এমভি আব্দুল্লাহর অপহৃত ২৩ জনকে ফিরিয়ে আনার আকুতি স্বজনদের 

সোমালিয়ান জলদস্যুদের হাতে জিম্মি হওয়া জাহাজ এমভি আব্দুল্লাহর ২৩ জন বাংলাদেশি নাবিকের মধ্যে দুই জনের গ্রামের বাড়ি নোয়াখালী জেলায়। তারা হলেন, চাটখিল উপজেলার সিংবাহুড়া গ্রামের মৃত সাখায়াত উল্যার ছেলে মোহাম্মদ সালেহ আহমদ ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের রামপুর গ্রামের আজিজুল হক মাস্টারের ছেলে মোহাম্মদ আনোয়ারুল হক রাজু (২৭)। 

আনোয়ারুল হক রাজু ওই জাহাজের এবিল সি-ম্যান (নাবিক) এবং সালেহ আহমদ ফাইটার হিসেবে কর্মরত আছেন। 

জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুরের দিকে ভারত মহাসাগরে বাংলাদেশি পতাকাবাহী জাহাজ এমভি আবদুল্লাহ ২৩ জন বাংলাদেশি নাবিকসহ সোমালিয়ান জলদস্যুদের হাতে জিম্মি হয়। প্রায় ৫০ জন সশস্ত্র জলদস্যু জাহাজটিতে উঠে নাবিকদের জিম্মি করে রেখেছে। 

জলদস্যুদের হাতে জিম্মি হওয়া নাবিক মোহাম্মদ আনোয়ারুল হক রাজুর গ্রামের বাড়িতে এ খবর পাওয়ার পর থেকে পরিবারের সদস্যদের মাঝে উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। চলছে স্বজনদের আহাজারি। 

রাজুর মা দৌলত আরা বেগমের কান্না থামছেই না। কাদতে কাদতেই তিনি বলেন, রোববার দিন কথা হয়েছিলো। আমার ছেলে প্রতিদিন এশার পর কল করতো। সে বলেছে, ইফতারসহ সবকিছু কি কেনা হয়েছে? বলেছি সবকিছু নিয়েছি, তুমি চিন্তা করিও না। রোববার আমার ছেলে বলেছে, ভালো থাকবেন। এটাই আমার ছেলের সাথে শেষ কথা। 

তিনি বলেন, গতকাল ক্ষুদে বার্তায় শুধু লিখেছে ‘আম্মু দেশে আসলে দেখা হবে’ আর কিছুই বলতে পারেনি সে। আমি কিছুই বুঝতে পারিনি, এটা কী লিখলো, কেন লিখলো। মাগরিবের সময় বলেছে, আমি ইফতার করেছি, আপনারও ইফতার করেন।’ এ সময় তিনি জিম্মি হওয়া সকল সন্তানদের মায়ের বুকে, স্বজনদের কাছে ফিরিয়ে দেয়ার আকুতি জানান।   

রাজুর বাবা আজিজুল হক মাস্টার জানান, গত বছর জুলাই মাসে সে ছুটিতে বাড়িতে এসেছিলো। সর্বশেষ চার মাস আগে সে পুনরায় জাহাজের কাজে যোগ দেয়। রাজু প্রায় সাত বছর ধরে জাহাজে নাবিক হিসেবে কাজ করছে। 

তিনি বলেন, জাহাজটাকে তারা সোমালিয়ার দিকে নিয়ে যাচ্ছে। সোমালিয়ান দস্যুরা তাদের একে একে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে। আমার সন্তানসহ সবাইকে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রধানমন্ত্রী, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ সরকারের কাছে দাবি জানান।  

অন্যদিকে সালেহ আহমদের স্ত্রী ও তিন কন্যা সন্তানসহ স্বজনরাও রয়েছেন অনেক উৎকণ্ঠায়। স্ত্রী তানিয়া আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, সালেহ আহমদ আজ (বুধবার) সর্বশেষ সকাল সাতটার দিকে অপরিচিত একটা নম্বর থেকে ফোন করেছিলেন, এ সময় তিনি সবার কাছে তার জন্য দোয়া চেয়েছেন। এরপর আর কথা হয়নি।  

সালেহ আহমদের স্ত্রী, কন্যারা ও রাজুর বাবা মাসহ দুটি পরিবারের স্বজনরা তাদের উদ্ধারের জন্য সরকারের প্রতি আবেদন জানিয়েছেন।   

উল্লেখ্য, গত ১২ মার্চ ভারত মহাসাগরের এডেন উপসাগরে বাংলাদেশের পতাকাবাহী জাহাজ এমভি আবদুল্লাহর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় ৫০ সদস্যের সোমালিয়ান জলদস্যুরা। তারা জাহাজের ২৩ নাবিককে জিম্মি করে রেখেছে বলে জানা গেছে।