মেন্ডিস ৮৬ রান করে ফিরে যাওয়ার পরও ১৭৪ রান পর্যন্ত পৌঁছায়  শ্রীলঙ্কা।

৮৬ রান করেন কুশল মেন্ডিস

শেষ ওভারে এসে মোস্তাফিজ দিলেন ১৪ রান। ৪ ওভারে তিনি দিয়েছেন ৪৭ রান। শেষ বলে লিটনের দারুণ ‘নো লুক’ থ্রো-তে রানআউট হয়েছেন দাসুন শানাকা, তাতে ১ রান কম পেয়েছে শ্রীলঙ্কা। ডেথ ওভারে বাংলাদেশের বোলিং পারফরম্যান্স দারুণই বলতে হবে। শেষ ৫ ওভারে শ্রীলঙ্কা তুলতে পেরেছে ৩৫ রান, ১৪ রানের শেষ ওভারের পরও। শ্রীলঙ্কা থামে ৭ উইকেটে ১৭৪ রানে।

পাওয়ারপ্লেতে উইকেট হারিয়ে আবার ধাক্কা খায় শ্রীলঙ্কা। মাঝের ওভারগুলোতে অবশ্য তাদের টানেন কুশল মেন্ডিস। তবে তার সঙ্গে সে অর্থে কার্যকরী জুটি গড়েছিলেন শুধু ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা, তৃতীয় উইকেটে ওঠে ৩১ বলে ৫৯ রান।