ছেলে বলেছিল বাড়ি আসবে, দোয়া করবেন ‘যেন ফিরে পাই’

'ছেলে বলেছিল কোরবানির সময় বাড়ি আসবে। আমরা আশায় আশায় দিন গুনছি। সে বাড়ি ফিরবে। কিন্তু এ ঘটনা হওয়ার পর থেকে এক মুহূর্ত আমরা শান্তিতে নেই। আসিফ আমাদের ছোট ছেলে। তার মায়ের শারীরিক অবস্থা ভালো নয়। সারাদিন ছেলের জন্য মায়ের কান্নাকাটি চলছে। আমাদের জন্য দোয়া করবেন। ছেলেটাকে যেন সুস্থভাবে ফিরে পাই।'

আবেগঘন কথাগুলো বলছিলেন নাবিক আসিফুর রহমানের পিতা আকতার হোসেন। তিনি চট্টগ্রামের মেরিন একাডেমিতে কর্মরত। আসিফুর রহমানের বাড়ি চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার বড়হাতিয়া ইউনিয়নের দেওয়ান পাড়ায়।

আসিফের পিতা আক্তার হোসেন বলেন, আমার দুই ছেলে নাবিক হিসেবে কর্মরত। কিন্তু এরকম পরিস্থিতির শিকার হব কখনও বুঝতে পারিনি। আমাদের অভিযোগ হলো, সোমালিয়া উপকূল পার হবার সময় প্রত্যেক জাহাজ কর্তৃপক্ষ নিজ উদ্যোগে সশস্ত্র গার্ড নিয়ে থাকে। কিন্তু কেএসআরএম কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে জাহাজে কোনো ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়নি।

লোহাগাড়ার বড়হাতিয়া এলাকার আসিফুর রহমানের চাচা নাসির উদ্দিন বলেন, আসিফকে নিয়ে আমাদের গ্রামের প্রত্যেক মানুষ উৎকণ্ঠার মধ্যে আছে। সরকার এবং কেএসআরএম কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ রইল যাতে দ্রুত বিষয়টি সমাধান করে নাবিকদের সুস্থভাবে উদ্ধার করে পরিবারের মাঝে ফিরিয়ে দেন।

চট্টগ্রামের কবির গ্রুপের মালিকানাধীন এমভি আবদুল্লাহ গত মঙ্গলবার মোজাম্বিকের মাপুতু বন্দর থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে যাওয়ার পথে জাহাজটির নিয়ন্ত্রণ নেয় সোমালীয় জলদস্যুরা। জাহাজটিতে ৫৫ হাজার টন কয়লা রয়েছে। জাহাজে থাকা ২৩ জন নাবিকের সবাই বাংলাদেশি।