প্রথমবারের মতো জবিতে নারী দিবস উদযাপন

প্রথমবারের মতো জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদযাপন করা হয়েছে।

সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়োজনে একাত্তরের গণহত্যা ও মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতির ভাস্কর্য চত্বরে নারী দিবসের আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। নৃত্য বিন্যাসের মাধ্যমে চারজন মহীয়সী নারী-কে স্মরণের মধ্য দিয়ে আলোচনা শুরু হয়।

বরেণ্য অর্থনীতিবিদ ড. সেলিম জাহান মুখ্য আলোচকের বক্তব্যে বলেন, এবারের নারী দিবসের প্রতিপাদ্য অনুযায়ী নারীতে বিনিয়োগের মাধ্যমে প্রগতি ত্বরান্বিত হবে। নারীতে বিনিয়োগযোগ্য বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে-নারীর সমতা, স্বক্ষমতা ও সুযোগের গুরুত্ব দেয়া। এছাড়াও উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ হচ্ছে নারীর কল্যাণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ।

সভাপতির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম বলেন, নারী না থাকলে সভ্যতা তৈরি হতো না, আর ইতিহাস নারী পুরুষ সবাই মিলেই তৈরি করে থাকে। মূল সমস্যা হচ্ছে সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক বৈষম্য যা আমাদের অনেক সময় সহিংসতা, ইভটিজিং ও অনাকাঙ্ক্ষিত অশ্লীল ঘটনার জন্ম দেয়।

তিনি বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নারীর ক্ষমতায়নে বিশ্বাসী। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নারীদের দক্ষতা অনুযায়ী তাদের সুযোগ দিচ্ছেন। তাছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধক সেল গঠন করে দিয়েছেন। শিক্ষা, সংস্কৃতি ও খেলাধুলায় বাংলাদেশের মেয়েরা এগিয়ে যাচ্ছে। আমাদের নারীর প্রতি মানসিকতা পরিবর্তন করতে হবে, নারীকে মানুষ ভাবতে হবে। আর নারী-পুরুষ সমতা নয় বরং ন্যায্যতা দিতে হবে।

বিশেষ অতিথি হিসেবে ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. হুমায়ুন কবীর চৌধুরী বলেন, জাতীয় পর্যায়ে নারীরা যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে ভবিষ্যতে নারী শাসন সমাগত হবে।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদান করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. জাকির হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক ড. শেখ মাশরিক হাসান।