সর্বশেষ আজ বুধবার সকাল ৭টায় জাহাজে থাকা নাবিকদের সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছে। নাবিকেরা জানিয়েছে তারা সুস্থ আছে—এমনটিই জানিয়েছেন ‘এমভি আব্দুল্লাহ’ জাহাজের মালিক কতৃপক্ষের মিডিয়া পরামর্শক মিজানুল ইসলাম।
ভারত মহাসাগরে সোমালিয়ান জলদস্যুদের কবলে পড়া পণ্যবাহী বাংলাদেশি জাহাজের ২৩ নাবিক ও ক্রুদের মধ্যে রয়েছেন নাটোরের বাগাতিপাড়ার জয় মাহমুদ। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে চাচাতো ভাই মারুফ আলীর সঙ্গে কথা বলেন জয়। মারুফকে তিনি বলেন, ‘দস্যুরা আমাদের মোবাইলে ফোন নিয়ে নিচ্ছে। আর কথা নাও হতে পারে। এসব মা-বাবাকে জানাইস না।’
এরপর সর্বশেষ গতকাল সন্ধ্যায় মায়ের সঙ্গে কথা বলেন জয়। মা আরিফা বেগমকে বলেন, ‘মা আমার ফোনে এমবি থাকবে না, কথা নাও হতে পারে। আমার সঙ্গে হয়তো এক-দুই মাস কথা নাও হতে পারে। ঈদে শপিংসহ যা কেনা লাগে তোমরা কিনে নিও।’
জয় উপজেলার পাঁকা ইউনিয়নের সালাইনগর এলাকার জিয়াউর রহমানের ছেলে। তিনি ওই জাহাজের অর্ডিনারি সি-ম্যান (সাধারণ নাবিক) হিসেবে কর্মরত আছেন।
নাবিক জয় মাহমুদের বাবা জিয়উর রহমান তার ছেলেসহ আটক বাংলাদেশি নাবিকদের দ্রুত উদ্ধার করে দেশে ফেরত আনতে সরকারকে অনুরোধ করেন।
মঙ্গলবার (১২ মার্চ) দুপুর ১টার দিকে কেএসআরএম গ্রুপের মালিকানাধীন এসআর শিপিংয়ের জাহাজ এমভি আব্দুল্লাহ’ ভারত মহাসাগরে জলদস্যুদের কবলে পড়ে। দেড়টার দিকে মালিকপক্ষকে বার্তা পাঠায় তারা।
এদিকে গতকাল সন্ধ্যায় জাহাজ ‘এমভি আব্দুল্লাহ’র চিফ অফিসার আতিকুল্লাহ খাঁন জানিয়েছিলেন, জাহাজের নাবিকদের মোবাইল ল্যাপটপসহ ব্যবহারের জিনিসপত্র নিয়ে নিচ্ছে জলদস্যুরা। তারপরও জাহাজের সঙ্গে সংযুক্ত থাকা মালিকপক্ষের ইন্টারনেট কানেকশন খোলা রাখতে বলা হয়েছে।
সন্ধ্যা ৬টায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আগে জাহাজে ৫০ জলদস্যু অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে অবস্থান করছে। তারা একেকজন একেক পয়েন্টে আছে। আমাদের নানাভাবে ভয় দেখাচ্ছে তারা।