সকলেই আগুন নেভাতে যখন ব্যস্ত শিশু আল-আমিন আগুনে পুড়ে মৃত অবস্থায় খাটের নিচে পড়ে ছিল। আগুন নেভানোর পর ধ্বংসাবশেষ সরানোর সময় পাওয়া যায় আট বছরের শিশু আল-আমিনের পোড়া হাড়-কঙ্কাল।
গতকাল শনিবার (৯ মার্চ) রাত সাড়ে ১১টার দিকে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে উপজেলার সরিষা ইউনিয়নের খানপুর গ্রামের কৃষক মো. নূরুল হক (৫৫) বাড়িতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। পোড়া ধ্বংসাবশেষ ও শিশু মরহেদ থেকে বের হচ্ছিল দুর্গন্ধ। রাতেই পারিবারিক কবরস্থানে আল-আমিনকে দাফন করা হয়। নিহত শিশু ওই বাড়ির জুয়েল মিয়ার ছেলে।
রাতে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে হাজির হয় ঈশ্বরগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের একটি টিম। ততক্ষণে আগুনে পুড়ে সব ছাই হয়ে যায়। ভুক্তভোগী পরিবার ও ফায়ার সার্ভিস বলছে, কৃষকের গোয়াল ঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
আজ রবিবার (১০ মার্চ) সকালে সরেজমিন পরিদর্শন করে দেখা যায়, আগুনে পুড়ে ঘরগুলোর শেষ চিহ্নটুকুও নেই। যেখানটায় ঘর ছিল তার ভিটার ওপর শুধু ছাই। ক্ষতিগ্রস্ত মো. নূরুল হক জানান, আমার এক নাতি আগুনে পুড়ে মারা গেছে। গোয়ালঘর ও বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। গোয়ালে থাকা একটি গরু ও একটি ছাগলসহ নগদ ১৮ হাজার টাকা ও বাড়ির আসবাবপত্র সব আগুনে পুড়ে শেষ হয়ে গেছে।
নিহত শিশুর বাবা জুয়েল মিয়া বলেন, আগুন লাগার সময় আমার ছেলে আল আমিন ঘরের ভেতরে ছিল আমরা কেউ বুঝতেই পারিনি। আমার অবুঝ ছেলেটা এভাবে আগুনে পুড়ে মারা যাবে আমি এটা মানতেই পারছিনা।
ঈশ্বরগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার দেলোয়ার হোসেন বলেন, আমাদের আগুন লাগার খবর দওয়া হয় ১১ টা ৩২মিনিটের দিকে। আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি আগুন নিভে গেছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও মো. আরিফুল ইসলাম প্রিন্স বলেন, ‘আসলে এটি একটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। সংবাদটি শুনে সকালেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে আমরা সরকারিভাবে সহযোগিতা করতে ব্যবস্থা গ্রহণের বলেছি।