কারেন্ট জাল উৎপাদন বন্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে: প্রাণিসম্পদমন্ত্রী

মৎস্য সম্পদ ধ্বংসকারী অবৈধ কারেন্ট জালসহ সকল প্রকার নিষিদ্ধ জাল উৎপাদন বন্ধে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মো. আব্দুর রহমান।

আজ সোমবার দুপুরে চাঁদপুর মোলহেডে জাতীয় জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ-২০২৪ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী আরো বলেন, কোনো না কোনো ফাঁক-ফোকর কাজে লাগিয়ে আমাদের দেশে ইলিশ সম্পদ বিনষ্টকারী কারেন্ট জাল উৎপাদন হচ্ছে। তাই ইলিশ সম্পদ রক্ষায় সবার আগে কারেন্ট জালের খোয়ারগুলোকে ভেঙে চুরমার করে দিতে হবে। আমরা যদি কারেন্ট জালের উৎসমূল বন্ধ করতে পারি তবে জেলেরা এই জাল ব্যবহারের সুযোগ পাবে না।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, চাঁদপুরে জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহের এই অনুষ্ঠানে কারেন্ট জাল উৎপাদন বন্ধের দাবি উঠেছে। আমরা যদি কারেন্ট জালের উৎসমূল যদি বন্ধ করতে পারি, তবে জেলেদের আর এই জাল ব্যবহারের কোনো ছিদ্র থাকবে না। যেই ছিদ্র দিয়ে জেলেরা কারেন্ট জাল ব্যবহার করে জাটকা ইলিশ নিধন করছে।

তিনি বলেন, জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহের এই অনুষ্ঠান মূলত একটি সচেতনতামূলক সামাজিক ক্যাম্পেইন। যার মূল লক্ষ্যই হলে মানুষকে জাগ্রত করা। শুধুমাত্র প্রশাসন দিয়ে জাটকা নিধন বন্ধ করা যাবে না। মানুষকে জাগ্রত করতে হবে। এটি যদি আমরা করতে পারি, তাহলে এক সময়ের ভরা যৌবনের চাঁদপুর আবারো ইলিশের যৌবনে ভরে যাবে। যা স্মার্ট বাংলাদেশ গড়বার বড় ভূমিকা পালন করবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।

চাঁদপুরসহ দেশের অন্যান্য নদীগুলোর নাব্যতা সংকট দূর করতে ও অভয়াশ্রামে জেলেদের প্রণোদনা বৃদ্ধির জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টি আকর্ষণের আশ্বাস প্রদান করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে জাটকা ধরা বন্ধ করতে হবে। শুধু নদীতে অভিযান চালালে হবে না। মুন্সীগঞ্জসহ যেখানে কারেন্ট জাল উৎপাদন করা হয় সেই কারখানা বন্ধ করতে হবে। তা না হলে এই জালের ব্যবহার রোধ করা সম্ভব হবে না। কোনো জেলে যেন সরকারি সহায়তার বাইরে না থাকে সেদিকে মৎস্য মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

দীপু মনি বলেন, নৌ পুলিশের কিছু কিছু সদস্য জেলেদের হয়রানি করেন। এগুলো কোনোভাবে কাম্য নয়। অনেক জেলে সরকারি সহায়তা পেয়েও নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জাটকা ধরতে নদীতে নামেন। যা মোটেও ঠিক নয়। আইন অমান্যকারীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাৎ সেলিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান, নৌ-পুলিশ চাঁদপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ কামরুজ্জামান, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সৈয়দ মো. আলমগীর পৌর মেয়র জিল্লুর রহমান জুয়েল, চাঁদপুর প্রেস ক্লাব সভাপতি সাহাদাত হোসেন শান্ত প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।