কৃষিতে সেচের জন্য সারা দেশে প্রায় চার হাজার সৌরবিদ্যুৎচালিত সেচপাম্প স্থাপন করা হয়েছে। যার মাধ্যমে প্রায় ৬৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। এর ফলে গ্রিড বিদ্যুতের ওপর চাপ কমার পাশাপাশি কমেছে ডিজেলের ব্যবহার। পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর কার্বন-দূষণ কমানোর ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের ফলে কৃষিতে উৎপাদন খরচও কমেছে।
গতকাল সোমবার রাজধানীতে টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্র্তৃপক্ষ (স্রেডো) আয়োজিত আলোচনা সভায় এমন তথ্য উঠে এসেছে। সারা দেশে দ্রুত সোলার ইরিগেশন বা সৌরবিদ্যুৎচালিত সেচপাম্প বাস্তবায়ন করার বিষয়ে ওই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বর্তমানে প্রায় ৪ হাজার সৌরবিদ্যুৎচালিত পাম্পের পাশাপাশি ডিজেলচালিত ১২ লাখ ৪৩ হাজার ৫০৭টি পাম্প এবং বিদ্যুৎচালিত পাম্পের সংখ্যা রয়েছে ৩ লাখ ৩৮ হাজার ৮৪৭টি। ডিজেলচালিত পাম্পের কারণে প্রতিবছর অন্তত ৮ হাজার ৮৫২ কোটি টাকা ব্যয় হয় আমদানিতে। এর ফলে বিপুল পরিমাণ অর্থব্যয়ের পাশাপাশি কার্বন ইমিশন হচ্ছে, যা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। এ পাম্পগুলো সৌরবিদ্যুতের আওতায় আনা গেলে কৃষক তুলনামূলক কম খরচে সেচ দিতে পারবেন।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ¦ালানি ও খনিজসম্পদবিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী বীরবিক্রম বলেন, ‘সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার আলোকে সোলার ইরিগেশন পাম্পের ব্যবহার বাড়াতে হবে। এ ছাড়া কপ-২৮-এ ঘোষণাকৃত ‘লস অ্যান্ড ড্যামেজ’ ফান্ড থেকে প্রতিশ্রুত অর্থায়ন পেতে উদ্যোগ নিতে হবে আমাদের।’
তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ঈদের পর একটি কমিটি গঠন করে দেওয়া হবে, যাতে কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে পৌঁছাতে কার্যকর ভূমিকা রাখা যেতে পারে। সেচে পরিমাণের চেয়ে বেশি পানি ব্যবহার থেকেও আমাদের বিরত থাকা দরকার।’
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, সোলার ইরিগেশন পাম্পের ব্যাপক প্রসারে ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস চালাতে হবে। ডিজেল পাম্পের ব্যবহার কমাতে পারলে কার্বন-দূষণের পরিমাণও কমবে। একই সঙ্গে পরিবেশ সংরক্ষণের পাশাপাশি বিপুল পরিমাণে বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে ১২ লাখ ৪৩ হাজার ডিজেল পাম্প রয়েছে, যা সোলার ইরিগেশন পাম্পে রূপান্তর করা কঠিন চ্যালেঞ্জ। এজন্য সুনির্দিষ্ট টার্গেট নিয়ে আমাদের সামনের দিকে আগাতে হবে। প্রতিটি ডিজেল পাম্পে বছরে প্রায় ১০২৩ লিটার ডিজেল ব্যবহৃত হয়। এভাবে ১২ লাখ ৪৩ হাজার ডিজেল পাম্পের জন্য বিপুল পরিমাণে আমদানি করা ডিজেল ব্যবহার করতে হচ্ছে, যা একদিকে বৈদেশিক মুদ্রার অপচয়, অন্যদিকে পরিবেশের জন্যও ক্ষতিকর।’
স্রেডার নিজস্ব কার্যালয়ে আয়োজিত এ আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. হাবিবুর রহমান, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সিনিয়র সচিব মোসাম্মৎ হামিদা বেগম, স্রেডার চেয়ারম্যান মুনীরা সুলতানা, বিএডিসির চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ সাজ্জাদ, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. মাহবুবুর রহমান, বাংলাদেশ পল্লীবিদ্যুতায়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান অজয় কুমার চক্রবর্ত্তী, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরিচালক বাদল চন্দ্র বিশ্বাস, পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক মোহাম্মদ হোসাইন প্রমুখ।