খারাপ সময় পেছনে ফেলে ঘুরে দাঁড়াতে চান শান্ত

সামনে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। ডালাসে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচ আছে টাইগারদের। তার আগে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে হয়ে গেছে যেন এক রিহার্সাল। যেখানে প্রত্যাশা মেটাতে পারেনি বাংলাদেশ। তবে ঘাটতিগুলো ধরা পরেছে। তবুও হারতে হয়েছে সিরিজে। এবার শুরু ওয়ানডে সিরিজ। যেখানে লাল-সবুজের জার্সিধারিরা সবচেয়ে ভালো খেলেন বলে মত। তবুও গত বছরের গ্রাফটা নিম্নগামি।

ওয়ানডে সংস্করণ ধরা হয় বাংলাদেশ দলের শক্তির জায়গা, সেই ওয়ানডেতেও বর্তমান পরিসংখ্যানের গ্রাফ নিচের দিকে। ২০১৯ থেকে ২০২২ সাল অবধি যেখানে ৪৮ ম্যাচ খেলা বাংলাদেশ দল ২৮ জয় পায়, সেখানে ২০২৩ সালের পর ৩২ ম্যাচ মাত্র ১১ জয়। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বন্দরনগরী চট্টগ্রামে ৫০ ওভারের সংস্করণ শুরু হচ্ছে আজ থেকে। তার আগে আজ সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তকে শুনতে হয়েছে সেই গত বছর তিনটি সিরিজ হারের কথা। 

প্রত্যাশা বেড়ে গেল কিনা জানতে চাইলে শান্ত বলেন, 'দেখুন এরকম চ্যালেঞ্জ সবসময় থাকবে। ২০১৫ থেকে ২০২২ পর্যন্ত আমরা ভালো খেলেছি। মাঝে একটা খারাপ যেতেই পারে। তবে একটা দল হিসেবে আমাদের চাওয়া ফিরে আসা, এবং এটার জন্য আমরা ভালোভাবেই প্রস্তুত।’

তিনি বলেন, ‘নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ সিরিজে আমরা আমাদের একাদশে খুব বেশি পরিবর্তন আনিনি। সাকিব ভাই দলে নেই, তাই আরেকটু পরিকল্পনা থাকবে। তিনি আমাদের সকলের জীবনকে সহজ করে তোলেন। ব্যাটিং অর্ডার তৈরির সময় আমরা তার অনুপস্থিতির কথা মাথায় রাখব। আমরা আশাবাদী ধারাবাহিক ব্যাটিং লাইনআপ থাকবে।’

চট্টগ্রামে সাফল্য এনে দিতে বাংলাদেশ তাদের বোলিং ইউনিট, বিশেষ করে পেসারদের ওপর বেশি নির্ভর করবে। এখানকার উইকেট সাধারণত ব্যাটিং-বান্ধব। মার্চ মাসটা বাংলাদেশের বসন্তকাল হিসেবে বিবেচিত। এই সময়টাতে এই মাঠে একটি ফ্যাক্টর হয় শিশির।

এই প্রসঙ্গে শান্ত বলেন, ‘চট্টগ্রামের কন্ডিশন ও উইকেটের সঙ্গে বোলাররা কেমন মানিয়ে নেয় সেটাই দেখার। এটা অবশ্যই তাদের জন্য চ্যালেঞ্জ। সবাই যে কন্ডিশনে বোলিং করছে, সেটা বিবেচনা করতে হবে। একজন বোলার এককভাবে কতটা কনসিডার করছে তা নিয়ে আমরা চিন্তিত নই। আমরা দল হিসেবে বোলিং ইউনিটকে ভালোভাবে কাজ করতে দেখতে চাই।’

৫০ ওভারের সিরিজ শুরুর আগে সৌম্য সরকারের কাছ থেকে তিন বিভাগেই শতভাগ চেয়েছেন নাজমুল হোসেন শান্ত। আজ সংবাদ সম্মেলনে এমন প্রশ্ন করা হয়েছিল অধিনায়ক শান্তর কাছে। তার জবাবেই নিজের চাওয়ার কথা জানিয়ে টাইগার অধিনায়ক বলেন, 'ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং- সবকিছুতে ওর কাছে শতভাগ চাই। শেষ সিরিজে সে অনেকদিন পর ফিরে আসলো, তিনটা ম্যাচে। তিনটা ম্যাচই খেলেছে। এর মধ্যে একটা বড় ইনিংসও ছিল। অবশ্যই ধারাবাহিকতার প্রয়োজন আছে। সব ব্যাটারেরই আছে। আলাদাভাবে সৌম্যের একার প্রয়োজন আছে সেটা বলব না। প্রত্যেক ব্যাটারের এই জায়গায় উন্নতির দরকার আছে।’

তিনি যোগ করেন, ‘সৌম্য নিজে সেটা নিয়ে কাজ করছে। প্রত্যেক ব্যাটারই কাজ করছে। শেষ ইনিংসের কথা যদি বলি, ওরকম একটা সময়ে, ওরকম একটা কন্ডিশনে এমন একটা ইনিংস খেলা আমাদের দলের জন্য বড় ব্যাপার। আশা করি, এই সিরিজে ও যদি সুযোগ পায়, তাহলে যেখানে ব্যাটিং করার সেখানে থেকে দলের জন্য বড় কিছু করবে।'

সিলেটের মাঠে দুই দলের লড়াই উসকে দিয়েছে মাঠের বাইরের বিতর্ক। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাই বইছে ঝড়। কিন্তু চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের টিকিট কাউন্টারগুলো ফাঁকা দেখে মনে হলো দর্শকদের আগ্রহ নেই এই ফরম্যাটে। টি-টোয়েন্টির সিরিজ হারই কি এমন দর্শক অনাগ্রহের কারণ?

জবাবে শান্ত বললেন, 'এক ম্যাচ হারলে আমরা অনেক খারাপ দল হয়ে যাই। এটা অতীতে হয়ে আসছে, এক ম্যাচ ভালো খেললে আমাদের সব কিছু ঠিক হয়ে যায়। তবে দর্শকরা মাঠে না আসার কারণ হতে পারে আবার রমজান শুরু হয়েছে। এটা নিয়ে আমরা খুব বেশি চিন্তিত না। আমাদের সমর্থকরা সবসময় মাঠে আসেন, খেলা দেখেন, দলকে সমর্থন করেন। মাঝেমধ্যে আবেগে যেসব কথাবার্তা বলেন এগুলো আমাদের কারণেই বলেন। কারণ, তারা আশা করেন আমরা আরও ভালো ক্রিকেট খেলতে পারি। তাই আমরাও আমাদের দিক থেকে শতভাগ চেষ্টা করি তাদের কীভাবে ভালো ফিডব্যাক দিতে পারি।’