ম্যাচ শেষে মুশফিক

‘দায়িত্বের মুখেই সেরা খেলাটা খেলে শান্ত’

দায়িত্বের মুখেই সেরা খেলাটা খেলে নাজমুল হোসেন শান্ত। অনুজ এবং অধিনায়ক সম্পর্কে এটাই মূল্যায়ন বাংলাদেশ জাতীয় দলে দীর্ঘদিন খেলা এবং সাবেক অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমের। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে ৬ উইকেটে জয়ের পর সংবাদ সম্মেলনে এসে মুশফিক জানালেন অন্য প্রান্ত থেকে শান্তর সেঞ্চুরি উপভোগ করার কথা, ‘দেখুন বিপিএল এক ফরম্যাট এটা আরেক ফরম্যাট। কিছু কিছু মানুষ যখন দায়িত্ব বেশি থাকে তখন সেরাটা খেলে। ও এরকম মানসিকতার একজন ছেলে, ওর কাছে যত বেশি দায়িত্ব থাকে এটাকে তত চ্যালেঞ্জ হিসেবে নেয় এবং ওভাবে পারফর্ম করে। ও জাতীয় দলে রান করা শুরু করবে এ ব্যাপারে আমি আত্মবিশ্বাসী ছিলাম। অ্যাটমস্ফিয়ারও ইম্পরট্যান্ট। আমরা এখানে আউটকাম নিয়ে চিন্তা করি না। এখানে অ্যাটমস্ফিয়ার এমন রাখি যাতে সবাই যার যার প্রক্রিয়া ঠিক রাখে। সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ করার পর যদি ফল না-ও আসে, সেটা এক-দুদিন হতে পারে। প্রতি ম্যাচে ৭ ব্যাটারের প্রত্যেকে তো আর ১০০ করবে না। যেভাবে ও রুটিন ঠিক রেখেছে, সব দিকে কথা বলেছে, তখনই মনে হয়েছে রান করা শুধু সময়ের ব্যাপার। ক্যাপ্টেন্সি ওর জন্য এত উপভোগ্য একটা জিনিস। চ্যালেঞ্জটা নিতে সবসময় আগ্রহী থাকে।’

অধিনায়কত্ব শান্তর মধ্যে একটা পরিবর্তনও এনেছে বলে মনে করেন মুশফিক, ‘শান্ত এর চেয়েও সাবলীল, আরও দাপট নিয়ে খেলে। এখনো অনেক কিছু বাকি। সে আরও ভালো ক্রিকেট খেলে। পরিবর্তন যেটা- আগে ভালো শুরু পেলে ৫০-৬০ রান করত এখন বড় ইনিংস খেলছে, দলকে জেতাচ্ছে। আজ দেখুন, ১০০ করার পরের বলে যেভাবে মিড অনে অনায়াসে একটা সিঙ্গেল বের করেছে এটাই প্রমাণ করে সে দলের জন্য কত চিন্তা করে। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বারবার বলছিল, আমরা যেন ২০-৩০ রান করে হলেও অবদান রাখি, কাউকে যেন সুযোগ না দিই। কারণ ক্রিকেটে যেকোনো কিছু হতে পারে।’

চাপের মুখে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের ব্যাটিংয়ের দারুণ প্রশংসা মুশফিকের, ‘একেই বলে অভিজ্ঞতা। শুধু এই ওভারই না। হাসারাঙ্গাকে ডাউন দ্য উইকেটে গিয়ে ছক্কা মারা। গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে এসব যখন পক্ষে আছে, প্রতিপক্ষের সেরা বোলার যখন চাপে পড়ে যায় তখন তারাও ভিন্ন চিন্তা করে। উইকেটের জন্য যায় না, ভাবে এক এক করে ছেড়ে দিই। তখনই পার্টনারশিপটা ভালো বিল্ডআপ হয়। অভিজ্ঞতা অনেক বড় জিনিস। রিয়াদ ভাই যে ইনটেন্টটা দেখিয়েছে। এই পুরো ম্যাচের প্রথম কৃতিত্ব রিয়াদ ভাই ও শান্তর পার্টনারশিপ এবং সবার আগে রিয়াদ ভাই। ওই সময়ে রান করাটা আমার জন্য, শান্তর জন্য রানরেটের কোনো চাপই ছিল না।’