সোনারগাঁয়ে নির্বাচনী সহিংসতা

বিজয়ী প্রার্থীসহ ২১ জনের বিরুদ্ধে মামলা

সোনারগাঁয়ে নির্বাচনী সহিংসতায় গুলিতে হৃদয় ভূঁইয়া নিহতের ঘটনায় গত শনিবার রাতে হৃদয়ের বড় ভাই মো. ইকবাল হোসেন ভূঁইয়া বাদী হয়ে ২১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় বেশ কয়েকজনকে আসামি করে মামলা করেছেন। মামলায় নির্বাচনে বিজয়ী প্রার্থী আজিজ সরকারকে প্রধান আসামি করা হয়েছে।

সোনারগাঁ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মহসিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে এখনো এ মামলায় কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। সংঘর্ষের ঘটনায় আরও একটি মামলা প্রক্রিয়াধীন বলে জানা গেছে।

তবে শনিবার নিহতের পরিবার দাবি করেছিল, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গুলিতেই হৃদয় নিহত হয়েছেন। এক দিনের ব্যবধানে গতকাল রবিবার তাদের বক্তব্য পাল্টে বলেছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে নয়, বিজয়ী প্রার্থীর সমর্থকদের গুলিতেই হৃদয় নিহত হয়েছেন। তবে এলাকাবাসী বলছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতেই নিহত হয়েছেন হৃদয়।

শনিবার বিকেলে উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের উপনির্বাচন শেষে নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপজেলা নির্বাচন অফিসে ফেরার পথে পরাজিত প্রার্থীরা ফলাফলে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে ব্যালট বাক্স ছিনিয়ে নেন। এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে পরাজিত প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষ বাধে। পরে এই সংঘর্ষ ত্রিমুখী সংঘর্ষে রূপ নেয়। সংঘর্ষে পুলিশ পরিদর্শকসহ ২০ জন আহত হয়।

নিহত হৃদয় ভূঁইয়া (২৩) দুধঘাটা গ্রামের আমির আলী ভূঁইয়ার ছেলে। তিনি ইউপি সদস্য প্রার্থী কায়সার আহম্মেদ রাজুর সমর্থক। নির্বাচনে মোরগ প্রতীকে আবদুল আজিজ সরকার ও তালা প্রতীকে কায়সার আহম্মেদ রাজু প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। দুধঘাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ শেষে আজিজ সরকার মোরগ প্রতীকে ৯২৯ ভোট এবং তালা প্রতীকে কায়সার আহম্মেদ রাজু ৮১১ ভোট পান।

নিহত হৃদয়ের আরেক ভাই জহিরুল ইসলাম বলেন, নির্বাচনে রাজু জয়ী হন। কিন্তু পুলিশ ও প্রশাসনের লোকজন আজিজ সরকারকে জয়ী ঘোষণা করে চলে যাওয়ার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে ফের ভোট গণনার অনুরোধ করলে আজিজ সরকার বহিরাগত লোকজন নিয়ে গুলি করেন। এ সময় পুলিশও রাজুর সমর্থকদের ওপর গুলি চালায়।

তিনি জানান, তার ভাই পেশায় টাইলস মিস্ত্রি ছিলেন। তিনি কোনো রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। তাকে আজিজ সরকারের ভাড়াটিয়া বহিরাগত সন্ত্রাসীরা গুলি করে হত্যা করেছে।