সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফাইরুজ অবন্তিকার আত্মহত্যার ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
আজ শনিবার (১৬ মার্চ) রাত ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন চত্বর থেকে শিক্ষার্থীরা নিপীড়নের বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর ব্যানারে একটি মিছিল বের করেন। মিছিলটি কয়েকটি সড়ক ঘুরে বটতলায় গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন তারা। সমাবেশে ওই ঘটনায় জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন আন্দোলনকারীরা।
সমাবেশে অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী ও বিপ্লবী ছাত্র-মৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সংগঠক আবিদ ইসলামের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ইমরান হাসান শুভ। তিনি বলেন, শুধু জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে না দেশে সব পাবলিক-প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন ঘটনা ঘটছে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে একজন ছাত্রী বিচার চেয়ে দিনের পর দিন অসহায়ত্ব প্রকাশ করে গেছে। তার হত্যার জন্য দায়ী তার বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্বশীলরা। এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই। এ ধরনের ঘটনার পেছনে বাংলাদেশের ক্ষমতার যে প্রেক্ষাপট একদলীয় যে ক্ষমতা চলমান তার প্রতিফলন।
জাহাঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক সুমাইয়া জাহান বলেন, যিনি মারা গেছেন তিনি আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের মানসপটে যদি অপরাধীদের আশ্রয় দেওয়ার প্রবণতা থাকে তাহলে আমরা নারীরা দেশের কোথাও নিরাপদ না। এই ঘটনায় একজনের নাম উঠে এসেছে সে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত অন্যজন একজন সহকারী প্রক্টর। এই যে এত নারীর ক্ষমতায়নের কথা বলা হয়, আমাদের আসল চিত্রটা ফাইরুজ অবন্তিকার ঘটনার মধ্য দিয়ে দেখা যায়। ফাইরুজ অবন্তিকার এই ঘটনা কোনো আত্মহত্যা নয় এটি একটি খুন৷ এর সাথে জড়িত সবাইকে চিহ্নিত করে দেশের প্রচলিত আইনে শাস্তি দিতে হবে। প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে দেখা যায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠনের চাটুকার হিসেবে কাজ করে। প্রশাসনকে তার নিজের জায়গায় ফিরে আসা উচিত। যতদিন না বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের নিজস্ব স্বকীয়তায় ফিরে আসবে ততদিন পর্যন্ত আমরা আমাদের আন্দোলন চালিয়ে যাবে৷ প্রশাসনকে স্পষ্ট করে বলতে চাই, এটা কোনোভাবেই আত্মহত্যা না এটা একটি খুন।
সমাবেশে সমাপনী বক্তব্যে ছাত্র ইউনিয়ন বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের একাংশের সাধারণ সম্পাদক ঋদ্ধ অনিন্দ্য গাঙ্গুলী বলেন, রাষ্ট্রই যখন নিপীড়ক, ধর্ষক, দুর্নীতিগ্রস্ত তখন বিচার আসলে কার কাছে চাইব? এই রাষ্ট্র একটা পুলিশি রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। এই রাষ্ট্রে ক্ষমতাবান ব্যক্তিরা যেমন পুলিশ তেমন র্যাব, যেমন ক্ষমতাসীন দলের নেতারা, তেমন যুবলীগ-ছাত্রলীগ এদের কাছে সমস্তকিছু জিম্মি হয়ে রয়েছে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনায় সবার আগে যে নামটি এসেছে আশ্রয়দাতা হিসেবে তিনি একজন সহকারী প্রক্টর।
প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন ঘটনা ঘটছে উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, কিছুদিন আগেও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর মাহমুদুর রহমান জনির বিরুদ্ধে একই অভিযোগে তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের দিকে কুনজরে তাকানোর অভিযোগ উঠেছে। তাহলে আমাদের প্রশ্ন করতেই হয় যে, বাবা-মায়েরা আমাদের সবচেয়ে নিরাপদ মনে করে শিক্ষকদের কাছে তুলে দিয়েছিলেন তারা ক্ষমতার মধ্যে এতটাই ঢুকে গেছে আমাদেরকে ছাত্র মনে করছেন না? এই যে প্রশাসনের নিপীড়কদের সকল রকমের আশ্রয় দেওয়ার প্রতিবাদে আমরা ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে সোচ্চার হয়েছি তাদের গুঁড়িয়ে দেওয়ার জন্য। অবন্তিকা আমাদের বোন, হয়তো আমাদের সহপাঠীও হতে পারতেন। বাংলাদেশের প্রতিটা মেয়ে এই অবন্তিকার সংগ্রামের সাথে পরিচিত। কাজেই আমাদের থামানোর চেষ্টা করবেন না। তার ফল যে ভালো হবেনা তার আগাম বার্তা আমরা ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে দিচ্ছি।