আজই কি সিরিজ জয়

একদিন বিরতি দিয়েই ম্যাচ। আগের দিনের ধকল কাটাতে বিশ্রাম বড় দাওয়াই। তাই বাংলাদেশের ছিল ঐচ্ছিক অনুশীলন। চন্ডিকা হাথুরুসিংহেসহ কোচিং স্টাফদের সঙ্গে সাগরিকার নেটে এলেন মোটে ছয়জন। এর মধ্যে বাগড়া দিল বেহায়া বৃষ্টি। ঐচ্ছিক অনুশীলনটাও হলো না ঠিকঠাক। এর মধ্যে শ্রীলঙ্কাকে ওয়ানডে সিরিজে হার উপহার দেওয়ার লক্ষ্যের কথা বললেন পেসার তাসকিন আহমেদ। পাশাপাশি দলের কাছেও একটা চাওয়া থাকল তার। শুক্রবার দ্বিতীয় ম্যাচ জিতে সিরিজটা নিজেদের করতে যেন দলের সবার থাকে অবদান।

তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথমটি জিততে ব্যাট হাতে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। চাপের মুখে মাথা ঠা-া রেখে ক্যারিয়ারের তৃতীয় সেঞ্চুরিই করেননি, একই সঙ্গে উইনিং শটে জয়ের আনুষ্ঠানিকতা সেরেছেন। তার আগে অবশ্য দ্রুত চার উইকেট পতনে হারটা চোখ রাঙাচ্ছিল। অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিমকে সঙ্গী করে শান্ত সেই শঙ্কা উড়িয়ে দিতে সময়োপযোগী ব্যাট চালিয়েছেন। লিটন, সৌম্য, হৃদয়রা প্রয়োজনের সময় উইকেট বিলিয়ে আসার পর মাহমুদুল্লাহ ইনিংস মেরামতে কিছুক্ষণ সঙ্গী হয়েছিলেন শান্তর। এর পরের সংগতটা বিশ্বস্ত ব্যাটে দিয়েছেন মুশফিক। তার আগে জয়ের ভিত গড়ে দিতে দলের তিন পেসারের অবদান ছিল বেশ। লঙ্কানদের ৯ উইকেট ভাগাভাগি করে নেন তাসকিন, শরিফুল ও তানজিম সাকিব।

সিলেটে টি-২০ সিরিজ হারার পর ওয়ানডে সিরিজটা এভাবে শুরু করায় সন্তুষ্টি ঝরেছে তাসকিনের কণ্ঠে। তাই তো জোর গলায় দ্বিতীয় ম্যাচেই সিরিজ নিশ্চিতের কথা শোনা গেছে তার দেওয়া ভিডিও বার্তায়, ‘আমরা অনেক আশাবাদী সিরিজ জয়ের ব্যাপারে। ম্যাচ বাই ম্যাচ যেতে হবে। এখন এটা তো জিতে গেলাম। আরও দুটো ম্যাচ আছে, পরের ম্যাচটাই মূল লক্ষ্য।’ সিরিজ জয়ের প্রাথমিক লক্ষ্য পূরণ হলে লঙ্কানদের হোয়াইটওয়াশের লজ্জায় ডোবানোর আশার কথাও বলেছেন এই পেসার, ‘এটা যদি জিততে পারি, তখন হোয়াইটওয়াশের লক্ষ্য থাকবে। পরের ম্যাচটাই মূল ফোকাস থাকবে এবং আমার বিশ্বাস, সিরিজ জিতব।’

তো তাসকিনের সেই চাওয়া পূরণ করতে হলে শান্তর ব্যাটিং সঙ্গীদের নিতে হবে দায়িত্ব। পুরো বিপিএল জুড়ে যার ব্যাট একদমই হাসেনি, একটা ছক্কাও যার ব্যাট থেকে আসেনি, সেই শান্তই কিনা শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে শেষ চারটি ইনিংসে খেললেন অসাধারণ ক্রিকেট। টি-২০ সিরিজে তার ব্যাটে ভর করেই মাঝের ম্যাচটা জিতেছিল বাংলাদেশ। লঙ্কানদের বেঁধে দেওয়া ১৬৬ রানের লক্ষ্য ছুঁতে খেলেন ৬০ বলে অপরাজিত ৫৩ রানের ইনিংস। তার আগে ও পরের দুই ম্যাচে সেভাবে হাসেনি শান্তর ব্যাট। বাংলাদেশও পারেনি হাসতে। ওয়ানডে সিরিজের সূচনায় শান্তর ১২৯ বলে অপরাজিত ১২২ রানের ইনিংসের গুরুত্ব ভীষণ। লঙ্কানদের ২৫৬ রানের টার্গেটে খেলতে নেমে ইনিংসের প্রথম বলেই উইকেট হারান লিটন। উইকেটে এসে শান্ত থিতু হওয়ার আগেই ফিরতে দেখেন সৌম্য ও হৃদয়কে। দুজনই বিদায় নেন নামের পাশে ৩ রান জমা করে। ২৩ রানে টপ অর্ডারের তিন সঙ্গীর বিদায়েও ভড়কে যাননি কাপ্তান। মাহমুদুল্লাহকে নিয়ে প্রথমে ৬৯ রানের জুটি গড়ে শুরুর ধাক্কা সামলান। ৩৭ রান করে মাহমুদুল্লাহ ফেরার পর মুশফিককে (৮৪ বলে অপরাজিত ৭৩) নিয়ে ১৬৫ রানের অবিচ্ছেদ্য জুটি গড়ে ৩২ বল বাকী থাকতেই ৬ উইকেটের জয় নিশ্চিত করেন শান্ত।

সঙ্গী হিসেবে মাহমুদুল্লাহ ও মুশফিককে পেয়েছিলেন বলেই বিষম চাপকে উড়িয়ে দিয়ে জয়ের নায়ক হতে পেরেছেন শান্ত। এবার সিরিজ জয়ের লক্ষ্যে খেলতে নেমে আজ তিনি নিশ্চয় চাইবেন প্রথম ম্যাচের ব্যর্থদের কাছ থেকে দায়িত্বশীল ব্যাটিং। ব্যাট হাতে এই সিরিজে লিটনের অবদান শূন্য। সৌম্য বাজে ফর্মের ধারা অব্যাহত রেখে চলেছেন। তারপরও তিনি রহস্যময় কারণেই খেলার সুযোগ পেয়ে যাচ্ছেন। চাপের মুখে হৃদয়ের ব্যাট রাখতে পারেনি আস্থার ছাপ।

দলের নয়া ব্যাটিং কোচ ডেভিড হেম্প অবশ্য আজকের ম্যাচ নিয়ে কোনো ভবিষ্যদ্বাণী করেননি। বরং খুব কাছ থেকে শান্ত, মাহমুদুল্লাহ, মুশফিকদের দায়িত্বশীল ব্যাটিং দেখে মুগ্ধ হয়েছেন। আর সবচেয়ে বড় করে তুলে এনেছেন মানসিকতার বিষয়টা।

‘অসাধারণ চেজ দেখতে পেলাম। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল আমরা কেউ চাপের মুখে ভীত হইনি। ২৩ রানে ৩ উইকেট পড়ে গিয়েছিল, তাতে পাওয়ার প্লেতে আসে মোটে ৫৫ রান। সেই অবস্থা থেকে রানের চাকা সচল রাখাটা ছিল ইতিবাচক। ৬৯ এবং ১৬৫ রানের দুটি জুটিতে সফল চেজ করতে পেরেছি। অবশ্যই কয়েকজনের ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের প্রশংসা করতে হবে, তবে আমার কাছে মানসিকতাটাই গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছে। ঠা-া মাথায় ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা প্রয়োজন ছিল, সেটা আমরা করতে পেরেছি।’

দুদলের মধ্যে এটি দশম দ্বিপক্ষীয় ওয়ানডে সিরিজ। এর আগে খেলা ৯ সিরিজের একটি মাত্র জিতেছে বাংলাদেশ। সেটি সর্বশেষ খেলা ২০২১ সালে নিজেদের মাটিতে। সেবার প্রথম দুই ম্যাচ জিতে সিরিজ নিশ্চিত হয়েছিল। ২০২১-এর পুনরাবৃত্তি ঘটাতে হলে কেবল শান্ত নয়, তাসকিনের চাওয়া মতো দায়িত্বটা নিতে হবে সবার।