শ্রমিকদের টাকা আত্মসাৎ: ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা 

গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের কর্মসৃজন কর্মসূচি প্রকল্পে শ্রমিকদের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে নেত্রকোণার কলমাকান্দার পোগলা ইউপি সদস্য ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শামছুল আলমের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন জহিরুল নামে এক শ্রমিক। তিনি গত ২ মার্চ আদালতে মামলা করেন। 

এর আগে তার পারিশ্রমিক ফিরে পেতে তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের প্রতিকার না পেয়ে ভুক্তভোগী আদালতে মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পাঁচ শ্রমিক হলেন- জহিরুল ইসলাম, মাহবুব আলম, ওমর ফারুক, আরজ আলী, সম্রাট মিয়া।

মামলায় উল্লেখ করা হয়, ২০২২-২৩ অর্থ বছরে কর্মসৃজন কর্মসূচী প্রকল্পে কাজ করেন ভুক্তভোগী ওই পাঁচ ব্যক্তি। কিন্তু বিল হওয়ার আগে মোবাইল সিম নিয়ে যান ইউপি সদস্য শামসুল আলম। ওই কাজের ৮২ দিনের মজুরি ১ লাখ ৩১ হাজার ২ শ টাকা আত্মসাৎ করেন ইউপি সদস্য শামসুল আলম। বিল হওয়ার পরে ইউপি সদস্য মোবাইল থেকে টাকা উত্তোলন করেন। টাকা চাইতে গেলে শ্রমিকদের মারধরও করেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। 

জানা যায়, কর্মসূচী প্রকল্পে ইউপি সদস্য টাকার বিনিময়ে একজন শিক্ষকের নাম দিয়েছেন। এছাড়াও ওই প্রকল্পে তিনি আত্মীয় স্বজনের নাম দেন শ্রমিকদের তালিকায়। ১৭ জনের কাজ করার কথা থাকলেও ওই প্রকল্পে কাজ করেন ৮ জন। তার এসব কর্মকাণ্ড শ্রমিকরা প্রতিবাদ করলে মারধরের শিকার হন।  

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী জহিরুল ইসলাম বলেন, ওই মেম্বার আমাদের পাঁচজনের টাকা আত্মসাৎ করেছেন। টাকা চাইতে গেলে হুমকি দিয়েছে এবং মারধরও করেছে। তাই মামলা করেছি। 

ইউপি সদস্য শামছুল আলম টাকা আত্মসাতের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমার বিরুদ্ধে প্রতিপক্ষের লোকজন ষড়যন্ত্র মূলক মামলা করিয়েছন।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা কার্যালয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী মাহমুদুল হাসান জানান, জহিরুল নামে এক ব্যক্তি ইউপি সদস্য শামসুল আলমের বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করেছিল। এটি আমরা যাচাই-বাছাই করে দেখেছি কর্মসূচির শ্রমিকের তালিকায় জহিরুলের নাম নেই। আদালতে মামলার বিষয়টি আমার জানা নেই।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান জানান, পোগলা ইউপি সদস্য শামসুল আলম এর বিরুদ্ধে কর্মসূচি শ্রমিকদের টাকা আত্মসাতের মামলার বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে মামলার কাগজপত্র আমার কাছে আসলে আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবগত করব।