কিংবদন্তি রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী সাদী মহম্মদকে বাবা-মায়ের কবরের পাশে দাফন করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার জোহরের নামাজের পর রাজধানীর মোহাম্মদপুর জামে মসজিদে জানাজা শেষে ওই মসজিদের কবরস্থানে দাফন করা হয় তাকে। এর আগে তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে সাংস্কৃতিক অঙ্গনের মানুষজন ছুটে যান মোহাম্মদপুরে।
গত বুধবার সন্ধ্যায় মোহাম্মদপুর তাজমহল রোডে নিজের বাসার একটি কক্ষ থেকে সাদী মহম্মদের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার বয়স হয়েছিল ৬৬ বছর। তার ছোট ভাই নৃত্যশিল্পী শিবলী মহম্মদ জানান, ইফতার সেরে সাদী সংগীতচর্চা করেন। এর কিছু সময় পর হঠাৎ দেখেন ঘরের দরজা বন্ধ। তখন দরজা ভেঙে সাদীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ঢাকা মহানগর পুলিশের এডিসি মৃত্যুঞ্জয় দে সজল গণমাধ্যমকে জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে শিল্পী সাদী মহম্মদ আত্মহত্যা করেছেন। বুধবার তার মরদেহ উদ্ধারের পর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়। সকালে তার লাশ স্বজনদের কাছে দেওয়া হয়।
এদিকে সকাল থেকেই সাংস্কৃতিক অঙ্গনের মানুষরা সাদী মহম্মদকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে ছুটে আসেন। তাদের মধ্যে ছিলেন সংগীতশিল্পী, সংগীতাঙ্গন ও অভিনেতাদের অনেকে। খুরশিদ আলম, রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা, অণিমা রায়, অদিতি মহসীন, পীযূষ বড়–য়া, লিলি ইসলাম, ফাহিম হোসেন চৌধুরী, সাজিদ আকবর, খায়রুল আলম সবুজ, কবির বকুল, অপি করিমসহ আরও অনেকে তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে ছুটে আসেন।
গত বছর ৮ জুলাই সাদী মহম্মদের মা জেবুন্নেছা সলিমউল্লাহ বার্ধক্যজনিত রোগে মারা যান। মা মারা যাওয়ার পর থেকে বিষণœতায় ভুগছিলেন শিল্পী সাদী মহম্মদ। সেই বিষণœতা থেকে তিনি আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নৃত্যশিল্পী শামীম আরা নীপা গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমরা তো বুঝতে পারিনি তিনি কোন অভিমান বুকে চেপে রেখেছিলেন? এমন একটি কাজ করলেন, আমরা স্তব্ধ। শুধু বলব, সবাই উনার জন্য দোয়া করবেন। অনেক ভালো একজন মানুষ ছিলেন। তার এমন মৃত্যু আমাদের স্তব্ধ করে দিয়েছে।’