কথাসাহিত্যিক সুবোধ ঘোষের জন্ম ভারতের বিহারে ১৯০৯ সালে। পরিবারের আদিনিবাস বিক্রমপুরে। হাজারীবাগের সেইন্ট কলম্বাস কলেজের ছাত্র ছিলেন তিনি। অভাব-অনটনের জন্য পড়াশোনা ছেড়ে দিয়ে কর্মক্ষেত্রে ঝাঁপিয়ে পড়েন। কর্মজীবন শুরু করেন বিহারের আদিবাসী অঞ্চলে বাসের কন্ডাক্টর হিসেবে। পরে সার্কাসের ক্লাউন, মুম্বাই পৌরসভার চতুর্থ শ্রেণির কাজ, চায়ের ব্যবসা, বেকারির ব্যবসা ইত্যাদি কাজে তিনি প্রথম জীবন ব্যয় করেন। এর পর আনন্দবাজার পত্রিকার রবিবাসরীয় বিভাগে সহকারী হিসেবে চাকরি নেন। প্রতœতত্ত্ব, পুরাতত্ত্ব, এমনকি সামরিক বিদ্যায়ও তার যথেষ্ট দক্ষতা ছিল। তার লেখালেখির কালপর্ব ১৯৪০ থেকে ১৯৮০। একটু বেশি বয়সে সাহিত্যাঙ্গনে যোগদান করেও নিজস্ব মেধা, মনন আর লব্ধ অভিজ্ঞতার আলোকে তার রচনা সম্ভারের মাধ্যমে নিজেকে সুপ্রতিষ্ঠিত করতে সমর্থ হন। তার ‘অযান্ত্রিক’ এবং ‘ফসিল’ গল্প বাংলা সাহিত্যের যুগান্তকারী সৃষ্টি। ভাষার ওপর অনায়াস দক্ষতার প্রমাণ মেলে তার বিভিন্ন গল্পে। শুধু গল্পকার হিসেবেই নন, উপন্যাস রচনায়ও ঋদ্ধতার প্রমাণ রেখেছেন। ‘তিলাঞ্জলি’ তার অন্যতম উপন্যাস। আনন্দ পুরস্কার, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগত্তারিণী পদকসহ নানা পুরস্কার লাভ করেছেন। ১৯৮০ সালের ১০ মার্চ তিনি মৃত্যুবরণ করেন।