দেশ রূপান্তর পত্রিকার শেরপুরের নকলা উপজেলা সংবাদদাতা শফিউজ্জামান রানা তথ্য অধিকার আইনে তথ্য চাওয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে ৬ মাসের কারাদণ্ডের ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে কুড়িগ্রামের সাংবাদিক মহল। স্থানীয় সাংবাদিকরা শফিউজ্জামান রানার মুক্তি ও নকলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাদিয়া উম্মুল বানিনের তদন্ত সাপেক্ষে বিভাগীয় শাস্তির দাবি করেন তারা। সোমবার (১১ মার্চ) সাংবাদিকরা এ দাবি করেন।
এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ আলমগীর বলেন, নকলায় সাংবাদিকের সাথে উপজেলা প্রশাসন যে ব্যবহার করেছে এবং তার ছোট সন্তানের সামনে আদালত বসিয়ে যে সাজা দেয়া হয়েছে তার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। বিষয়টি স্বতন্ত্রের সাথে তদন্তের দাবি জানাচ্ছি।
কুড়িগ্রাম সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের আহ্বায়ক ও কুড়িগ্রাম প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শ্যামল ভৌমিক বলেন, বিষয়টি আমি জেনেছি। তথ্য চাওয়াকে কেন্দ্র করে এই ঘটনাটি ঘটেছে। তথ্য পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করা গেলে এ ধরনের ঘটনা এড়ানো সম্ভব। তার পরেও সাংবাদিকদেরকে সংবাদ সংগ্রহের ক্ষেত্রে প্রশাসনের প্রতিটি স্তর থেকে সহযোগিতা করা উচিত। সব ক্ষেত্রে আইনের খড়গ সাংবাদিকদের উপর চাপানো ঠিক না। এতে সুষ্ঠু ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।
কুড়িগ্রামের স্থানীয় সাংবাদিক ওয়াহিদুজ্জামান তুহিন বলেন, দুর্নীতির বলি সাংবাদিকে বানানো যাবে না। তথ্যের সঠিক প্রবাহ নিশ্চিত করতে পারলে সংবাদকর্মীদের সাথে এমন অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানো যাবে।
চলতি মাসের ৫ মার্চ শেরপুর জেলার নকলা উপজেলা নির্বাহী কার্যালয়ে একটি তথ্য চেয়ে আবেদন করতে যান দেশ রূপান্তর পত্রিকার সাংবাদিক শফিউজ্জামান রানা। সেখানে কথাকাটাকাটির পর ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে ইউএনও’র নির্দেশে সাংবাদিক শফিউজ্জামান রানাকে ৬ মাসের কারাদণ্ড প্রদান করেন এসিল্যান্ড। ওই সাজায় বর্তমানে দেশ রূপান্তরের সাংবাদিক রানা কারাগারেই রয়েছেন।