পিরোজপুরের অধিকাংশ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই খাবার পানি ও মানসম্মত স্যানিটেশন ব্যবস্থা। এতে করে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছে জেলার লক্ষাধিক শিক্ষার্থী। শিশুদের মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এমন পরিবেশে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পিরোজপুরে শিক্ষাপ্রদানের মানে ঊর্ধ্বগতি থাকলেও অধিকাংশ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই খাবার পানি ও মানসম্মত স্যানিটেশন ব্যবস্থা। অনেক প্রতিষ্ঠানের টয়লেটগুলো পুরনো হওয়ায় ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। পর্যাপ্ত পানির ব্যবস্থা না থাকায় পরিচ্ছন্নও রাখা সম্ভব হচ্ছে না। অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানে টিউবওয়েল না থাকায় পানির জন্য নদী কিংবা পুকুরের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এতে করে স্বাস্থ্য ও মেধা বিকাশের সুষ্ঠু পরিবেশ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে শিশুরা।
পিরোজপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার কুমারেশ চন্দ্র গাছি জানান, জেলায় ৯৯২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে ছয় শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে খাবার পানির ব্যবস্থা নেই। আর এতে করে ঝুঁকিতে পড়েছে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১ লাখ ৪০ হাজার শিক্ষার্থী।
খানাকুনিয়ারী এলাকার বাসিন্দা সোহেল শেখ বলেন, ‘আমার ছেলে খানাকুনিয়ারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র। এই স্কুলে আমার ছেলে বেশ কয়েক বছর ধরে পড়াশোনা করছে। কিন্তু শিক্ষকদের বারবার বলার পরেও এই বিদ্যালয়ের সুপেয় পানির সমস্যার সমাধান হয়নি। আমাদের দাবি বিদ্যালয়গুলোতে খাবার পানির ব্যবস্থা করা হোক।’
অন্যদিকে পৌর এলাকার খুমুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক সোহেল আহমেদ বলেন, ‘আমাদের বিদ্যালয়টি ঝুঁকিপূর্ণ। যার কারণে এখানে স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়নি। তবে বিদ্যালয় ভবন নতুনভাবে করা হলে এখানের স্যানিটেশন ব্যবস্থা এবং খাবার পানির ব্যবস্থা হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জেলার অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে খাবার পানি ও মানসম্মত স্যানিটেশন ব্যবস্থা না থাকায় শিশুরা একদিকে যেমন আক্রান্ত হচ্ছে পেটের নানা অসুখে অন্যদিকে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে তাদের মানসিক বিকাশ।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার কুমারেশ চন্দ্র গাছি বলেন, ‘কিছু প্রতিষ্ঠানে স্যানিটেশন ব্যবস্থার নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে। শিক্ষার্থীদের বাড়ি থেকে খাবার পানি নিয়ে এসে পান করতে বলা হয়েছে। স্যানিটেশন ব্যবস্থা সুন্দর করার জন্য আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি, অতি শিগগিরই এ সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা করছি।’