রাজদ্রোহের মাশুল গোনার অপেক্ষা

থাইল্যান্ডের রাজনীতিতে দেশটির সাংবিধানিক রাজতন্ত্র সব সময় বড় প্রভাব বিস্তারকারী পক্ষ। রাজপরিবারের সঙ্গে সামরিক বাহিনী ও রক্ষণশীল গোষ্ঠীগুলোর বন্ধন এখনো অটুট। গতকাল মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশন গত সাধারণ নির্বাচনে সর্বাধিক আসন লাভকারী মুভ ফরোয়ার্ড পার্টিকে (এমএফপি) নিষিদ্ধ করতে সুপারিশ করেছে। রাজতন্ত্র নিয়ে দলটি সংস্কারপন্থি অবস্থান গ্রহণ করায় এমন পদক্ষেপ নিয়েছে কমিশন। থাইল্যান্ডের ইতিহাসে এর আগেও নানা সময় দল নিষিদ্ধের কৌশল দেখা গেছে যা নিয়ে ব্যাপক সমালোাচনা হয়েছে। 

থাইল্যান্ডের সাংবিধানিক আদালত গত জানুয়ারিতে জানান, এমএফপি গত সাধারণ নির্বাচনে জয়লাভ করলেও দলটি দেশের রাজতন্ত্রবিরোধী অপমানসূচক মন্তব্যকে প্রতিরোধ করতে বিদ্যমান আইন সংস্কারের কথা বলেছিল যা ‘অসাংবিধানিক’।

এরপর গতকাল নির্বাচন কমিশন দেশের সাংবিধানিক আদালতের কাছে আর্জি পেশ করে, রাজতন্ত্রবিরোধী মনোভাব প্রতিরোধ করতে বিদ্যমান আইন পরিবর্তনের কথা বলে দেশের শাসনব্যবস্থাকে অবমূল্যায়ন করার কারণে আদালত যেন এমএফপির কার্যক্রম বন্ধ করে দেন। কারণ রাজাকে রাষ্ট্রপ্রধান রেখে দেশে যে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা রয়েছে সেটিকে ধ্বংস করতে এমএফপি কাজ করেছে বলে প্রমাণ রয়েছে। 

থাইল্যান্ডের সাবেক সেনাশাসক প্রায়ুথ চ্যান-ওচার শাসনামলে দেশে শুরু হওয়া গণতন্ত্রপন্থি বিক্ষোভ চলাকালে রাজতন্ত্র নিয়ে বিদ্যমান স্পর্শকাতর আইন বদলের পক্ষে প্রচার চালায় এমএফপি। দলটির নেতা পিটা লিমজারোয়েনরাত গত বছর সাধারণ নির্বাচনে তরুণ ভোটারদের কাছে ব্যাপক মনোযোগ আকর্ষণ করেন। জনপ্রিয়তার ওপর ভর করে নির্বাচনে সর্বোচ্চ আসন পাওয়া দল হলেও সেনা-প্রভাবিত আইনসভায় রক্ষণশীল আইনপ্রণেতাদের বাধায় তিনি প্রধানমন্ত্রী হতে পারেননি।

থাইল্যান্ডের আইন অনুযায়ী, রাজনৈতিক দল হিসেবে এমএফপির কার্যক্রম বন্ধ হলে এই দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত রাজনীতিকরা ১০ বছরের জন্য নিষিদ্ধ হবেন রাজনীতি থেকে।

থাইল্যান্ডে রাজতন্ত্র নিয়ে বিদ্রুপ বা আলোচনাকে কড়াভাবে দমন করা হয়। রাজপরিবার বা রাজতন্ত্র নিয়ে সমালোচনার জন্য ১৫ বছরের কারাদন্ডের বিধান রয়েছে।