প্রধানমন্ত্রী ইফতারে নিরুৎসাহিত করছেন কেন, প্রশ্ন চরমোনাই পীরের

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর আমীর মুফতী সৈয়দ মোহাম্মদ রেজাউল করীম পীর সাহেব চরমোনাই বলেছেন, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ইফতার মাহফিল নিষিদ্ধ করে নতুন প্রজন্মকে রোজা থেকে দূরে রাখার কৌশল অবলম্বন করছে সরকার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েল নিরীহ ছাত্রদের ইফতার মাহফিলে ছাত্রলীগ আক্রমণ করে রক্তাক্ত করেছে রোজাদার ছাত্রদের। এটা ভালো লক্ষণ নয়। রোজাদার ছাত্রদের ওপর হামলাকারী ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। অন্যথায় রোজাদার মুসলমানরা নিরবে বসে থাকবে না।

এ সময় তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, প্রধানমন্ত্রী ইফতারে নিরুৎসাহিত করছেন কেন? তা না করে দুর্নীতি বন্ধ করতে বলেন, বিদেশে পাচারককৃত অর্থ দেশে আনলে দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি পাল্টে যাবে।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে বরিশালের চরমোনাই মাদরাসা ময়দানে ১৫ দিনব্যাপী বিশেষ তালিম তারবিয়াতের ৩য় দিনের আলোচনায় তিনি একথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, বর্তমান বিশ্বের দ্রুত গতির জীবনধারা, বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি এবং বিভিন্ন ধর্মীয় বিশ্বাসের সৌন্দর্যের যে ব্যাপ্তি তৈরি হয়েছে, মানবসভ্যতার বিকাশে এর গুরুত্ব অপরিসীম। ইসলাম এক শান্তিপূর্ণ ধর্ম। এ ধর্মের প্রতিটি নির্দেশ ও আমলের পেছনে যেমন রয়েছে আধ্যাত্মিকতা, ঠিক এর বিপরীতে রয়েছে বিজ্ঞানময় ব্যাখ্যা। ইসলামে যেসব বিধিবিধান সরাসরি মানুষকে সংযত, আত্মশুদ্ধি ও আধ্যাত্মিক চেতনা ও প্রেরণায় উদ্বুদ্ধ করে, মাহে রমজানের সিয়াম সাধনা তথা রোজা তার মধ্যে অন্যতম। রমজান পালন আধ্যাত্মিকতা, ব্যক্তি ও সম্প্রদায়ের আত্ম-উন্মেষের আলোকবর্তিকা হিসাবে কাজ করে।

রমজান মাস পবিত্র কুরআন নাজিলের মাস, ইসলাম প্রতিষ্ঠার মাস, বিজয়ের মাস উল্লেখ করে তিনি বলেন, মুসলমানের দ্বীন ও দুনিয়ার সমৃদ্ধি, পার্থিব ও আধ্যাত্মিক উন্নতি, দৈহিক ও মানবিক শ্রেষ্ঠত্ব আর গৌরব ও মর্যদার অবিস্মরণীয় স্মৃতি বয়ে নিয়ে আসে মাহে রমজান। ব্যক্তিগত এবং সামাজিকভাবে সর্বত্র আল্লাহর দ্বীনের প্রাধান্য প্রতিষ্ঠায় যাবতীয় প্রতিকুলতার মুখে টিকে থাকার জন্যে যে মানসিকতার প্রয়োজন, সিয়ামের সাধনার মধ্যেই তা অর্জিত হয়। মানবতার মহান নেতা রাসূল সা. ও তাঁর বিপ্লবী সাহাবারা এ মহান মাসে লড়াই করেছিলেন বাতিলের বিরুদ্ধে, অন্যায় অসত্য, জুলুম ও শোষণের বিরুদ্ধে এবং মানুষের ওপর মানুষের প্রভুত্ব খতম করার মহান লক্ষ্য। সিয়াম সাধনার মধ্য দিয়ে মানব জাতিকে মহান আল্লাহ তায়ালার রহমত, মাগফিরাত ও নাজাত লাভের আহবান জানায় এ মাসে।

এতে আরো বয়ান পেশ করেন নায়েবে আমীর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম শায়খে চরমোনাই ছাড়াও চরমোনাই দরবারের খলিফাগণ বিশেষ বয়ান করে থাকেন।