ভারতে বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইন কার্যকর, প্রতিবাদে বিক্ষোভ

অনুমোদনের চার বছর পর ভারতে বিতর্কিত সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) কার্যকর করা হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশে সোমবার থেকে ভারতজুড়ে আইনটি কার্যকর হয়েছে। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি।

২০১৯ সালের ডিসেম্বরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার এই আইন পাস করে। এই আইন অনুযায়ী, ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের আগ পর্যন্ত বাংলাদেশ, পাকিস্তান এবং আফগানিস্তান থেকে হিন্দু, খ্রিস্টান, শিখ, বৌদ্ধ ও পার্সি সম্প্রদায়ের যেসব লোকজন সাম্প্রদায়িক নির্যাতন ও নিপীড়ণের মুখে টিকতে না পেরে ভারতে এসে আশ্রয় নিয়েছেন, তাদের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে।

তবে শুরু থেকেই বিভিন্ন পক্ষ প্রবলভাবে এই আইনের বিরোধিতা জানিয়েছে। এমনকি আইনটি পাস হওয়ার সময় সারা ভারতে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভে প্রাণ হারিয়েছেন শতাধিক মানুষ।

বিশেষ করে আইনটিতে মুসলিমদের বাদ দেওয়া নিয়েও প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। এছাড়া দক্ষিণ ভারতে সিএএ বিরোধিতার মূল কারণ, শ্রীলঙ্কা থেকে আগত তামিলদের উদ্বাস্তুদের বাদ দেওয়া।

ভারতে প্রথমবার নাগরিকত্ব আইন পাস হয় ১৯৫৫ সালে। সেই আইন অনুযায়ী, বিদেশ থেকে ভারতে আসা যেসব ব্যক্তি বিগত ১৪ বছরের মধ্যে ১১ বছর ধরে ভারতে বসবাস করছেন এবং অন্তত ১ বছর টানা থেকেছেন, তারা ভারতের নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করলে তা অনুমোদন করা হবে।

নতুন এই আইনটিতে ১১ বছরের মেয়াদকালকে কমিয়ে ৫ বছরে আনা হয়েছে।

এদিকে আইনটি নিয়ে এরই মধ্যে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। আসামে আইনের অনুলিপি পুড়িয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছে বিভিন্ন সংগঠন। রাজ্যটিতে মঙ্গলবার ধর্মঘট ডেকেছে বিরোধী দলগুলো। এছাড়া পশ্চিমবঙ্গেও বড় ধরনের বিক্ষোভের আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বিশেষ করে আসামসহ উত্তর-পূর্ব ভারতে প্রধানত আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষ এই আইনের বিরুদ্ধে। তাদের ধারণা, সিএএ বাস্তবায়িত হলে জমির ওপর আদিবাসীদের একাংশ তাঁদের দখল হারাবেন।