হিজাব নিয়ে কটূক্তি: নওয়াব ফয়জুন্নেছা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ ওএসডি

নওয়াব ফয়জুন্নেছা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মিতা সফিনাজকে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়েছে। গতকাল সোমবার (১১ মার্চ) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ সরকারি কলেজ-২ শাখা এক প্রজ্ঞাপনে অধ্যক্ষ মিতা সফিনাজকে ওএসডি করা হয়।

হিজাব নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে কুমিল্লার লাকসামের নওয়াব ফয়জুন্নেছা সরকারি কলেজ অধ্যক্ষ মিতা সফিনাজকে অপসারণ দাবিতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যে এ প্রজ্ঞাপন জারি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। প্রজ্ঞাপনে ১৮ মার্চের মধ্যে এ কলেজ থেকে অবমুক্ত হয়ে বরিশাল মহিলা কলেজে সংযুক্ত হওয়ার জন্য তাকে আদেশ দেয়া হয়।

শিক্ষার্থীরা জানায়, গত ২১ ফেব্রুয়ারি শহীদ মিনার ও মেলা উপভোগ করতে আসেন ওই কলেজের ডিগ্রি প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী আঞ্জুমান আক্তার আঁখি ও তার ছোট বোন। ওই দিন কলেজে দুই বোন হিজাব-বোরকা পরে নারী শিক্ষার্থীদের কমনরুমে যাওয়ার সময় কলেজ অধ্যক্ষ মেজর মিতা সফিনাজ তাদের বোরকা-হিজাব পরা নিয়ে নানা ধরনের কটূক্তি করেন। এ সময় উপস্থিত শিক্ষক-শিক্ষার্থী সবার সামনে ছাত্রীদের বোরকা-হিজাব পরে আসায় অপমান করেন এবং বোরকা পরে আসতে নিষেধ করেন।

কলেজের শিক্ষার্থী মাকসুদুর রহমান জিহাদী বলেন, অধ্যক্ষ মিতা সফিনাজ হিজাব পরায় শুধু আঞ্জুমা আক্তার আঁখিকেই অপমান করেনি। ইতিপূর্বেও হিজাব পরায় তিনি অনেক ছাত্রীকে অপমান-অপদস্থ করেছেন। হিজাব নিয়ে টানাটানি করেছেন। বিশ্রী শব্দ দিয়ে গালাগাল করেছেন। কিন্তু কেউ শাড়ি কিংবা শর্ট পোশাক পরে আসলেও কাউকে কিছুই বলতেন না। অধ্যক্ষ মিতা সফিনাজ মুসলিম হয়েও হিজাবের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে আমাদের হৃদয়ে আঘাত করেছেন। অধ্যক্ষকে ওএসডি করায় কলেজে পড়াশোনার পরিবেশ ফিরে আসবে। আমরা এতে খুশি।

উল্লেখ্য, হিজাব নিয়ে কটুক্তি করায় নওয়াব ফয়জুন্নেছা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মিতা সফিনাজের অপসারণ দাবিতে (২৫ ফেব্রুয়ারি) কলেজ গেইট ও ক্যাম্পাস এলাকায় দেড় ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে শিক্ষার্থীরা। এতে কলেজের শতশত শিক্ষার্থী অংশ নেন।