বিবাহিত নারীর সঙ্গে সম্মতিসূচক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ধর্ষণের অভিযোগ টেকে না বলে জানিয়েছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট।
সম্প্রতি মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের রায় খারিজ করে বিচারপতি রবিকুমার এবং রাজেশ বিন্দলের বেঞ্চ এক ব্যক্তিকে মুক্তি দিয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট বলেছে, সম্পর্কে থাকাকালীনই ডিভোর্স হয়ে গেছে বলে প্রমাণ করতে পারেননি নারী। সে ক্ষেত্রে বিয়ের ভুয়া প্রতিশ্রুতির প্রশ্ন উঠছে না।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, মামলাটি ২০২০ সালের। মধ্যপ্রদেশের সাতনা থানায় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা দায়ের করেন এক নারী। তিনি অভিযুক্তের চেয়ে বয়সে ১০ বছরের বড়। তার বাড়িতেই ভাড়া থাকতেন অভিযুক্ত। ওই নারীর সঙ্গে থাকতেন তার মেয়ে এবং মা-বাবা।
২০১৭ সাল থেকে দুজনের মধ্যে সম্পর্কের সূত্রপাত। ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে মন্দিরে গিয়ে ঘরোয়া ভাবে বিয়েও করেন। তার পর থেকে একসঙ্গেই থাকছিলেন। বিরোধের সূত্রপাত হয় পরের বছর। অভিযোগ, ওই নারী সরকারি ভাবে বিয়ে করতে চাইলে অভিযুক্ত রাজি হননি। এরপরেই ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করেন নারী।
সুপ্রিম কোর্ট বলেছে, ওই নারী এফআইআরে দাবি করেন ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে তার ডিভোর্স হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু নথিতে দেখা যাচ্ছে, তার ডিভোর্স হয়েছে ২০২১ সালের জানুয়ারিতে। অর্থাৎ বিবাহিত অবস্থায় তিনি সম্পর্কে জড়িয়েছেন।
বিচারপতি রাজেশ বিন্দল রায়ে লিখেছেন, বাদী নাবালিকা নন। এমন নয় নিজের ভাল-খারাপ বোঝার ক্ষমতা তার ছিল না বা কোন কাজের কী পরিণতি হতে পারে সেটা তিনি জানতেন না। তিনি যা করেছেন জেনে-বুঝে করেছেন। বস্তুত নিজের স্বামীর সঙ্গে প্রতারণা করেছেন।
অপরদিকে সম্পর্ক শুরুর সময় অভিযুক্ত বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন এমন প্রমাণ নেই বলে জানিয়েছে আদালত। বরং ২০১৮ সালে ওই ব্যক্তি কাজের জন্য মহারাষ্ট্রে চলে যান। এরপর থেকে তিনি মাঝে মাঝে আসতেন এবং তারা স্বামী-স্ত্রীর মতো থাকতেন। সব দিক খতিয়ে দেখেই হাইকোর্টের রায় খারিজ করেছে সুপ্রিম কোর্ট। এছাড়াও অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মামলাটি খারিজ করে দিয়েছে।